১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ কি পারত দুই অফ স্পিনার খেলাতে

পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই বাঁহাতি, সব মিলিয়ে একাদশে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সাত জন।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 May 2026, 08:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই বাঁহাতি, সব মিলিয়ে একাদশে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সাত জন। বাংলাদেশের একাদশে স্পিনার দুজন। তাদের একজন অফ স্পিনার, আরেকজন বাঁহাতি স্পিনার। স্কোয়াডে অফ স্পিনার আছেন আরেকজন। বাঁহাতি স্পিনারের বদলে দুজন অফ স্পিনারকে নিয়ে কি একাদশ সাজাতে পারত বাংলাদেশ? ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের দারুণ শুরুর পর প্রশ্নটি উঁকি দিচ্ছে। 

মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে। অভিষিক্ত বাঁহাতি ওপেনার আজান আওয়াইস দিন শেষ করেছেন ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে। ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে বাঁহাতি ইমাম-উল-হাক আউট হয়েছেন ৪৫ রানে। তিনে নেমে আরেক অভিষিক্ত বাঁহাতি আব্দুল্লাহ ফাজাল অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে।

পাকিস্তানের যে ব্যাটিং অর্ডার সাজানো আছে, সেখানে পরের দুটি নাম দুই বাঁহাতি অধিনায়ক শান মাসুদ ও সাউদ শাকিল। এরপর দুই ডানহাতি মোহাম্মাদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। পরের দুজন আবার বাঁহাতি, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নোমান আলি।

দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বোলিং ব্যর্থতার পেছনে তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরি ও নাহিদ রানার দিকেই আঙুল তোলা যায়। দিনের খেলা শেষে সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও বলেছেন এলোমেলো বোলিংয়ের কথা। তবে মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে তাইজুল হোসেন না থেকে নাঈম হাসান থাকলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বেশি কার্যকর হতে পারতেন কি না, এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের একমাত্র উইকেট যেটির পতন হয়েছে, সেটি নিয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজই।

নাঈমকে একাদশে রাখা যেত কি না, ম্যাচের বাস্তবতায় সামনের কদিনে আরও উচ্চকিত হতে পারে এই প্রশ্ন। দ্বিতীয় দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সহকারী কোচ সালাউদ্দিন অবশ্য বললেন, ভারসাম্যের কথা ভেবেই একাদশের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

“আসলে দলের শক্তি বুঝে আমাদের যেতে হয়। অনেক সময় ভাগ্যকে পক্ষে পাওয়া যায়, অনেক সময় পাওয়া যায় না। কারও বদলে তাকে (নাঈম) সুযোগ করে দেওয়ার চেয়ে আমার কাছে মনে হয় যে, সে এটা অর্জন নিক, এটাই আরও ভালো।”

“প্রত্যাশিত দলটা আমরা অনেক সময় পারি না করতে অনেক কারণে। দলের ভারসাম্যও আমাদের দেখতে হয়।  আবার যখন সে আসবে, তখন হয়তো সে ভালো করবে। সে চেষ্টা করছে, যখন সুযোগ আসবে, তখন খেলবে।”

নাঈম অবশ্য নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই একাদশে জায়গা দাবি করতে পারেন। সবশেষ টেস্ট খেলেছেন তিনি গত বছরের শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানে গল টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচটিসহ ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পরের টেস্টে একমাত্র ইনিংসে নিয়েছিলেন তিন উইকেট।

পাকিস্তানের বাঁহাতিদের একজন ইমামকেও প্রশ্ন করা হলো, আরেকজন অফ স্পিনার থাকলে তাদের কাজ কঠিন হতে পারত কি না। তবে তিনি বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে কথা না বলে নিজেদের কথাই বললেন। 

“আমি ঠিক নিশ্চিত নই। আমি যদি তাদের দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় থাকতাম, তাহলে হয়তো এটা নিয়ে বলতাম। এখন যেহেতু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র চলছে, তাই আমরা অনেক কিছু নতুন করে শুরু করছি। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরমাররা সুযোগ পেয়েছে এবং বাংলাদেশ ভালো করেছে। এতজন বাঁহাতি নিয়ে নামা পাকিস্তানের জন্য নতুন রেকর্ড অবশ্যই এবং আমাদের জন্য ভালো।”