Published : 25 Nov 2024, 03:24 PM
অর্থের অঙ্কে শ্রেয়াস আইয়ার ও রিশাভ পান্ত আছেন এগিয়ে। তবে আইপিএলের মেগা নিলামে এবার সবচেয়ে বড় চমকের নাম নিশ্চিতভাবেই ভেঙ্কাটেশ আইয়ার। এই অলরাউন্ডার নিজেও প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে অপ্রত্যাশিত রকমের মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে দলে নিতে পেরে দারুণ খুশি কলকাতা নাইট রাইডার্স।
ভেঙ্কাটেশ এমনিতে মধ্য প্রদেশের হলেও তিনি কলকাতার হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে গেছেন এখন। আইপিএল ক্যারিয়ারের চার মৌসুম ও ৫১ ম্যাচের পুরোটাই তিনি খেলেছেন কলকাতা নাইটা রাইডার্সের হয়ে। এবার তাকে পেতে অবশ্য প্রবল লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে। শেষ পর্যন্ত ২৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে ঠেকেছে তার দাম।
ভেঙ্কাটেশকে পেতে অর্থ যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশিই লেগেছে, সেটি স্বীকার করেছেন কলকাতার প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কি মাইশোর। তবে তাতে তিনি খুব বিস্মিত নন।
“নিলামে এরকম অনেক কিছুই হয়। দিনশেষে ব্যাপারটি হলো, কোন ক্রিকেটারকে আমরা চাই এবং কোন ধরনের ক্রিকেটারকে দলে পেতে চাই। দামের দিক থেকে বিস্ময়কর কিছু হওয়ার সুযোগ সবসময়ই থাকে। স্যালারি ক্যাপ (ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা) যেহেতু বাড়ছে, ক্রিকেটারদের দামও বাড়বেই।”
সবশেষ মেগা নিলামে প্রতি দলের ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০০ কোটি রুপি। এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২০ কোটি।
কলকাতার প্রধান নির্বাহী জানালেন, গত আসরে শিরোপা জয় করা দলটির মূল অংশকে ধরে রাখা ছিল তাদের মূল পরিকল্পনা। নিলামের আগেই তারা ধরে রাখে আন্দ্রে রাসেল, সুনিল নারাইন, রিঙ্কু সিং, হার্শিত রানা, ভারুন চক্রবর্তি ও রামানদিপ সিংকে।
দলটির মেন্টর গৌতাম গাম্ভির অবশ্য জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছেন। চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকেও ধরে রাখতে বা নিলাম থেকে নিতে পারেনি তারা। তবে নিলাম থেকে আবারও নিয়েছে আনরিখ নরকিয়া ও রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে। ভেঙ্কাটেশের জন্য মরিয়া চেষ্টা তো ছিলই। সেসবই ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাহী।
“আমাদের জন্য ব্যাপারটি ছিল, দলের মূল ক্রিকেটারদের ধরে রাখার চেষ্টা করা। আগের দলের ছয়জনকে এবার নিলামের আগে আমরা ধরে রেখেছি, এরপর নিলাম থেকে পেয়েছি আরও দুই-তিনজনকে। আমাদের ভাবনা সবসময় এরকমই ছিল। তার (ভেঙ্কাটেশ) ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হলো, অবশ্যই আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাইনি যে, তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব না।”
“এই ক্রিকেটাররা মাঠে কী করতে পারে, তা প্রমাণিত। আমাদের শিরোপা জয়ের বছরে (গত আসরে) এবং যেবার ফাইনাল খেললাম (২০২১), তার (ভেঙ্কাটেশ) পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং দলে দুর্দান্ত এক ছেলে সে। আমাদেরকে সে চূড়ান্ত একটি বার্তা জানিয়ে রেখেছিল যে, ‘আপনারা আমাকে না নিলে খুবই দুঃখ পাব আমি।’ আমরা তাকে দুঃখ পেতে দিতে চাইনি এবং আমরা নিজেরাও খুব খুশি তাকে পেয়ে।”
