ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হল ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এ মেলায় অংশ নেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার শেষ হয়েছে।
এতে বিভিন্ন খাতের ৮০টি স্বনামধন্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল নেসলে, বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, মেঘনা গ্রুপ, বিএসআরএমসহ দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান।
ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার শেষ হয়েছে মঙ্গলবার।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনের অংশ হিসেবে অফিস অব ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস এ মেলার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই চাকরির মেলায় শিক্ষার্থীরা চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত জমা, সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং ক্যারিয়ার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এ মেলায় অংশ নেন।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মাসুদ খান। তিনি বলেন, “কর্মজীবন একটি ম্যারাথন দৌড়ের মত। এখানে কোনো শর্টকাট নেই। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানই আমাদের ভিত্তি। পাঠ্যবই ও গবেষণায় প্রকাশিত জ্ঞান বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। তাই আমরা যা শিখেছি, সেটাই আমাদের জ্ঞানের ভিত্তি।”
ক্যারিয়ার মেলার দ্বিতীয় দিন ‘ফ্রম আর্লি ক্যারিয়ার টু ফিউচার লিডার: বিল্ডিং আ ক্যারিয়ার দ্যাট ক্রিয়েটস ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় এক সন্ন্যাসীর গল্প তুলে ধরেন বার্জার পেইন্টসের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর রুপালী হক চৌধুরী। তার গল্পের সন্ন্যাসী প্রতিদিন ভোরে থালা-বাসন ধোয়ার একঘেয়েমির মধ্যেও ওই নিজের কাজের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি ভাবতেন, তার এই কাজ অন্যদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করছে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। কখনো হতাশ হতে হবে, কখনো প্রত্যাখ্যাত হতে হবে। তবে এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
“মনে রাখবেন, কঠিন সময়ই আপনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।”
প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস বিভাগের পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ।
তিনি বলেন, “নতুন দক্ষতা শিখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নতুন পদ্ধতিও জানতে হবে। এভাবে হয়তো ২০ বছর পরও কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখা সম্ভব হবে। তবে আগামী দুই, তিন, এমনকি পাঁচ বছর পর পরিস্থিতি কেমন হবে, তা অনুমান করা কঠিন।”
এর আগে দিনের ‘মিট দ্য সিইও’ সেশনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সিটি ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, “কোনো ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও সার্বিক কর্মপরিবেশ বিবেচনা করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তাই আপনাদের নিজেদের ও নিজেদের বাবা-মায়ের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
মেলার বিভিন্ন সেশনে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড, সিটি ব্যাংকের ডিএমডি, চিফ ইকোনমিস্ট ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. আশানুর রহমান, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি ও সিইও রিজওয়ান দাউদ সামস, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেসের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার শারমিন সুলতান ও চিফ সলিউশনস আর্কিটেক্ট শাহ আলী নেওয়াজ তপু, আইএইচএইচ হেলথকেয়ারের এইচআর অ্যান্ড অপারেশন্স এর ডিরেক্টর তৌফিকা ইরফান এবং প্রিমিয়াম সুইটসের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহরিয়ার রহমান। তারা মেলার বিভিন্ন সেশনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
