২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়িয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে চোখ বাংলাদেশের

গত আসরের সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হারার পর এবার শেষ চারে তাদের মুখোমুখি হতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 05:49 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

আনুষ্ঠানিক ফটো সেশনের আগে বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ক্রিকেটাররা। নিজেদের মধ্যে তখন হাসি, মজা, খুনসুটিতে মেতে উঠেছিলেন ক্রিকেটাররা। সবার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। কোনো সিরিজ-টুর্নামেন্টের আগে অবশ্য এমন ‘সুখী পরিবারের’ চিত্র নিয়মিতই চোখে পড়ে। ছবি বদলে যায় ফেরার সময়। তবে উইমেন’স এশিয়া ও এশিয়ান গেমসে শেষে ফেরার সময় এই হাসিটাই ধরে রাখতে চান ক্রিকেটাররা।

সেই চাওয়া পূরণের পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা ভারত। কখনও প্রাথমিক পর্বে, কখনও সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছে বারবার। শক্তি-সামর্থ্যে ভারত আসলে শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার অন্য সব দলের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। এবার এশিয়া কাপে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে চান নিগার সুলতানা। সেমি-ফাইনালে তাই ভারতের সামনে পড়তে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। 

অভাবনীয় সাফল্যের ২০১৮ আসর ছাড়া এশিয়া কাপের বিভিন্ন আসরে ভারতের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ। তবে নিগারের মতে ক্ষত হয়ে আছে সাম্প্রতিক অতীত। গত এশিয়া কাপের সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে উড়ে যায় তার দল। ২০২৩ এশিয়ান গেমসেও মেনে নিতে হয় একই পরিণতি। 

এবার এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই হতাশা লুকাননি অধিনায়ক। পাশাপাশি শুনিয়েছেন এবারের লক্ষ্য। 

“এবার আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ফাইনাল খেলা। কারণ আমরা সেমি-ফাইনাল খেলি, বাদ পড়ে চলে আসি। বারবার এই জিনিসটাই হচ্ছে, আমরা এই বাধাটা এবার ভাঙতে চাই।”

তিক্ত অভিজ্ঞতার যেন পুনরাবৃত্তি আবার না হয়, সেটাই চাওয়া ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের। এজন্য গ্রুপ পর্বের ছকও মাথায় সাজিয়ে নিয়েছেন তিনি। 

“শেষবার (এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব) আমরা ভালো খেলতে পারিনি। গ্রুপপর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পড়েছিলাম। তাই সেমি-ফাইনালটা পার করতে পারছি না। আমাদের ফাইনাল খেলার ইচ্ছা আছে। ফাইনাল খেললে তখন শিরোপা জয়ের বিষয় থাকে।” 

“গ্রুপ পর্বের খেলাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যখন গ্রুপে ভালো খেলবেন, যদি গ্রুপ পর্বে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারি, সে ক্ষেত্রে ভারতের মুখোমুখি হতে হবে না সেমি-ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতি হয়ে যায় সেমি-ফাইনালগুলোতে। ওই দিক থেকে তুলনামূলকভাবে যদি পাকিস্তানকে পাই গ্রুপ থেকে, আমাদের জন্য বেটার হবে ফাইনালে খেলা।”

গত এশিয়া কাপে গ্রুপে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গ্রুপ রানার্স আপ হওয়ায় সেমি-ফাইনালে ভারতকে পেয়ে গিয়েছিল নিগারের দল। সেখানে হেরেছিল ১০ উইকেটে। ভারত অবশ্য পরে ফাইনালে হেরে গিয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার কাছে। 

নিগারের বিশ্বাস, টপ অর্ডার ব্যাটিং ভালো হলে শিরোপার লড়াইয়ে থাকতে পারবে তার দল। 

“ধাপে ধাপে আমরা পরিকল্পনা করছি। দল হিসেবে ব্যাটিংটা মোটামুটি ভালো হয়েছে। বিশেষ করে টপ অর্ডার যদি ভালো ব্যাটিং করতে পারে এই টুর্নামেন্টে, আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে ফাইনাল খেলার।”

গত জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। সিলেট ও ঢাকায় দুই দফা প্রস্তুতি ক্যাম্পের পর সম্প্রতি নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন তারা। এই প্রস্তুতিকেই সামনের দুই টুর্নামেন্টের জন্য যথেষ্ট ভাবছেন অধিনায়ক।

“প্রস্তুতি অনেক ভালো হয়েছে। কারণ আমরা অনেকগুলো প্রস্তুতি ম্যাচ এবার খেলেছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেহেতু সবগুলো ম্যাচ, আমরা দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি এই জায়গায় (মিরপুরে)। প্রস্তুতির দিক থেকে আমি মনে করি খুব ভালো ছিল।” 

২০১৮ এশিয়া কাপে ভারতকে প্রাথমিক পর্বে হারিয়ে পরে ফাইনালেও হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এখনও পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটে ছেলে-মেয়ে মিলিয়েই সবচেয়ে বড় ট্রফি সেটি। ওই আসরের আগ পর্যন্ত এশিয়া কাপের ছয় আসরে একটিও ম্যাচ হারেনি ভারত।

তবে সাফল্যের সেই আসরের পর আর এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছতে পারে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে এবারের এশিয়া কাপ শুরু আগামী শুক্রবার। বাংলাদেশ দল দেশ ছাড়বে বুধবার।

এশিয়া কাপ শেষে সরাসরি এশিয়ান গেমস খেলতে জাপানে যাবে দল। দুই টুর্নামেন্টের জন্য স্কোয়াড একই। এশিয়ান গেমস শুরু আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে ক্রিকেটের লড়াই শুরু হয়ে যাবে ১৭ সেপ্টেম্বর।

নিগারের বিশ্বাস, এশিয়া কাপে ভালো করতে পারলে এশিয়ান গেমসেও সেটির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

“প্রথমে এশিয়া কাপ। এশিয়া কাপে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, এশিয়ান গেমসে সেটার প্রতিফলন অবশ্যই পড়বে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে দুটো টুর্নামেন্টেই আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে।”

এশিয়ান গেমসের তিন আসরে খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা তিনবারই কোনো না কোনো পদক জিতেছে। ২০১০ ও ২০১৪ সালে জিতেছিল রুপা, ২০২৩ আসরে ব্রাঞ্জ। এবার অধরা সোনার পদকে চোখ রাখছেন নিগার।

“এশিয়ান গেমস নিয়ে যদি কথা বলেন, পদকের জন্য যাওয়াই প্রথম লক্ষ্য। সবশেষবার আমরা ব্রোঞ্জ পেয়েছিলাম, রৌপ্য পেয়েছিলাম ২০১০ সালে। এসএ গেমসে (এশিয়ান গেমস) গিয়ে হয়তোবা ব্রোঞ্জ (রুপা) পেয়েছি, যেটা চীনে খেলেছি। আমাদের দলের উপর অনেক আশা আছে মানুষের। একটা মেডেল যেন নিয়ে আসতে পারি এবং সেটা যদি স্বর্ণ পদক হয়, সেটা আরও বেশি বড় হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে।”