Published : 25 Aug 2026, 10:37 PM
এই ধরনের হাই পারফরম্যান্স বা একাডেমিভিত্তিক টুর্নামেন্টে সাধারণত অঘটন বলে কিছু নেই। ম্যাচ শেষে তবু ধারাভাষ্যকার বললেন, “বড় অঘটনই বলতে হবে… বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল হেরে গেছে!” টানা তিন দিনে তিন জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দল এভারে হেরে গেলে অঘটন বলা যায় বটে!
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক জয়ের পর এবার পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফম্যান্স (এইচপি) দল। অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি জিতেছে ২১ রানে।
আগের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিন উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ রুবেল। এ দিন অবশ্য রহস্য স্পিনারকেও ছাপিয়ে চার উইকেট শিকার করেছেন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তার পরও অ্যাডিলেইড একাডেমি ২০ ওভারে তোলে ১৬৪ রান।
এবারের আসরে বাংলাদেশের দলটির বিপক্ষে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর এটি।
রান তাড়ায় এক পর্যায়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও পথে পথ হারায় বাংলাদেশ এইচপি। শেষ দিকে ৩ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে আরও ধসে পড়ে ইনিংস।
টানা চতুর্থ টস জিতে চতুর্থবার বোলিং নেন বাংলাদেশ এইচপি অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। আবু হায়দারের প্রথম ওভারে দুটি বাউন্ডারি ম্যাচ শুরু করেন থমাস কেলি। প্রথম তিন ওভারে অ্যাডিলেইড একাডেমি তোলে ২৮ রান।
বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন যথারীতি রুবেল। কনর ক্যারল বোল্ড হন ১৪ বলে ১৫ রান করে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জার্সিস ওয়াদিয়াকে বোল্ড করে দেন আবু হায়দার।
আরেক প্রান্তে কেলি দারুণ খেলছিলেন। ৬ চারে ২০ বলে ৩৮ রান করা ওপেনারকে থামান রকিবুল হাসান।
এরপর রানের গতিতে একটু লাগাম দিতে পারেন বাংলাদেশের বোলাররা। অ্যাডিলেইডের অধিনায়ক হ্যারি নিলসেন ১৩ বলে ১৩ করে আউট হন সাকলাইনের বলে। হেনরি হান্ট ও নোয়াহ ম্যাকফেডিয়েন এরপর টেনে নিয়ে যান দলকে।
আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় রুবেলকে একটু বিবর্ণ মনে হচ্ছিল। প্রথম ৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তার উইকেট ছিল ১টি। কিন্তু সপ্তদশ ওভারে ফিরে নিজের শেষ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। হান্টকে (২৯ বলে ৩৫) দিায় করার পর নতুন ব্যাটসম্যান লাচলান ব্যাংসকেও ফেরান তিনি।
রিপন মন্ডল এ দিন ছিলেন বেশ খরুচে। অষ্টাদশ ওভারে তার বোলিংয়ে আসে ১৯ রান।
শেষ ওভারে দারুণ বোলিংয়ে কেবল ৫ রান দেন সাকলাইন, চার বলের মধ্যে উইকেট নেন ৩টি। এর মধ্যে ছিল ২৮ বলে ৩১ করা ম্যাকফেডিয়েনের উইকেটও।
রান তাড়ায় প্রথম বলেই বাংলাদেশ এইচপি হারায় জিসান আলমকে। ওয়াদিয়ার বাঁহাতি স্পিনে স্লগ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। প্রথম ম্যাচে ফিফটির পর তরুণ ব্যাটসম্যান পরের তিন ম্যাচ মিলিয়ে করলেন ২০ রান।
আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ হাবিবুর রহমান সোহান এ দিন একটু সাবধানী ব্যাটিংয়ে শুরু করেন। রান বাড়ানোর প্রাথমিক কাজ করেন তিনে নামা আরিফুল ইসলাম। পেসার হেনরি থর্নটনের এক ওভারে দুটি চার মারেন তিনি, পরের ওভারে মারেন দুটি ছক্কা।
প্রথম ৮ বলে ৩ রান করা সোহান হাত খোলেন ওয়াদিয়াকে বিশাল ছক্কায় উড়িয়ে। পরে তার ব্যাট থেকে আসে আরেকটি চার ও ছক্কা। কিন্তু ব্যর্থতার জাল ছিড়ে শেষ পর্যন্ত বের হতে পারেননি এ দিনও। বাঁহাতি পেসার ব্যাংসের বলে দৃষ্টিকটূ স্লগে তার ইনিংস শেষ হয় ১৮ বলে ২৩ রান করে।
চাপে পড়া বাংলাদেশ এইচপিকে আরও চেপে ধরে ওয়াহেগুরু ধিলন। এই বাঁহাতি স্পিনার পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন সাব্বির রহমান (৮ বলে ৬) ও ইরফানকে (৭ বলে ৫)।
ভরসা ছিলেন তখন থিতু হয়ে যাওয়া আরিফুল ও আগের ম্যাচের নায়ক শামীম হোসেন। কিন্তু আগ্রাসী শুরুর পর মিইয়ে যান আরিফুল। শামীমও এ দিন পারেননি আপন রূপে থাকতে। দুজনের জুটিতে ৩০ বলে রান আসে কেবল ৩৯। ম্যাচ মূলত সেখানেই কঠিন হয়ে যায় বাংলাদেশ এইচপির জন্য।
পরে রান বাড়ানোর তাড়ায় উইকেট পড়ে টপাটপ। শামীম ফেরেন ১৮ বলে ১৮ রান করে। তাকে ফেরানোর পর ব্যাংস ওই ওভারেই ফেরান আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও আরিফুলকে।
ফিফটি করলেও আরিফুলের ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বা এই ম্যাচের দাবিকে মেটাতে পারেননি। ৬৬ রান করতে বল খেলে ফেলেন তিনি ৫৪টি।
পরের ওভারে থর্নটন ৩ বলের মধ্যে উইকেট নেন ২টি। ৪ উইকেটে ১২৭ থেকে বাংলাদেশ এইচপির রান হয়ে যায় ৯ উইকেটে ১৩০!
শেষ ওভারের ১১ রানে একটু কমে হারের ব্যবধান।
এই পরাজয়ের পরও অবশ্য পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে আছে বাংলাদেশ এইচপি। সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে দুইয়ে নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইক।
টানা চারদিন ম্যাচ খেলে একদিন বিশ্রাম পাচ্ছে বাংলাদেশ এইপি। পরের ম্যাচে বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দল।
অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি: ২০ ওভারে ১৬৪/৯ (কেল ৩৮, ক্যারল ১৫, ওয়াদিয়া ৮, হান্ট ৩৫, নিলসন ১৩, ম্যাকফেডিয়েন ৩১, ব্যাংস ০, ধিলন ৬, থর্নটন ০, স্টকডেল ১*, ওকলি ২*; আবু হায়দার ৩-০-২৪-১, রুবেল ৪-০-৩০-৩, রকিবুল ৪-০-২২-১, সাকলাইন ৪-০-২১-৪, রিপন ৩-০-৪৬-০, শামীম ২-০-১৫-০)।
বাংলাদেশ এইচপি: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (জিসান ০, সোহান ২৩, আরিফুল ৬৬, সাব্বির ৬, ইরফান ৫, শামীম ১৮, সাকলাইন ০, আবু হায়দার ১, রকিবুল ০, রিপন ৮*, রুবেল ৬*; ওয়াদিয়া ৪-০-২৩-১, থর্নটন ৪-০-৩৬-২, স্টকডেল ২-০-১৭-০, ওকলি ২-০-২০-০, ব্যাংকস ৪-০-২৯-৪, ধিলন ৪-০-১৫-২ )।
ফল: অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ২১ রানে জয়ী।