২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিএলে কামিন্স-স্টার্কদের খেলা নিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্তের’ আভাস অস্ট্রেলিয়া কোচের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে আইপিএলে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।

আইপিএলে কামিন্স-স্টার্কদের খেলা নিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্তের’ আভাস অস্ট্রেলিয়া কোচের
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ছবি: বিসিসিআই

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 09:00 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

সামনের এক বছর ভীষণ ব্যস্ত সূচি অস্ট্রেলিয়ার। বিশেষ করে, এই সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির কারণে আগামী বছরের আইপিএলে দলের টেস্ট খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।

আগামী ১২ মাসে ২০টি টেস্ট ও ১৪টি সাদা বলের ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্ট দিয়ে শুরু হবে তাদের সেই পথচলা। এরপর ম্যাককায়তে শান্ত-লিটনদের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলবে তারা।

এছাড়া সামনের এক বছরে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ছয়টি ওয়ানডে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি টেস্ট, দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আটটি সাদা বলের ম্যাচ, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চারটি টেস্ট, ভারতে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। আগামী মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি টেস্ট খেলবে তারা। এরপর জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজের পাঁচটি টেস্ট রয়েছে তাদের। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও।

এরপর আগামী বছরের আগস্টের শেষ দিকে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একটি সাদা বলের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। যেটাকে অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এখনকার প্রথম পছন্দের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের পাঁচ খেলোয়াড়- প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হেইজেলউড, ক্যামেরন গ্রিন ও ট্রাভিস হেড আইপিএলের বিভিন্ন দলে আছেন। তবে আসছে আসরের জন্য খেলোয়াড় ধরে রাখা ও নিলামের পর এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। ওয়ানডে দলের কিপার-ব্যাটসম্যান ও টেস্ট দলের ব্যাকআপ জশ ইংলিশও লখনৌ সুপার জায়ান্টসের স্কোয়াডে আছেন।

আইপিএলে অংশগ্রহণকে খেলোয়াড়দের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখেন ম্যাকডোনাল্ড। তবে জাতীয় দলের ব্যস্ত এই সূচির কথা মাথায় রেখে এনিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আভাস দিয়ে রাখলেন তিনি।

“আমি জানি, আইপিএল নিয়ে মানুষ কথা বলা শুরু করবে এবং ওই সময়টা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই আলোচনাও হবে। আগেও বলেছি, আমাদের অনেক খেলোয়াড়ের ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনায় আইপিএল গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা প্রতিযোগিতা বলে আমি যেটিকে মনে করি, সেখানে আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের খেলানোরও পারফরম্যান্সগত সুবিধা আছে। তবে সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।”

গত আইপিএলে স্টার্ক, হেইজেলউড ও কামিন্স দেরিতে যোগ দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। যার জেরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে তৈরি হয় টানপোড়েন। আইপিএলের পর সাদা বলের কয়েকটি সিরিজে এই তিনজনকে বিশ্রাম দেয় অস্ট্রেলিয়া। এনিয়েও হয় আলোচনা-সমালোচনা।

২০২৭ সালের আইপিএল মার্চের মাঝামাঝি শুরু হয়ে শেষ হবে মে মাসের শেষ দিকে। এরপর জুনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচির মাঝে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার সময় একমাত্র আইপিএল। এদিকে আবার নিলামে দল পাওয়ার পর চোট ছাড়া অন্য কোনো কারণে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানো বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাও চালু করেছে আইপিএল।

সব মিলিয়ে, সামনে জটিল সময় অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন ক্রিকেটারদের জন্য। ম্যাকডোনাল্ড মনে করছেন, আগের মতো সামনেও সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন তার খেলোয়াড়রা।

“জানি, অনেকে দেশ নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি, এ ধরনের বিতর্কের কথা বলেন। কিন্তু এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের পেসারদের শরীরকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া। যাতে তারা নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত করে নিতে পারে এবং সবাই যে ২০ বা ২১টি ম্যাচের কথা বলছে, সেগুলোতে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ পায়।

আমাদের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে আমি যেটা বলতে পারি, তারা পুরো পথচলায় ভালো সিদ্ধান্তই নেয়। আর এসব সিদ্ধান্তের পেছনে মেডিকেল দল ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা থাকে। তারা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে চায়। এরপরই (আইপিএলের পর) রয়েছে অ্যাশেজ। আশা করছি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও থাকবে, এরপর বিশ্বকাপ। ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট আছে। তাই আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।”