Published : 20 Nov 2025, 05:02 PM
সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি এলো দিনের শুরুতেই। ইতিহাসের আশ্রয়ে নিজেকে অমর করে রাখলেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকময় আবহের আড়াল সরিয়ে দ্যুতিময় সেঞ্চুরির আলো ছড়ালেন লিটন কুমার দাস। পরের চিত্রটুকু অনুমিতই। বাংলাদেশের বড় স্কোরের পর স্পিনের সামনে আইরিশ ব্যাটিংয়ের ভোগান্তি।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪৭৬ রানে। আয়ারল্যান্ড দিন শেষ করে ৫ উইকেটে ৯৮ রানে।
শততম টেস্টে ৯৯ রানে প্রথম দিন শেষ করা মুশফিক প্রত্যাশিত শতরান ছুঁয়ে আউট হয়ে যান ১০৪ রানে। ত্রয়োদশ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি শতকের রেকর্ডে স্পর্শ করেন তিনি মুমিনুল হককে।
পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরিতে লিটন করেন ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১২৮ রান।
সকালে প্রথম ওভারটি কেটে যায় খানিকটা নাটকীয়তা আর কিছুটা উৎকণ্ঠার মিশেলে। ম্যাথু হামফ্রিজের করা ওভারে কোনো রান নিতে পারেননি মুশফিক। এর মধ্যে একটি ছিল জোরাল আবেদন, আরেকটিতে দুর্দান্ত টার্নিং ডেলিভারিতে তিনি রক্ষা পান অল্পের জন্য।
তবে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয়নি খুব একটা। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই শতরান ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। ছোট্ট এক তালিকায় নিজের নাম খোদাই করেন তিনি কিংবদন্তিদের সঙ্গে। টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরিতে রানের সেঞ্চুরি করা একাদশ ক্রিকেটার তিনি।
পরের বলেই চার মেরে ফিফটিতে পৌঁছে যান লিটন।
আগের দুটি শতরানকে মুশফিক রূপ দিয়েছিলেন দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে। এবার তেমন কিছু পারেননি। হামফ্রিজের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বিদায় নেন তিনি ১০৪ রানে। তার ২১৪ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি ৫টি।
লিটনের সঙ্গে তার জুটি থামে ১০৮ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটির রেকর্ড আগে থেকেই এই দুজনের। সপ্তম সেঞ্চুরি জুটিতে নিজেদের আরও ওপরে নিলেন দুজন।
এরপর মুশফিকের ভূমিকায় নেমে একটি প্রান্ত আগলে রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দাপুটে ব্যাটিংয়ে দ্রুতই শতরানের কাছে পৌঁছে যান লিটন। ৯১ থেকে দারুণ একটি ছক্কা মারেন তিনি হামফ্রিজকে। শতরান পূর্ণ করেন ১৫৮ বল খেলে।
১২৩ রানের জুটি ভাঙে মিরাজের বিদায়ে। তিন রানের জন্য ফিফটি পাননি এই অলরাউন্ডার। অভিষিক্ত লেগ স্পিনার গ্যাভিন হোয়ে পান প্রথম টেস্ট উইকেটের স্বাদ।
পরের ওভারে স্লগ সুইপের চেষ্টায় শেষ হয় লিটনের ইনিংসও।
লোয়ার অর্ডারে তিন চার এক ছক্কায় ১৮ রান করেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি।
৩৩ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে পাঁচশ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের।
আগের দিন চার উইকেট নেওয়া অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন এ দিন যোগ করেন আরও দুটি। আড়াই বছর আগে মিরপুরেই আরেক দফায় ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই অফ স্পিনার।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তার।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খারাপ করে আইরিশরা। পল স্টার্লিং যথারীতি শুরু করে চেনা আগ্রাসী চেহারায়। তাকে (২৬ বলে ২৭) ফিরিয়েই ৪১ রানের জুটি ভাঙেন একাদশে ফেরা সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
দিনের বাকিটুকু কেবলই স্পিনের সামনে আইরিশদের টিকে থাকার লড়াই। সেই চেষ্টায় সফল হননি কেউ। উইকেটে ততক্ষণে বল নিচু হতে শুরু করেছে বেশ। গ্রিপও করছে। তেমন কোনো জুটি তাই গড়ে ওঠেনি।
বালবার্নি ও কার্টিস ক্যাম্ফারকে ফেরান হাসান মুরাদ। এই দুটির মাঝে কেড কারকাইমেলকে ১৭ রানে থামান মিরাজ। প্রথম স্পেলে খুব ভালো করতে না পারা তাইজুল দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে বিদায় করেন হ্যারি টেক্টরকে।
দিনের শেষ পাঁচ ওভার কোনোরকমে কাটিয়ে দেন লর্কান টাকার ও স্টিভেন ডোহেনি। তবে পরদিন তাদের অপেক্ষা কত চ্যালেঞ্জে, সেই নমুনাও পেয়ে গেছেন দুজন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬ (আগের দিন ২৯২/৪) (মুশফিক ১০৬, লিটন ১২৮, মিরাজ ৪৭, তাইজুল ৪, মুরাদ ১১, ইবাদত ১৮*, খালেদ ৮; নিল ১১-১-৪৭-০, ক্যাম্ফার ১০-০-৩২-০, ম্যাকব্রাইন ৩৩.১-৩-১০৯-৬, হামফ্রিজ ৫০-৫-১৫১-২, হোয়ে ৩৪-৩-১১৫-২, টেক্টর ৩-০-১০-০)।
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৮ ওভারে ৯৮/৫ (বালবার্নি ২১, স্টার্লিং ২৭, কারমাইকেল ১৭, টেক্টর ১৪, ক্যাম্ফার ০, টাকার ১১*, ডোহেনি ২*; ইবাদত ৫-১-১০-০, খালেদ ৬-০-৩০-১, তাইজুল ১৩-১-৩২-১, মুরাদ ১০-৩-১০-২, মিরাজ ৩-০-১১-১, মুমিনুল ১-১-০-০)।