রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে রেকর্ড শিরোপা সমারসেটের
ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের ফাইনালস ডেতে দারুণ দুটি জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেকর্ড স্পর্শ করল সমারসেট।
সেঞ্চুরি ছুঁতে প্রয়োজন ছিল ছয় রানের। ছক্কার চেষ্টাই করলেন উইল স্মিড। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে বল পেয়ে উড়িয়ে মারলেন সজোরে। কিন্তু ধরা পড়লেন একদম সীমানায়। সেঞ্চুরি হাতছাড়ার চেয়েও বড় ভাবনা তখন, দল জিততে পারবে তো! প্রয়োজন তখন ১.৫ ওভারে ১৮ রান। সেই ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন অধিনায়ক লুইস গ্রেগোরি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পরের ৫ বলেই তিনি করে ফেললেন ১৮ রান। শিরোপার উল্লাসে মেতে উঠল সমারসেট।
ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্টের ফাইনালে দুর্দান্ত রান তাড়ায় হ্যাম্পশায়ারকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সমারসেট।
এজবাস্টনে শনিবার হ্যাম্পশায়ারের ১৯৪ রান টপকে জিতে যায় সমারসেট। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের ২৩ আসরে ফাইনালে সবচেয়ে বেশি রান তাড়ার কীর্তি এটিই।
তিন বছরের মধ্যে সমারসেটের দ্বিতীয় শিরোপা এটি। তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা স্পর্শ করল এই টুর্নামেন্টে লেস্টারশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের রেকর্ড।
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে দুটি সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল একই দিনে হয়ে থাকে একই মাঠে। যেটিকে বলা যায় ফাইনালস ডে।
এবারের ফাইনালস ডেতে শনিবার প্রথম সেমি-ফাইনালে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ২৩ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে সমারসেট। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে নর্থ্যাম্পটনশায়ারকে ৬ উইকেটে হারায় হ্যাম্পশায়ার। রান তাড়ায় ১১ ছক্কায় ৫১ বলে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন ক্রিস লিন।
ফাইনালে লিন ঝড় তোলার আভাস দিলেও থেমে যান দ্রুতই। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে হ্যাম্পশায়ার। প্রথম দুই ওভারে তারা তোলে ২৪ রান। এরপর লিন বিদায় নেন একটি ছক্কা ও চারে ১২ রান করে।
লিনের উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী টবি অ্যালবার্ট অবশ্য দারুণ ইনিংস খেলেন। ৪৮ বলে ৮৫ রানের ইনিংস উপহার দেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
অধিনায়ক জেমস ভিন্স ৩৪ বলে করেন ৫২। বিপিএলের পরিচিত মুখ বেনি হাওয়েল শেষ দিকে অপরাজিত থাকেন দুই ছক্কায় ২৬ রান করে।
সমারসেটের জেইক বল নেন দুটি উইকেট।
রান তাড়ায় সমারসেটের ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটির পর আউট হন টম কোহলি-ক্যাডমোর। সেমি-ফাইনালে ৫২ বলে ৮১ রান করে ম্যাচ-সেরা হওয়া ওপেনার ফাইনালে করেন ১৪ বলে ২৩।
তিনে নেমে টম অ্যাবেল ফেরেন শূন্যতে, ১৩ বলে ২০ করে বিদায় নেন জেমস রু। উইল স্মিড শুরু থেকেই ছুটছিলেন দারুণ খেলে। জীবন পেয়ে তাকে সঙ্গ দেন শন ডিকসন। জুটিতে ৮৮ রান আসে ৫১ বলে।
উইকেট বেশি না পড়লেও এক পর্যায়ে রান রেটের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল সমারসেটের সামনে। শেষ ছয় ওভারে ৭৬ রান প্রয়োজন ছিল তাদের, শেষ তিন ওভারে ৩৭।
অষ্টাদশ ওভারে বেনি হাওয়েলের বলে ১৯ রান নিয়ে সমীকরণ নাগালে নিয়ে আসেন স্মিড ও ডিকসন।
দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ১৮, তখনই ছক্কার চেষ্টায় স্মিডের বিদায়। তবে দলকে সেজন্য ভুগতে দেননি লুইস গ্রেগোরি। ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলে চার দিয়ে তিনি শুরু করেন। পরের বলে নেন দুই। এরপর তিন বলের মধ্যে দুটি ছক্কায় সমারসেট অধিনায়ক শেষ করে দেন ম্যাচ। উল্লাসে মেতে ওঠেন তিনি গোটা দলকে নিয়ে।
৫৮ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা উইল স্মিড।
