২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শান্তর সেঞ্চুরি, রাকিবুলের ৪ উইকেটে শিরোপার এক ধাপ দূরে আবাহনী

বাকি থাকা তিন ম্যাচের একটি জিতলেই আরও একবার শিরোপা উল্লাসে মাতবে আবাহনী লিমিটেড।

শান্তর সেঞ্চুরি, রাকিবুলের ৪ উইকেটে শিরোপার এক ধাপ দূরে আবাহনী

তিন ইনিংসের মধ্যে দ্বিতীয় ঝড়ো সেঞ্চুরি করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Apr 2024, 05:55 PM

Updated : 25 Apr 2024, 07:54 PM

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবার অপ্রতিরোধ্য আবাহনী লিমিটেডকে থামানোর কোনো দল যেন নেই। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে উড়িয়ে টানা ১৩ জয়ে শিরোপার নিঃশ্বাস ছোঁয়া দূরত্ব পৌঁছে গেল ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলটি।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ১৭১ রানে জিতেছে আবাহনী। ৩৪৩ রানের পুঁজি নিয়ে গাজী গ্রুপকে ১৭২ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

প্রাথমিক পর্বে অপরাজিত থাকা আবাহনী এবার সুপার লিগে পেল টানা দ্বিতীয় জয়। প্রিমিয়ার লিগে ২২তম শিরোপা জিততে বাকি তিন ম্যাচের স্রেফ একটি জিতলেই হবে তাদের।

শেষ তিন ম্যাচে অবশ্য অনেকটাই শক্তি হারাবে আবাহনী। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবেন ক্লাবটির ১০ ক্রিকেটার। তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেঞ্চের ক্রিকেটারদের নিয়েই শিরোপার জয়ের বাকি কাজটুকু সারতে হবে তাদের।

ফতুল্লায় গাজী গ্রুপের বিপক্ষে সাড়ে তিনশ ছুঁইছুঁই স্কোর গড়ার কারিগর নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৪ বলে ১০১ রানের সৌজন্যে আবাহনী অধিনায়কের হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ৪ উইকেট নিয়ে বড় অবদান রাখেন বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নেন আবাহনীর দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও লিটন কুমার দাস। প্রথম পাওয়ার প্লেতে আসে ৩৭ রান।

Image

শেষ দিকে ঝড়ো জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন।

দ্বাদশ ওভারে পূর্ণ হয় দলের পঞ্চাশ। চতুর্দশ ওভারে ভাঙে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। 

নিয়মিত এক-দুই রান নিতে ব্যর্থ হন নাঈম, বেশ কিছু ডেলিভারিতে রান নিতে পারেনি তিনি। ৫ চার ও ১ ছক্কা মারার পরও ৫২ বলে তার রান কবল ৩৩।

২৭ রানে জীবন পেয়েও বেশি কিছু করতে পারেননি লিটন। একই ওভারে আবার ছক্কার চেষ্টায় ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন তিনি। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ বলে করেন ৩৩ রান। 

এরপর রানের গতি বাড়ান শান্ত ও এনামুল। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১০২ বলে গড়েন তোলেন ১৩০ রানের জুটি। দুজনকেই অবশ্য দ্বিতীয় জীবন দেন গাজী গ্রুপের ফিল্ডাররা। সুযোগ পেয়ে দুজনই ছাড়িয়ে যান পঞ্চাশ।

৩ চার ও ৪ ছক্কায় স্রেফ ৩২ বলে ফিফটি করেন এনামুল। এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি। ফয়সাল আহমেদের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল দূর থেকে তাড়া করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন তিনি ৫ ছক্কায় ৫১ বলে ৬৮ রান করে।

শান্ত প্রথম পঞ্চাশে এগিয়ে যান ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে। ২৭তম বলে প্রথম বাউন্ডারি মারা আবাহনী অধিনায়ক ফিফটি করেন ৬১ বলে। এরপর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। স্রেফ ২১ বলে করে ফেলেন পরের পঞ্চাশ রান। 

চলতি লিগে তিন ইনিংসে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এটি। সব মিলিয়ে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের দ্বাদশ। ৮ চার ও ৬ ছক্কার ইনিংসটি থেমে যায় শতরান পেরিয়েই। ডিপ মিড উইকেটে ওয়াসি সিদ্দিকি নেন দুর্দান্ত ক্যাচ।  

অধিনায়কের বিদায়ের পর জাকের আলিও পারেননি বেশি কিছু করতে। পরে ইনিংসের বাকিটা টেনে নেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে স্রেফ ৩৪ বলে ৫৭ রান যোগ করেন তারা। 

চলতি লিগে পাঁচবার ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে হৃদয়র করেন ৪০ বলে ৫৮ রান। ৩ চারের সঙ্গে তিনি ছক্কা মারেন ৪টি। লিগের পাঁচ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৩১৩ রান। গড় ১৫৬.৫০, স্ট্রাইক রেট অবিশ্বাস্য, ১৫৯.৪৯! 

মোসাদ্দেক ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৭ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। আবাহনীতে এক যুগ পূর্ণ করায় ম্যাচ শেষে তাকে বিশেষ ব্লেজার ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই আনিসুল ইসলামকে বোল্ড করে দেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। শুরুর ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন হাবিবুর রহমান। খালেদের বলে দুই চারের পর তিনি তানজিম হাসানের বলে মারেন জোড়া ছক্কা।

বিপজ্জনক হওয়ার আগেই হাবিবুরকে ফেরান মোসাদ্দেক। ৪ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ৩৪ বলে ৩৮ রান করেন তরুণ টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান। আরেক ওপেনার পিনাক ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ১৯ রান। 

Image

চার উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার রাকিবুল হাসান। 

এরপর হাল ধরেন পাঁচ নম্বরে নামা সাব্বির হোসেন শিকদার। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সমর্থন পাননি তিনি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ড্রেসিং রুমে ফেরেন তিনি ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৬৮ বলে ৬২ রান করে। দল গুটিয়ে যায় ৩৫.১ ওভারেই।

দিনের অন্য ম্যাচে মোহামেডান হেরে গেলে এ দিনই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত আবাহনী। তবে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচটি ৩৩ রানে জিতে যায় মোহামেডান। আবাহনীর তাই অপেক্ষা অন্তত আরেকটি ম্যাচের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী লিমিটেড: ৫০ ওভারে ৩৪৩/৫ (নাঈম ৩৩, লিটন ৩৩, শান্ত ১০১, এনামুল ৬৮, হৃদয় ৫৮*, জাকের ১১, মোসাদ্দেক ৩৩*; রুয়েল ১০-০-৭৯-১, মাসুম ১০-০-৪৯-০, মইন ৫-০-৩১-০, শেখ ৯-১-৫০-২, আওলাদ ৯-১-৭৫-১, ফয়সাল ৫-০-৪১-১, আনিসুল ২-০-১৬-০)

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ৩৫.১ ওভারে ১৭২ (পিনাক ১৯, আনিসুল ০, হাবিবুর ৩৮, প্রিতম ১৮, সাব্বির ৬২, ফয়সাল ৫, মইন ১৪, পারভেজ ৮, মাসুম ১, আওলাদ ০, রুয়েল ০*; খালেদ ৩-০-২১-১, তানভির ৭.১-১-২০-১, তানজিম ৫-০-৫৩-২, মোসাদ্দেক ১০-০-৩৪-২, রাকিবুল ১০-১-৪৪-৪)

ফল: আবাহনী লিমিটেড ১৭১ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত