১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পিএসএল জয়ের পর নতুন লক্ষ্য বাবরের

নিজের বর্তমান ফর্ম জাতীয় দলেও বয়ে নিতে চান পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান।

পিএসএল জয়ের পর নতুন লক্ষ্য বাবরের
পিএসএল ট্রফির সঙ্গে বাবর আজম। ছবি: পেশাওয়ার জালমি ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 May 2026, 06:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

ব্যাট হাতে রানের স্রোত বইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্বেও ক্ষুরধার ছিলেন বাবর আজম। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে পেশাওয়ার জালমির পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর, এবার নতুন লক্ষ্য ঠিক করেছেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান। আবারও তিন সংস্করণের জাতীয় দলেই থিতু হতে চান তিনি।

ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় তিন সংস্করণে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপের প্রধান ভরসা ছিলেন বাবর। কিন্তু জাতীয় দলে এখন আর আগের মতো পারফরম্যান্স করতে পারছেন না তিনি। তাতে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে তার জায়গা। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই যেমন দলের চাওয়া পূরণ করতে ব্যর্থ হন ৩১ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

২০ ওভারের ক্রিকেটে বাবরের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে প্রায়ই ওঠে প্রশ্ন। বিশ্বকাপে দল সেমি-ফাইনালে ব্যর্থ হওয়ার পর, প্রবল সমালোচনার শিকার হতে হয় তাকে। প্রবল চাপ নিয়েই এবারের পিএসএল শুরু করেন তিনি। সেখানে নিজেকে মেলে ধরে সমালোচনার কিছুটা হলেও জবাব দিতে পেরেছেন বাবর।

এবারের পিএসএলে দুটি সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে সর্বোচ্চ ৫৮৮ রান করেন বাবর। স্ট্রাইক রেটেও উন্নতি হয়েছে তার। ১৪৫.৯০ স্ট্রাইক রেটে পিএসএলের আর কোনো আসরে ব্যাটিং করতে দেখা যায়নি তাকে।

৫৮৮ রান করে একটি রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন বাবর, প্রতিযোগিতাটির এক আসরে ফাখার জামানের গড়া আগের সর্বোচ্চ রানের কীর্তি; ২০২১-২২ মৌসুমে ১৩ ইনিংসে ৫৮৮ রান করেছিলেন ফাখার।

রোববারের ফাইনালে অবশ্য গোল্ডেন ডাক মারেন বাবর। তবে অ্যারন হার্ডির চমৎকার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারিয়ে ২০১৭ সালের পর পিএসএলের দ্বিতীয় শিরোপা জেতে পেশাওয়ার।

ফিরে পাওয়া ছন্দ সামনেও ধরে রাখতে মরিয়া বাবর। আর এই ফর্ম কাজে লাগিয়ে দেশের হয়ে সব সংস্করণেই রানের ফোয়ারা ছোটাতে চান তিনি।

“আমার মনোযোগ এখন তিন সংস্করণে। একজন ব্যাটসম্যানের সব ধরনের ক্রিকেটই খেলা উচিত এবং নিজেকে কেবল সাদা বলের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়।”

“লাল বলের ক্রিকেট দীর্ঘ সময় ব্যাট করার কৌশল শেখায় এবং একজন ক্রিকেটারের ধৈর্য বৃদ্ধি করে। বড় ইনিংস কীভাবে খেলতে হয়, এই সংস্করণ সেটা শিখতে সহায়তা করে। আর লাল বলের ক্রিকেট থেকে পাওয়া সব শিক্ষাই সাদা বলের ক্রিকেটে সাহায্য করে।”

পাকিস্তানের হয়ে আলো ছড়ানোর সুযোগ শিগগিরই পাচ্ছেন বাবর। কদিন পরই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু আগামী শুক্রবার।

সাদা পোশাকে দীর্ঘদিন সেরা চেহারায় নেই বাবর। সবশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি পান তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। পরের ৩০ ইনিংসে পঞ্চাশই ছুঁতে পারেন কেবল চারবার।

জাতীয় দলের রঙিন পোশাকে বাবর সবশেষ পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন গত ফেব্রুয়ারিতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, এই সংস্করণেই। আর ওয়ানডেতে নিজের খেলা সবশেষ সিরিজে অবশ্য একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন বাবর। গত নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই শতকের আগে তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি ২০২৩ সালে।

কয়েক বছর ধরে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বাবর। তবে ভবিষ্যতে ব্যর্থতা ঝেরে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনি।

“নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি, তবে একজন ব্যাটসম্যানের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভোগান্তি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিছুটা পেছনে ফিরে বুঝতে হবে, কোথায় ভুল হচ্ছে এবং সেটা খুঁজে বের করে সংশোধন করতে হবে। এই সময়ে সমর্থন খুবই প্রয়োজন। আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাকে অনুপ্রাণিত রেখেছে। কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে, তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ কোচদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি।”

“জীবনটা রোলারকোস্টারের মতো, কখনও সবকিছু একই রকম থাকে না। ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিখবেন। এভাবেই চলে জীবন।”