Published : 20 Nov 2025, 12:47 AM
প্রথম চার ব্যাটসম্যানের সবাই পেলেন ভালো শুরু, কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারলেন না কেউ। শেষ ওভারে এসএম মেহরব হাসানের ছক্কায় রোমাঞ্চ ছড়াল বটে, তবে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছতে পারল না বাংলাদেশ। দারুণ জয়ে সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিল শ্রীলঙ্কা।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দল হেরেছে ৬ রানে। ১৬০ রানের লক্ষ্যে আকবর আলির দল করতে পারে ১৫৩।
এখানে হারলেও প্রথম দুই ম্যাচের দাপুটে জয়ে ‘এ’ গ্রুপের সেরা হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার প্রথম সেমি-ফাইনালে তারা খেলবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে।
আফগানিস্তান ‘এ’ দলকে টপকে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হওয়া শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে লড়বে ‘বি’ গ্রুপের সেরা পাকিস্তান শাহিনসের (এ দল) বিপক্ষে)।
বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান প্রত্যেকের সমান ৪ পয়েন্ট, নেট রানরেটে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে আফগানরা।
টিকে থাকার ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রায় একার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি এনে দেন সাহান আরাচ্চিগে। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৯ বলে ৬৯ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ বলে ২৩ রান করেন অধিনায়ক দুনিথ ওয়েলালাগে। পরে দারুণ বোলিংয়ে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতিও পান ২২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার।
এই দুজনসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া আট ক্রিকেটার ছিলেন শ্রীলঙ্কার একাদশে, বাংলাদেশের এমন ক্রিকেটার ছিলেন পাঁচ জন।
দোহার ওয়েস্ট এন্ড পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দুই ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ২১ রান। পরের ওভারে দুই ওপেনার নিশান মাদুশকা ও ভিশেন হালামবাগেকে বিদায় করেন পেসার আবু হায়দার।
ছক্কা হজমের পরের বলে লাসিথ ক্রুসপুলকে বোল্ড করে প্রতিশোধ নেন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান। নুয়ানিদু ফার্নান্দোকে টিকতে দেননি আব্দুল গাফফার সাকলাইন। মেহরবের থ্রোয়ে রামেশ মেন্ডিস রান আউট হন ১৭ রানে।
পঞ্চদশ ওভারে ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। সেখান থেকে আরাচ্চিগে ও ওয়েলালাগের ৫২ রানের জুটিতে দেড়শ ছাড়াতে পারে তারা। শেষ ওভারে এই দুজনকে আউট করেন রিপন মন্ডল।
রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলে মিলান রাত্নায়েকে লং অফ দিয়ে ছক্কা উড়িয়ে শুরু করেন হাবিবুর রহমান সোহান। এক বল পর তিনি আরেকটি ছক্কা মারেন ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে। রাত্নায়েকের পরের ওভারে পরপর চার ও ছক্কা মারেন প্রথম ম্যাচে ৩৫ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া এই ব্যাটসম্যান।
চতুর্থ ওভারে অফ স্পিনার ট্রাভিন ম্যাথিউকে লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হয়ে যান সোহান (১৪ বলে ২৭)। রামেশ মেন্ডিসের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন আরেক ওপেনার জিসান আলম (১৬ বলে ১৭)।
চমৎকার শটে কয়েকটি বাউন্ডারি মারেন জাওয়াদ আবরার। আকবরের সঙ্গে জুটিতে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৮৫ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।
পরের ওভারে লঙ্কান কিংবদন্তি লাসিথ মালিঙ্গার মতো স্লিঙ্গিং অ্যাকশনে বোলিং করা গারুকা সাঙ্কথের স্লোয়ার ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন জাওয়াদ (২৬ বলে ২৫)। রানের গতিও কমে যায় এরপর।
ভালো করতে পারেননি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (১০ বলে ৮)। পরপর দুই ওভারে মাহিদুল ও আকবরকে বোল্ড করে বাংলাদেশের কাজটা কঠিন করে তোলেন ওয়েলালাগে।
শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। চেষ্টা করে যান ইয়াসির আলি ও মেহরব। শেষ ওভারে ১৮ রানের সমীকরণে রাত্নায়েকের প্রথম বলে ইয়াসিরের সিঙ্গলের পর ছক্কা মারেন মেহরব। পরের ডেলিভারি ওয়াইড, সঙ্গে বাই থেকে আসে আরও একটি রান।
তখন ৪ বলে চাই ৯। কিন্তু লেগ বাই থেকে দুটি সিঙ্গল ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি দুই ব্যাটসম্যান। শেষ বলে এলবিডব্লিউ হন ইয়াসির (১৭ বলে ২০)। মেহরব অপরাজিত রয়ে যান ১৪ বলে ১৬ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ‘এ’: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (মাদুশকা ৯, হালামবাগে ১৩, ক্রুসপুল ৯, নুয়ানিদু ১৫, আরাচ্চিগে ৬৯, মেন্ডিস ১৭, ওয়েলালাগে ২৩, রাত্নায়েকে ১*, মাদুশান ১*; রিপন ৪-০-৪১-২, রকিবুল ৩-০-১৯-১, আবু হায়দার ৪-০-৩৭-২, মেহরব ৪-০-৩০-০, সাকলাইন ৪-০-২৭-১, জিসান ১-০-৫-০)
বাংলাদেশ ‘এ’: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (সোহান ২৭, জিসান ১৭, জাওয়াদ ২৬, আকবর ২৫, মাহিদুল ৮, ইয়াসির ২০, মেহরব ১৬*; রাত্নায়েকে ৩-০-৩৫-১, ম্যাথিউ ৪-০-২৬-১, মাদুশান ৪-০-৩১-০, ওয়েলালাগে ৪-০-১৯-৩, হালামবাগে ১-০-৮-০, সাঙ্কেথ ৪-০-৩২-১)
ফল: শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল ৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: দুনিথ ওয়েলালাগে