Published : 18 Nov 2025, 12:14 AM
এএম গাজানফার, কাইস আহমেদ, নানগেয়ালিয়া খারোটে—আফগানদের বোলিং আক্রমণে দুর্দান্ত সব স্পিনার। কিন্তু সেই স্পিনারদের কাজে লাগানোর জন্য মোটামুটি কিছু রান তো লাগবে! তাদেরকে সেই পুঁজিই গড়তে দিল না বাংলাদেশ। পেস-স্পিনের যৌথভাবে আক্রমণে আফগান ব্যাটিং ধসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় আদায় করে নিল আকবর আলির দল।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান ‘এ’ দলকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমি-ফাইনাল প্রায় নিশিচত করে ফেলল বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
কাতারের দোহায় সোমবার আফগানরা গুটিয়ে যায় মাত্র ৭৮ রানেই। নতুন বলে দুর্দান্ত এক স্পেলে তিন উইকেট শিকার করেন রিপন মন্ডল। পরে নিখুঁত বোলিংয়ে চার ওভারে স্রেফ সাত রান দিয়ে তিন উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধে করতে পারেননি গাজানফারের স্পিনের সামনে। তবে এরপর আর উইকেট হারাতে হয়নি।
দোহার ওয়েস্ট এন্ড পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচে রানের জোয়ার বয়ে গেলেও এ দিনের উইকেট ছিল মন্থর। বল গ্রিপ করেছে পিচে, মিলেছে টার্ন। টস জিতে বোলিং নেওয়া বাংলাদেশকে সেই স্পিন মঞ্চেই দারুণ শুরু এনে দেন রিপন। আফগানদের বাজে শটের ভূমিকাও আছে সেখানে।
ম্যাচের দ্বিতীয় বলে ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি পান ইমরান মির। পরের বলেই উল্লাসের উপলক্ষ পান রিপন মন্ডল। আলগা শটে ইমরান ধরা পড়েন শর্ট ফাইন লেগে।
আরেকপ্রান্তে অফ স্পিনার এসএম মেহেরবকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে পাল্টা আক্রমণের আভাস দেন সেদিকউল্লাহ আটাল। কিন্তু রিপনের দ্বিতীয় ওভারেই বড় শটের চেষ্টায় বিদায় নেন আটাল ও নুর উল রেহমান।
তিন ওভারে তিন উইকেট হারানো দল রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকে। দ্বিতীয় ওভারের ছক্কাটির অবিশ্বাস্যভাবে পরের ১০ ওভারে আসেনি আর কোনো বাউন্ডারি!
মেহেরব ও রকিবুল সেই সময়টায় চেপে ধরেন আফগান ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ওভারে ৮ রান দেওয়া মেহেরব পরের তিন ওভারে ছয় রান দিয়ে শিকার করেন দুটি উইকেট।
প্রথম দুই ওভারে তিন রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন রকিবুল। পরের দুই ওভারে জোরের ওপর বল করে তিনটি উইকেট আদায় করে নেন তিনি।
অনেকটা সময় একপ্রান্ত আগলে রাখা আফগান অধিনায়ক দারভিশ রাসুলি ২৮ বলে ২৭ করে বোল্ড হন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের স্লোয়ার ডেলিভারিতে।
আফগানদের স্রেফ তিন ব্যাটসম্যান স্পর্শ করতে পারেন দুঅঙ্ক। শেষ ৫ উইকেটের পতন হয় তাদের ১৬ রানের মধ্যে।
বাংলাদেশের বোলারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দারুণভাবে কাজে লাগান অধিনায়ক আকবর আলি। তার মাঠ সাজানোও ছিল নজরকাড়া।
বোলারদের মধ্যে কেবল আবু হায়দারই ছিলেন খরুচে। আগের ম্যাচেও সবচেয়ে খরুচে ছিলেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই বোলারই।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের ওপেনারদের কাজ শুরুতে কঠিন করে তোলেন গাজানফার। তার প্রথম ওভারের পাঁচটি ডেলিভারি কিছু বুঝতেই পারেননি হাবিবুর রহমান সোহান। পরে খারোটেকে একটি ছক্কা মারতে পারলেও গাজানফারের বলে আউট হয়ে যান দৃষ্টিকটূভাবে। আগে ম্যাচ ৩৫ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ব্যাটসম্যান এবার ৯ রানে জীবন পেয়েও আউট হয়ে যান ১৩ বলে ১০।
আরেক আগ্রাসী ওপেনার জিসান আলমও করতে পারেন কেবল ১৬ বলে ১০।
গাজানফারের স্পেল শেষ হওয়ার পর অবশ্য স্বস্তি পায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। রান রেটের চাপ ছিল না। শুরুতে একটু সময় নিলেও পরে অনায়াসেই খেলা শেষ করে দেন জাওয়াদ আবরার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
দুই ছক্কায় ২২ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন জাওয়াদ, ৩০ বলে ২৭ রানে মাহিদুল।
দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ ‘এ’। আগের ম্যাচে ১১ ওভারেই ১৭১ রান তুলে ফেলায় রান রেটেও (৪.০৭৯) তারা এগিয়ে যোজন যোজন। শেষ ম্যাচে বুধবার শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের কাছে হারলেও তাই আকবরদের সেমি-ফাইনালে খেলা নিয়ে বাস্তব শঙ্কা নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান ‘এ’: ১৮.৪ ওভারে ৭৮ (ইমরান ৪, নুর ১, আটাল ৮, রাসুলি ২৭, ইজাজ ১২, খারোটে ০, শাফি ৬, কাইস ১২*, গাজানফার ১, আব্দোল্লাহ ০, সামি ০; রিপন ৪-০-১০-৩, মেহরব ৪-১-১৪-২, আবু হায়দার ৩.৪-০-৩৩-০, রকিবুল ৪-০-৭-৩, সাকলাইন ৩-০-১৩-১)।
বাংলাদেশ ‘এ’: ১৩.৩ ওভারে ৭৯/২ (সোহান ১০, জিসান ১০, জাওয়াদ ২৪*, মাহিদুল ২৭*; গাজানফার ৪-১-৮-২, সামি ১-০-৫-০, খারোটে ৪-০-২৯-০, কাইস ৩-০-১৪-০, আব্দোল্লাহ ১.৩-০-২১-০)।
ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিপন মন্ডল।