ফেরার ম্যাচে নিষ্প্রভ তামিম, উজ্জ্বল মুস্তাফিজ

চোট কাটিয়ে লম্বা সময় পর মাঠে ফেরা তামিম ইকবাল ধুঁকলেন ব্যাট হাতে। টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে ফিরলেন ব্যর্থ হয়ে। মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদুল ইসলামদের দুর্দান্ত বোলিং সামলে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলকে কোনোরকম লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন ইমরুল কায়েস। রান তাড়ায় ব্যাটসম্যানদের মিলিত চেষ্টায় লক্ষ্য সহজেই ছুঁয়ে ফেলল বিসিবি দক্ষিণাঞ্চল।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2022, 12:32 AM
Updated : 11 Jan 2022, 12:32 AM

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের টুর্নামেন্ট ইন্ডিপেন্ডন্স কাপে মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলের জয় ৭ উইকেটে। পূর্বাঞ্চলের ১৯২ রান তারা ছাড়িয়ে যায় ২৫ বল বাকি থাকতে। প্রতিযোগিতায় প্রথম জয় পেল দলটি।

আঙুলের চোটে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন তামিম। সবশেষ খেলেছিলেন গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে। বিসিএলের নতুন এই টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিরে তিনি করলেন কেবল ৯ রান। মেহেদি হাসানকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে হন স্টাম্পড।

প্রতিপক্ষকে দুইশর আগে থামিয়ে দেওয়ার কারিগরদের একজন মুস্তাফিজ। আগের ম্যাচে কোনো উইকেট না পাওয়া বাঁহাতি এই পেসার এবার ৪৪ রানে নিলেন ৩টি। মাত্র ১৭ রান দিয়ে নাহিদুলের শিকার দুই উইকেট। পরে ব্যাট হাতে ২৭ রান করে তিনিই ম্যাচের সেরা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পূর্বাঞ্চলের শুরুটা ভালো হয়নি। চতুর্থ ওভারেই তারা হারায় রনি তালুকদারকে। তামিম বিদায় নেন উইকেটে কিছুটা সময় কাটিয়ে।

২১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন ইমরুল ও মোহাম্মদ আশরাফুল। দুইজনে গড়েন ৬১ রানের জুটি, যেখানে অগ্রণী ইমরুল। ১৫ রান করতে ৫৭ বল খেলা আশরাফুল ফেরেন নাসুমের বলে ক্যাচ দিয়ে।

৮০ বলে ফিফটি করা ইমরুল বড় করতে পারেননি ইনিংস। এক ছক্কা ও ৫ চারে ৬৯ রান করে ফেরেন নাহিদুলের অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনে।

আফিফ হোসেন ও ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে দেড়শ পার করে পূর্বাঞ্চল। জমে ওঠা ৪৮ রানের এই জুটি ভাঙে মুস্তাফিজের বলে আফিফের বাজে শটে। ফুলটস বল স্কুপ খেলতে গিয়ে আফিফ বোল্ড হন ২৯ রান করে।

শেষ ওভারে এসে পরপর দুই বলে ইরফান (২ চারে ৩৩) ও রেজাউর রহমানকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। নাঈম হাসান হন রান আউট।

রান তাড়ায় টানা দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় দক্ষিণাঞ্চল। নাঈমের বলে স্লিপে পিনাক ঘোষের দারুণ ক্যাচ ধরেন ইমরুল। তানভির ইসলামকে বেরিয়ে এসে মারার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন এনামুল হক।

শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে পথে ফেরান মাইশুকুর রহমান ও তৌহিদ হৃদয়। কিন্তু জুটির রান পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগে তৌহিদকে ফিরিয়ে দেন নাঈম। পরে এই অফ স্পিনারের শিকার মাইশুকুরও।

জাকির ও নাইদুলের ব্যাটে আরেকটি ছোট তবে কার্যকর জুটি পায় দক্ষিণাঞ্চল। তাদের ৪১ রানের জুটি ভাঙে এক ছক্কা ২ চারে ২৯ বলে ২৭ করা নাহিদুল ফিরলে। আফিফকে উড়িয়ে লং-অনে ধরা পড়েন তিনি। জাকিরও ২৭ করে ফেরেন আফিফের স্পিনে।

তবে লক্ষ্য ছোট হওয়ায় দুর্ভাবনায় পড়তে হযনি দক্ষিণাঞ্চলকে। ম্যাচ যখন টাই, আফিফকে ছক্কা মারার চেষ্টায় আউট হন ফরহাদ রেজা। মেহেদি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩৭ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পূর্বাঞ্চল: ৫০ ওভারে ১৯২/৮ (তামিম ৯, রনি ৩, ইমরুল ৬৯, আশরাফুল ১৫, আফিফ ২৯, ইরফান ৩৩, সোহরাওয়ার্দী ২২*, রেজাউর ০, নাঈম ১, তানভির ০*; মুস্তাফিজ ১০-০-৪৪-৩, নাহিদুল ১০-৩-১৭-২, মেহেদি ১০-০-২৯-১, নাসুম ৭-০-৩১-১, হৃদয় ৫-০-২০-০, কামরুল ৫-০-৩০-০, ফরহাদ ৩-০-১৬-০)

দক্ষিণাঞ্চল: ৪৫.৫ ওভারে ১৯৩/৭ (পিনাক ৯, এনামুল ১৫, মাইশুকুর ২৭, হৃদয় ২৩, জাকির ২৭, নাহিদুল ২৭, মেহেদি ৩৭*, ফরহাদ ১৬, নাসুম ০*; তানভির ১০-২-৩০-১, নাঈম ১০-২-৩৫-৩, রেজাউর ৩.৩-০-২২-০, সোহরাওয়ার্দী ১০-০-৪১-০, রুবেল ৫-০-৩১-০, আফিফ ৭.২-১-২৬-৩)

ফল: দক্ষিণাঞ্চল ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: নাহিদুল ইসলাম

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক