২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বর্ষসেরা পুরুষ ওয়ানডে ক্রিকেটারের দৌড়ে ভারতের ৩ জন

মেয়েদের তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলে গার্ডনার, শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু, ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার ব্রান্ট ও নিউ জিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কার।

বর্ষসেরা পুরুষ ওয়ানডে ক্রিকেটারের দৌড়ে ভারতের ৩ জন

বছর জুড়ে ধারাবাহিকভাবে দারুণ খেলেছেন শুবমান গিল (বাঁয়ে) ও ভিরাট কোহলি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jan 2024, 06:59 PM

Updated : 04 Jan 2024, 07:31 PM

শুবমান গিলের ২০২৩ সাল কেটেছে স্বপ্নের মতো। সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতক ছাড়াও নানান রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বছর জুড়ে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের মনোনয়ন পেয়েছেন ভারতের তরুণ ওপেনার। সেরার লড়াইয়ে তার সঙ্গী দুই সতীর্থ ভিরাট কোহলি ও মোহাম্মদ শামি এবং নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল।

বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের ওয়ানডে বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

২০১৯ সালে ওয়ানডে অভিষেক হলেও ২০২২ সালের আগে দলে নিয়মিত হতে পারেননি গিল। তবে ২০২৩ সালে তিনি নিজেকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়। বিশ্বকাপের বছরে ২৯ ম্যাচে ৫ সেঞ্চুরি ও ৯ ফিফটিতে তরুণ ওপেনার করেন এক হাজার ৫৮৪ রান। গড় (৬৩.৩৬) ও স্ট্রাইক রেট (১০৫.৪৫) ঈর্ষণীয়। 

ওয়ানডেতে ভারতের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় গিলের অবস্থান পঞ্চম। বছরের প্রথম মাসেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেলেন ১৪৯ বলে ২০৮ রানের ইনিংস, ওয়ানডেতে যা সর্বকনিষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর দিকে খেলতে পারেননি তিনি। পরে দলে ফিরে ৪ ফিফটিতে ৪৪.২৫ গড়ে করেন ৩৫৪ রান।

ভিরাট কোহলি গত বছর করেন সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি। ২০২৩ সালে ২৪ ইনিংসে ৬ সেঞ্চুরি ও ৮ ফিফটিতে তার সংগ্রহ এক হাজার ৩৭৭ রান। গড় ৭২.৪৭ ও স্ট্রাইক রেট ৯৯.১৩। বছরের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন ১৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শতকসহ আসরে তিন সেঞ্চুরিতে ৯৫.৬২ গড়ে তিনি করেন ৭৬৫ রান। টুর্নামেন্টের এক আসরে এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

বিশ্বকাপটা দারুণ কেটেছে মোহাম্মদ শামিরও। প্রথম পাঁচ ম্যাচ বেঞ্চে থাকার পর সুযোগ পেয়ে সাত ম্যাচে স্রেফ ১০.১৭ গড়ে তিনি নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট। সেমি-ফাইনালে ৫৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে নাম তুলেছেন রেকর্ডের পাতায়। সব মিলিয়ে পুরো বছরে ১৯ ম্যাচে তার শিকার ৪৩ উইকেট। 

তিন বিভাগেই দারুণ বছর কাটিয়েছেন ড্যারিল মিচেল। ২৫ ইনিংসে ৫ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩ ফিফটিতে তিনি করেছেন এক হাজার ২০৪ রান। এর সঙ্গে তার ঝুলিতে আছে ৯ উইকেট ও ২২টি ক্যাচ। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৬৯ গড় ও ১১১.০৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৫২ রান।

মেয়েদের ক্রিকেটে ওয়ানডে সংস্করণের এই তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলে গার্ডনার, শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু, ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার ব্রান্ট ও নিউ জিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কার।

অ্যামেলিয়া কার ৯ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে করেছেন ৫৪১ রান। সঙ্গে বল হাতে ধরেছেন ৮ শিকার।

শ্রীলঙ্কার তারকা আতাপাত্তু ৮ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে করেছেন ৪১৫ রান। ২০২৩ সালে তার গড় ৬৯.১৬ ও স্ট্রাইক রেট ১২৫.৩৭!

অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার গার্ডনার ১৩ ম্যাচে ২৪ উইকেটের সঙ্গে করেছেন ১৮৮ রান ও ধরেছেন ৬টি ক্যাচ।

ইংল্যান্ডের সিভার ব্রান্ট ৬ ম্যাচে ৩৯৩ রানের সঙ্গে নিয়েছেন ৩ উইকেট।