গত আসরে ৪৬.২৫ গড় ও ১৫৮.৭৯ স্ট্রাইক রেটে ৩৭০ রান করে কলকাতার শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল ভেঙ্কাটেশের। ২০২১ সালে রানার্স আপ হওয়ার আসরেও তিনি করেছিলেন ঠিত ৩৭০ রানই। ২০২৩ সালে কলকাতা ব্যর্থ হলেও প্রায় ১৪৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি রান করেছিলেন ৪০৪। কেবল ২০২২ আসরটিই তার ভালো কাটেনি (১৬.৫৪ গড় ও ১০৭.৬৯ স্ট্রাইক রেটে ১৮২ রান)।
ভেঙ্কাটেশকে পেতে বাড়তি যে অর্থ খরচ হয়েছে, অন্য কয়েকজন ক্রিকেটারকে প্রত্যাশার কম দামে পেয়ে তা পুষিয়ে গেছে বলেও জানালেন কলকাতার প্রধান নির্বাহী।
“সমন্বয়ের সুযোগ তো সবসময় থাকেই। কুইন্টন ডি কক, আনরিখ নরকিয়াকে আমরা যেভাবে পেয়েছি, তাতে সমন্বয় হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ব্যাপারগুলো এভাবেই কাজ করে।”
কুইন্টন ডি কককে স্রেফ ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে পাওয়া কলকাতার জন্য দারুণ ব্যাপারই ছিল। রাহমানউল্লাহ গুরবাজকেও তারা পেয়ে গেছে কেবল ২ কোটি রুপিতে। এমনকি সাড়ে ৬ কোটিতে নরকিয়াকে পাওয়া বেশ স্বস্তাই বলতে হবে তাদের জন্য।
ভেঙ্কাটেশ নিজেও মরিয়া ছিলেন কলকাতায় থেকে যাওয়ার জন্য। চোখ কপালে ওঠা দামে প্রিয় দলে থেকে যেতে পেরে তিনি যেন আকাশে উড়ছিলেন।
“সত্যি বলতে, ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তবে কেকেআর দলের অংশ হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। কেকেআর কোচ (চান্দ্রাকান্ত পান্ডিত) আমার মধ্য প্রদেশ দলেও কোচ। তার সঙ্গে কথা বলছিলাম যে, কেকেআরে ফিরতে পারব কি না, এটা নিয়ে কতটা নার্ভাস আমি।”
“ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে এটা একটা বার্তা যে, চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলটার প্রতি তাদের মনোযোগ কতটা এবং ক্রিকেটারদের উন্নতি কীভাবে করতে চায় এবং ক্রিকেটারদের কতটা মূল্য তারা দেয়। আবার কেকেআর দলে থাকতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত এবং খুবই খুশি যে, এতটা আস্থা তারা আমার ওপর রেখেছে।”
ভেঙ্কাটেশকে পেতে কলকাতার এত প্রচেষ্টার পেছনে আরেকটি কারণও থাকতে পারে। শ্রেয়াস যেহেতু নেই, এবার অধিনায়কত্বের ভাবনায় প্রবলভাবে থাকবেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দায়িত্বটি পেলে লুফে নিতে প্রস্তুত ২৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“নিতিশ রানা যখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটে পড়েছিল, দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। দলের সহ-আধিনায়কও ছিলাম। সবসময়ই বিশ্বাস করেছি, অধিনায়কত্ব স্রেফ একটি তকমা। নেতৃত্ব ব্যাপারটি হলো দলে এমন একটি আবহ তৈরি করা, যেখানে সবাই এটা অনুভব করবে যে, তারা দলের জন্যই খেলবে এবং অবদান রাখবে।”
“আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে, সেটি নিতে খুশির চেয়েও আরও বেশি কিছু হব। আমরা একসঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টা করব এবং জয়ের অভিযান চালিয়ে যাব।”