১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমরানের মুক্তির দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মিয়াঁদাদ

সাবেক সতীর্থ ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে একজন সৎ মানুষ দাবি করেছেন জাভেদ মিয়াঁদাদ ।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মিয়াঁদাদ
ইমরান খান (বাঁয়ে) ও জাভেদ মিয়াঁদাদ। ছবি: রয়টার্স ও স্ক্রিনশট

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 07:00 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

কারাবন্দি পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানাতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না জাভেদ মিয়াঁদাদ। সাবেক সতীর্থকে একজন সৎ মানুষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার।  

ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার মধ্যেই মিয়াঁদাদ এসব মন্তব্য করেন। ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান। দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠিও পাঠান। একই দাবিতে গত ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন।

‘ন্যারেটিভ’ ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কান্নাভেজা চোখে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরানকে তিনি এত ভালোভাবে চেনেন যে, দেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের সততা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই তার।

“তিনি একজন সৎ মানুষ। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তা না হলে তিনি অনেক কিছুই করতে পারতেন। তাকে মুক্তি দিলে কী হবে? তিনি কি কাউকে খেয়ে ফেলবেন বা কারও ক্ষতি করবেন? তিনিও কারও সন্তান। আমি সব সময় ভাবি, তিনি সেখানে কী করছেন।”

পাকিস্তান জাতীয় দল ও কাউন্টি ক্রিকেটে ইমরানের সঙ্গে বছরের পর বছর খেলার অভিজ্ঞতা আছে মিয়াঁদাদের। ইমরানকে খুব কাছ থেকে দেখার কারণেই, এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে তার। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন ইমরান এখনও কেন কারাগারে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

ইমরানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকার কথা অস্বীকার করেন মিয়াঁদাদ। খেলার সময় ও পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল। তবে মিয়াঁদাদ বলেন, দেশের হয়ে খেলার সময় তাদের লক্ষ্য সব সময়ই এক ছিল।

ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মিয়াঁদাদ পরিষ্কার করে বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।” 

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান।

পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত। তার নেতৃত্বে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান।