১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে ইউআইইউ শিক্ষার্থীকে পিটুনি, স্থায়ী বহিষ্কার

“বিক্ষুব্ধরা খুব মারমুখী ছিল। তাকে পারলে মেরেই ফেলত। ক্যাম্পাসে পুলিশ এলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Oct 2025, 07:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রাজধানীর সাতারকুলের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-ইউআইইউয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘মারধর করেছে’ বিক্ষুব্ধরা। 

মো. মোনসের আলী নামের ওই শিক্ষার্থীকে সোমবার বিকালে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ‘মারধরে আহত’ ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বাড্ডা থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক শিক্ষার্থী নবীজীকে (সা) নিয়ে কটূক্তি করেছে অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুরে মারধর করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। 

“খবর পেয়ে আমরা ক্যাম্পাসের সামনে এসে অবস্থান নিয়েছি। এখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তবে ঘটনার বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। 

ইউআইইউ জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক আবু সাদাত মোস্তাসির বিল্লাহ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছেই একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোনসের আলী। 

“বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে তাৎক্ষণিক স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছেন। স্থায়ী বহিষ্কারের খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চলে গেছে। এখন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. জুলফিকার রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে মোনসের আলীকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। সোমবার শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে লেখা হয়েছে নোটিসে।

তৌফিক তানিমুল নামে একজন শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই শিক্ষার্থী (মোনসের) সাঁতারকুলে একটা মেসে থাকে। সেখানে সে নবীজীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তার আপত্তিকর কথাবার্তা রেকর্ড করে রুমমেটরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দিয়েছে। 

“দুপুরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়, পরে তাকে পেয়ে মারধর করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে শুনেছি। বিক্ষুব্ধরা খুব মারমুখী ছিল। তাকে পারলে মেরেই ফেলত। ক্যাম্পাসে পুলিশ এলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”