১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইংল্যান্ডকে সেরা জায়গায় নিতে চান নিউ জিল্যান্ডের দুই বন্ধু

ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বললেন, টেস্ট দলের কোচ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে তারা এগিয়ে নেবেন ইংলিশ ক্রিকেটকে।

ইংল্যান্ডকে সেরা জায়গায় নিতে চান নিউ জিল্যান্ডের দুই বন্ধু
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও স্টিভেন ফ্লেমিং যখন আইপিএলে কোচিং করাচ্ছিলেন। ছবি: বিসিসিআই।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Aug 2026, 11:41 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

দুজনের বন্ধুত্বের শুরু খেলোয়াড়ি জীবনে। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে ঘনিষ্ঠতা। খেলা ছাড়ার পর দুজনই নাম লিখিয়েছেন কোচিংয়ে এবং দুজনের পথ গেছে বেঁকে। তবে সময়ের প্রবাহে সেই পথ এখন আবার মিলে গেছে দারুণভাবে। ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের কোচের দায়িত্বে অনেক দিন ধরেই আছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। লাল বলের কোচের দায়িত্ব তার কাছ থেকেই নিতে চলেছেন স্টিভেন ফ্লেমিং। ম্যাককালাম বললেন, প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে এগিয়ে নেবেন ইংলিশ ক্রিকেটকে ।

‘বাজবল’ দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দেওয়ার পর সম্প্রতি শেষ হয়েছে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হিসেবে ম্যাককালামের পথচলা। সেই ভার পেয়েছেন পরে ফ্লেমিং। ১৮ বছর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের কোচের দায়িত্বে থাকার পর প্রথমবার কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিলেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক।

খেলোয়াড়ি জীবনে দুজন ছিলেন দুই প্রজন্মের। তবে ফ্লেমিংয়ের ক্যারিয়ারের শেষ ভাগ আর ম্যাককালামের ক্যারিয়ারের শুরুর ভাগ মিলে গিয়েছিল। দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। দুই সময়ে নেতৃত্বও দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডকে।

১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিন সংস্করণে নিউ জিল্যান্ডকে রেকর্ড ৩০৩টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্লেমিং। ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ম্যাককালাম দায়িত্বে ছিলেন ১২১ ম্যাচে। 

অনেকের চোখেই নিউ জিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক ফ্লেমিং। আগ্রাসনের সঙ্গে পরিমিতিবোধ মিলিয়ে তার নেতৃত্ব ছিল নজরকাড়া। আগ্রাসী অধিনায়কত্বকেই পরে নতুন উচ্চতায় তুলে নেন ম্যাককালাম। অধিনায়ক হিসেবেও তিনিও দারুণভাবে নাড়া দেন ক্রিকেট বিশ্বে।

নিউ জিল্যান্ডের দুই রত্ন এখন যৌথভাবে কাজ করবেন ইংলিশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে। স্কাই স্পোর্টসকে বৃহস্পতিবার ম্যাককালাম বললেন, ফ্লেমিংয়ের সামর্থ্যে তার আস্থা প্রবল। 

“(টেস্ট কোচ হিসেবে) আমার চার বছর দারুণ কেটেছে। এখন এটি (টেস্ট দল) ভিন্ন দিকে যাচ্ছে এবং আমি মনে করি, ফ্লেম (ফ্লেমিং) দুর্দান্ত কাজ করবে। সে কিছুটা আমার মতোই, কিন্তু আরও ভালো – এভাবেই তাকে বর্ণনা করব।

সে দারুণ কাজ করবে এবং তার মতো একজনকে এই সময়টার জন্য ইংলিশ ক্রিকেটের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করতে পেরে অবিশ্বাস্যভাবে ভালো কাজ করেছে ইসিবি। অসাধারণ অর্জন বলব এটিকে।”

কদিন পরই দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। পারিবারিক কারণে এখনই দািয়ত্ব শুরু করতে পারছেন না ফ্লেমিং। সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিক আপাতত সামলাবেন দায়িত্ব। আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে শুরু হবে ফ্লেমিংয়ের চ্যালেঞ্জ। 

ম্যাককালামের বিশ্বাস, ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে মিলে ইংলিশ ক্রিকেটকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় তুলে নিতে পারবেন। 

“আমরা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ, প্রায় প্রতিদিনই কথা বলি। একসঙ্গে আমরা অনেক কাজ করেছি এবং সে এমন একজন, যাকে আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করি। ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য যা সেরা, আমরা দুজনেই তা চাই।

আমরা এমনভাবে কাজ করতে চাই, যাতে ইংলিশ ক্রিকেট তিনটি সংস্করণেই সফল হতে পারে। মাঝে মাঝে এর জন্য কিছুটা বোঝাপড়া করতে হবে, আমরা দুজনেই তা বুঝি। তবে আমরা খুব নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করব এবং সবাই যে সাফল্য দেখতে চায়, তা অর্জনের জন্য প্রত্যেককে সেরা সুযোগ দেব।”

কোচের পাশাপাশি সম্প্রতি পরিবর্তন এসেছে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়কেত্বও। বেন স্টোকসের আচমকা অবসরের পর নেতৃত্বে ফিরেছেন জো রুট। যদিও অনেকের ধারণা ছিল, সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক পেতে পারেন দায়িত্বটি। তবে সাদা বলের দলের অধিনায়কের ওপর এখনই লাল বলের ভার চাপিয়ে দিতে চায়নি বোর্ড। 

ম্যাককালামও সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। তিনি বললেন, একসময় টেস্ট দলের নেতৃত্বেও নিশ্চিতভাবেই দেখা যাবে ব্রুককে। 

“হ্যারির প্রতি আমার আমার অনুরাগের কথা সবারই জানা। অসাধারণ ক্রিকেটার সে এবং সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে চমৎকার কাজ করছে। আমার মনে হয়, টেস্ট দলেও তার সময় আসবে।

আমি তার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি এবং আশা করি এমন নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব, যেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা তার আছে। ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে এই ভূমিকায় তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্যই থাকবে। তবে আপাতত, জো (রুট) এখানে অসাধারণ কাজ করবে।”