সুরিয়াভানশিকে ‘গতিময় ও বাউন্সি’ উইকেটের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখলেন নিউ জিল্যান্ড কোচ
ভারতের এই আগ্রাসী কিশোর ব্যাটসম্যানের সামনে নিজ দলের বোলারদেরও পরখ করে দেখার অপেক্ষায় আছেন নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার।
আইপিএলে তো বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। কিন্তু নিউ জিল্যান্ডের মতো প্রতিকূল কন্ডিশন ও উইকেটে তার ব্যাটের তেজ কেমন থাকে, দেখতে মুখিয়ে আছেন নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার। ভারতের এই আগ্রাসী কিশোর ব্যাটসম্যানের সামনে নিজ দলের বোলারদেরও পরখ করে দেখতে অপেক্ষায় আছেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করা হয়নি এখনও। সুরিয়াভানশি অবশ্য স্কোয়াডে থাকবেন বলেই ধরে নেওয়া যায়। যদিও ম্যাচ কয়টি খেলবে পারবেন বা আদৌ সুযোগ পাবেন কি না, সেই সংশয় আছে অনেক।
গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে আন্তর্জাতিক অভিষেকে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে ভালো খেলতে পারেননি সুরিভানশি। পরে জিম্বাবুয়ে সফরে অবশ্য দেখা গেছে তার ব্যাটের দাপট। তবে সম্প্রতি দেশের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ও জাপান সফরে ওপেনিংয়ে আভিশেক শার্মা ও সাঞ্জু স্যামসনকেই বেছে নিয়েছে ভারত। এমনকি আফগানদের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার পরও সুরিয়াভানশিকে খেলানো হয়নি। কোচ গৌতাম গাম্ভির বলেছেন, সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে কিশোর ব্যাটসম্যানকে।
তবে ১৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে ঘিরে রোমাঞ্চের আনাগোনা থেমে নেই। সিরিজ শুরুর অনেক আগেই যেমন তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখলেন নিউ জিল্যান্ডের কোচ।
“দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেটে তাকে খেলতে দেখতে চাই আমি এবং দেখতে চাই যে ব্যাপারটা কতটা ভিন্ন দেখায়। তবে সে রোমাঞ্চকর ব্যাটসম্যান। আপনারা তাকে দেখেছেন আইপিএলে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে দাপট দেখাতে। আমার মনে হয়, আসল চ্যালেঞ্জটা হলো ভিন্ন পরিস্থিতিতে তার সেই দাপট কেমন হয়।”
অবশ্য শুধু সুরিয়াভানশিকেই নয়, নিজ দলের বোলারদেরও চ্যালেঞ্জটা দিলেন কোচ।
“আমাদের নিজেদের কন্ডিশনে আমরা তাকে কীভাবে বল করি, সেটাও দেখতে চাইব। একজন কোচ হিসেবে মনে মনে আপনি সবসময়ই দেখতে চান যে, আপনার ক্রিকেটাররা কিছুটা চাপের মধ্যে পড়লে তখন কীভাবে সাড়া দেয়। এখানে যদি তেমনটা হয়, আমি সেটার জন্য অপেক্ষায় আছি। তবে সে (সুরিয়াভানশি) এখানে না থাকলেও, তাকে ছাড়াও তাদের দলে আরও অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে।”
টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত এগিয়ে ১৭-১১ ব্যবধানে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও ভারতের কাছে পাত্তা পায়নি কিউইরা। ওয়াল্টারের এই অভিজ্ঞতা হলো টানা দুটি বিশ্বকাপে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি ভারতের কাছে হেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে।
তবে তার দল জয় আদায় করবে পারবে বলেই আশাবাদী কোচ।
“ফাইনালে হারতে কেউই পছন্দ করে না। আমি দুবার হেরেছি, তাই এ ব্যাপারে আমার ভালোই ধারণা আছে। কিন্তু আমার মতে, সবার আগে আসে এখন ব্ল্যাক ক্যাপস এবং নিউ জিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব ভালোভাবে করা। আমাদের এমন একদল ক্রিকেটার আছে, যারা সবসময় প্রথমে সেটাই করার চেষ্টা করে। অবশ্যই ঘরের মাঠে যদি কিছু জয় পাওয়া যায়, তাহলে তো দারুণ হবে।”
