Published : 30 Aug 2025, 08:26 AM
ফিল সিমন্স পরিষ্কার বলে দিলেন, এখনই এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবছেন না তিনি। তবে বাংলাদেশ কোচের ভাবনা যেমনই হোক, এশিয়া কাপকে ভাবনায় রেখেই তো বিশেষ এই সিরিজের ব্যবস্থা করেছে বিসিবি! প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ফিটনেস ট্রেনিং, স্কিল ঝালাই, পাওয়ার হিটিং কোচের দীক্ষাসহ নানা ধাপ পেরিয়ে বাংলাদেশ দল এখন ম্যাচ অনুশীলনের ধাপে। যেখানে প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।
সিলেটে ডাচদের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে শনিবার। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়।
আন্তর্জাতিক সিরিজের মোড়কে এটি আসলে এশিয়া কাপের জন্য নিজেদের তৈরি করার মঞ্চ। তবে কোচের কণ্ঠে ঠিকই পেশাদারিত্বের আওয়াজ। দায়িত্বের জায়গা থেকে সিরিজ শুরুর আগে সেটি পরিষ্কার করে দিলেন তিনি।
“চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় পৌঁছতে হলে তো আগে প্রাথমিক পর্ব উতরাতে হয়। কাজেই এশিয়া কাপ নিয়ে আমি ভাবছি না। এশিয়া কাপ আসবে এটির পরে। এটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ। আমাদের মনোযোগও এই সিরিজে।”
“আমরা তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানে আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে খেলা। তারা (নেদারল্যান্ডস) গত দুটি বিশ্বকাপে খেলেছে। বিশ্বকাপে ভালো করেছে। আমরা কোনো দলকেই খাটো করে দেখি না। এখন বিশ্ব ক্রিকেটে কাউকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। সবাই ভালো খেলছে, সবাই জেতার জন্য খেলে। আমাদেরকেও তাই সেই মানটাই মেলে ধরতে হবে, যেভাবে আমরা চালিয়ে যেতে চাই।”
‘সেই মান’ বলতে কোচ বোঝাচ্ছেন গত মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পারফরম্যান্স। লঙ্কানদের বিপক্ষে তাদের মাঠে প্রথমবার সিরিজ জয়ের পর দেশে ফিরে পাকিস্তানকেও হারায় বাংলাদেশ। তবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে সেই সিরিজ জয়কে ঠিক ধর্তব্যের মধ্যে রাখতে চান না কোচ। সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েক দফায় বললেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের পারফরম্যান্সকে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ ধরেই দলকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
মিরপুরে অনুশীলন ক্যাম্প শেষে গত ২০ অগাস্ট থেকে সিলেটে ঘাম ঝরাচ্ছে লিটন কুমার দাসের দল। ভালো উইকেটে প্রস্তুতির জন্যই মূলত সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি আবু ধাবিতে খেলবে বাংলাদেশ দল, যেখানে উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক থাকে।
বাংলাদেশ দলের অনুশীলন পর্ব ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজটি সিলেটে আয়োজন করায় কোচও দারুণ সন্তুষ্ট।
“যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে সিলেটের কন্ডিশন আমার দেখা বিশ্বের অন্য আদর্শ জায়গাগুলোর মতোই, গত ৫-৬ মাসে আমি যা দেখেছি।”
“বিশ্বের যে কোনো জায়গার সঙ্গেই সিলেটের তুলনা করা যায়। যে কয়বার এখানে এসেছি সবসময়ই দেখেছি এখানকার উইকেটের মান, অনুশীলন উইকেটের মান খুব ভালো।”
সিলেটে অনুশীলনে চোট পেয়েছিলন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে এই ওপেনার ফিট হয়ে উঠেছেন বলেই জানালেন কোচ। অসুস্থতার কারণে সিলেটে দেরি করে যাওয়া শামীম হোসেনও অনেকটাই সুস্থ। তবে তাকে আরেকটু সময় দিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম ম্যাচে তাই তার একাদশের বাইরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে দলে ফেরা নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসানের কাউকে দেখা যেতে পারে।
এশিয়া কাপের আগে সোহান-সাইফদের বাজিয়ে দেখা, দলের ভারসাম্য আর সমন্বয় নিয়ে কিছু পরীক্ষার সুযোগও এই সিরিজ। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উড যা শিখিয়ে গেলেন, সেসবের কতটা প্রয়োগ করতে পারেন ব্যাটসম্যানরা, কৌতূহল থাকবে সেখানেও।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১০) সঙ্গে খুব বেশি ব্যবধান নেই নেদারল্যান্ডসের (১৩)। এই সংস্করণে এমনিতেও প্রচুর ম্যাচ খেলে থাকে ডাচরা, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় নিয়মিতই। সেখানে চমকপ্রদ পারফরম্যান্সও তারা মেলে ধরে মাঝেমধ্যেই।

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আবার প্রোটিয়াদের হারানোর পর উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশকেও। এবার সিরিজ শুরুর আগে সেই স্মৃতিই জীবন্ত করে তুললেন নেদারল্যান্ডসের কোচ রায়ান কুক, যিনি তিন বছরের বেশি সময় ছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ।
“ভালো খেলতে পারি, এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা এখানে এসেছি। আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ঘরানার ক্রিকেট খেলবে এবং অবশ্যই দারুণ কিছু ক্রিকেটার তাদের আছে। ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। আমাদের জন্য এটা হবে ভীষণ চ্যালেঞ্জের।”
“তবে জয়ের চেষ্টা না করতে পারলে আমরা এখানে আসতাম না। গত বিশ্বকাপে আমরা ওদেরকে হারিয়েছি। আবার একই গ্রুপে পড়লে (বিশ্বকাপে) আবারও চেষ্টা করব ওদেরকে হারাতে। আমাদের সামনে যা আছে, সেসবকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে আমাদের এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তা পারব।”
পুরো শক্তির দল নিয়ে অবশ্য তারা আসতে পারেনি। নানা কারণে এই সফরে আসতে পারেননি অলরাউন্ডার বাস ডে লেডে, অভিজ্ঞ স্পিনিং অলরাউন্ডার রুলফ ফন ডার মেরওয়া, ওপেনার মাইকেল লেভিট ও পেসার ফ্রেড ক্লাসেন।
তবে এসব অজুহাত ডাচরা কখনোই খোঁজে না। প্রতিকূল কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জকেও পাল্টা জবাব দিতে পছন্দ করে তারা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার জন্য পরিচিতি আছে তাদের। এই সিরিজেও সেই চরিত্র তারা মেলে ধরতে মরিয়া থাকবে।
ডাচরা কঠিন পরীক্ষা নিলে খুশিই হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। জয়ের তৃপ্তি তখন বেশি থাকবে, এশিয়া কাপের প্রস্তুতিও হবে আদর্শ।