Published : 19 Aug 2025, 07:47 PM
মাঝের ১৫ ওভারে রান এলো কেবল ৯২। তবে শুরুর তিন আর শেষের দুই ওভারের ব্যাটিং তাণ্ডব দলকে পৌঁছে দিল লড়িয়ে স্কোরে। ওই পাঁচ ওভারেই রান এলো ৮০! সেই পারফরম্যান্সের পথ ধরে বোলাররা দলকে এনে দিলেন স্বস্তির জয়। আগের ম্যাচে হারের ধাক্কা পেছনে ফেলে সেমি-ফাইনালের লড়াইয়ে সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে আগের তিন ম্যাচের সবকটিতে জয়ী নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইককে ২২ রানে হারাল বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান ফিফটি করতে পারেননি। তবে পাঁচ ব্যাটারের কার্যকর ইনিংসে ২০ ওভারে দল তোলে ১৭২ রান। রান তাড়ায় শুরুতেই বিপদে পড়া নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইক যেতে পারে ১৫০ পর্যন্ত।
চার ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এটি দ্বিতীয় জয়।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা হয় রানের সুনামিতে। প্রথম ওভারে রান আসে ৯। পরের ওভারে অভিজ্ঞ পেসার কেন রিচার্ডসনকে তুলাধুনা করেন জিসান আলম। ওভারে তিনটি চারের মাঝে এক্সট্রা কাভার দিয়ে একটি ছক্কা তরুণ ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৬১ ম্যাচ খেলা পেসারের ওভার থেকে আসে ২১ রান!
পরের ওভারে অফ স্পিনার ম্যাট হ্যামন্ডকে পাঁচটি বাউন্ডারি মারেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। কেবল দ্বিতীয় বলটি থেকে রান নিতে পারেননি তিনি।
তিন ওভারেই ফিফটি করে ফেলে বাংলাদেশ।
পরের ওভারেই ভেঙে যায় এই জুটি। ম্যাট মেনজিসকে বাউন্ডারি মারার পরের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মেরে আউট হন নাঈম (১১ বলে ২৫)।
বাংলাদেশের রানের গতিও প্রায় থমকে যায় সেখানেই। তিনে নামা সাইফ হাসান ৩ রান করতে পারেন ১০ বল খেলে। অফ স্পিনার হ্যামন্ডের সাধারণ এক শর্ট বলে লং অন সীমানায় ধরা পড়েন জিসান (২৩ বলে ৩০)।
আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহানও শুরুতে ধুঁকছিলেন। চতুর্থ থেকে দশম, এই সাত ওভারে রান আসে কেবল ২৮!
ডার্সি শর্ট ও হ্যামিশ মার্টিনের বাঁহাতি স্পিনে খাবি খাচ্ছিলেন ব্যাটসম্যানরা। যদিও শর্টের মূল কাজ ব্যাটিং, আর মার্টিনের এখনও স্বীকৃত ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি।
এর মধ্যেই সোহান ৪ রানে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়ায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় দল।
১৩ ওভার শেষে সোহানের রান ছিল ১২ বলে ৮, আফিফের ২২ বলে ১৮। এরপর হুট করে জেগে ওঠেন সোহান। ৯ বলের মধ্যে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় রানের গতি বাড়ান তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক (২৩ বলে ৩৫)।
আফিফ সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারায় রান আসছিল না প্রত্যাশিত গতিতে। আসরে প্রথম খেলতে নামা ইয়াসির আলি চৌধুরি ১৩ বলে ২২ রান করে একটু দম দেন গতিতে। শেষ ওভারে দুটি চার মারতে পারেন আফিফ।
এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে ৪০ ছুঁয়ে অপরাজিত থাকলেন আফিফ। তবে এক ম্যাচে ২৩ বলে ৪৮ করলেও আরেক ম্যাচে ৪২ করেন তিনি ৪৯ বলে। এই ম্যাচে তার ৪১ রান এসেছে ৪০ বলে।
নর্দান টেরিটরি রান তাড়া শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে হাসান মাহমুদকে পুল করতে গিয়ে উইকেট হারান অভিজ্ঞ জেক ওয়েদারাল্ড। গত মাসে ইংল্যান্ডে সাবেকদের টুর্নামেন্টে খেলা ডার্সি শর্ট পুল করতে গিয়েই রিপন মন্ডলের বল তুলে দেন আকাশে। চারে নামা স্যাম এল্ডার একইভাবে আউট হন তোফায়েল আহমেদের বলে।
চার ওভারের মধ্যেই হারায় তারা তিন উইকেট।
চতুর্থ উইকেটে ৮২ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ে রাখেন কনর ক্যারল ও জর্ডান সিল্ক। তবে যখনই জয়ের চেষ্টায় দ্রুত রান তোলার প্রয়োজন, তখন বিদায় নেন দুজন। ৩০ বলে ৪৩ রান করে স্টাম্পড হন ক্যারল, অভিজ্ঞ সিল্ক করেন ৪১ বলে ৪৮।
দুজনকেই ফেরান টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো বোলিং করা রকিবুল হাসান। এই বাঁহাতি স্পিনারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তোফায়েলও। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা মেটাতে পারেননি রানরেটের দাবি।
১১ দলের আসরে বাংলাদেশ ‘এ’ দল পয়েন্ট তালিকায় আছেন এখন সাত নম্বরে। তাদের পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন স্টার্স একাডেমির বিপক্ষে।
বাংলাদেশ ‘এ’: ২০ ওভারে ১৭২/৪ (নাঈম ২৫, জিসান ৩০, সাইফ ৩, আফিফ ৪১*, সোহান ৩৫, ইয়াসির ২২*; মেনজিস ৪-০-৪৩-২, রিচার্ডসন ১-০-২১-০, হ্যামন্ড ৩-০-২৭-১, শর্ট ৪-০-১৯-১, অ্যান্ড্রুস ৪-০-৩৭-০, মার্টিন ৪-০-১৯-০ )।
নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইক: ২০ ওভারে ১৫০/৭ (শর্ট ৭, ওয়েদারাল্ড ৪, ক্যারল ৪৩, এল্ডার ৩, সিল্ক ৪৮, অ্যান্ড্রুস ১৮, হ্যামন্ড ৫, ম্যাকম্যাহন ১০*, মার্টিন ৫*; নাঈম ৪-০-৩১-০, হাসান ৪-০-২৩-২, রিপন ৪-০-৪৪-১, তোফায়েল ৪-০-২৬-২, রকিবুল ৪-০-২২-২)।
ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ২২ রানে জয়ী।