১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংস্কৃতিক চর্চার হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে পারবে ডাকসু?

নব্বই সালের পর ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত হয়ে গেলে এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চাতেও পড়ে; হলকেন্দ্রিক সাংষ্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই ঝিমিয়ে যায়।

সাংস্কৃতিক চর্চার হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে পারবে ডাকসু?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোকসজ্জায় বর্ণিল টিএসসি

আরফাতুল ইসলাম নাইম আরফাতুল ইসলাম নাইম

পাভেল রহমান পাভেল রহমান

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 07:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:17 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দশকের ছাত্রদের একজন বুদ্ধদেব বসু। ১৯২৭ সালে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন, থাকতেন জগন্নাথ হলে। সেসময় তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘বাসন্তিকা’ বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন তুলেছিল।

১৯৯১ সালে ডাকসুর একটি প্রকাশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লিখেছিলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে তিনটি আবাসিক হল স্থাপিত হয়– মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল। হলগুলোই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। এগুলো ছিল একাধারে ছাত্রদের আবাসস্থল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের আশ্রয় এবং টিউটোরিয়াল-ব্যবস্থার ভিত্তিভূমি।

“শুরুতে ছাত্র সংখ্যা অধিক ছিল ঢাকা হলের। খেলাধুলায় এ হলের খুব নাম ছিল। জগন্নাথ হলের ছাত্র-সংসদের এক কৃতিত্ব ছিল নাট্যাভিনয়, আরেক কৃতিত্ব ছিল তাদের হল-বার্ষিকী ‘বাসন্তিকা’র সাহিত্যমূল্য। এ কথা এখন স্বীকার করা হয় যে, রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে যে আধুনিকতা দেখা দেয়, তার সূচনা হয়েছিল ‘বাসন্তিকা’য়।”

ঊনিশশ ষাট ও সত্তরের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাংস্কৃতিক উৎসব, নাট্য প্রতিযোগিতার আয়োজন হতে দেখা যেত। নব্বইয়ের দশকেও দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ডাকসুর সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাট্য সংগঠক ম. হামিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডাকসুতে আমি সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছিলাম ১৯৭২ সালে; তখনো হলকেন্দ্রিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব হয়েছে। আমাদের সময়ই ‘অপরাজেয় বাংলা’ তৈরি করা হয়েছে।”

১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষে ডাকসুতে সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী। তিনি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ে শিক্ষকতাও করেছেন।

অধ্যাপক নিরঞ্জন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সময় তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ হত। এছাড়া সাংস্কৃতিক উৎসব, নাটক, আবৃত্তি, বিতর্কের আয়োজন হত।”

নব্বই সালের পর ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত হয়ে গেলে এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চাতেও পড়ে; হলকেন্দ্রিক সাংষ্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই ঝিমিয়ে যায়।

ছয় বছর পর ডাকসু নির্বাচন ঘিরে এখন ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন প্যানেলে থাকা প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি; আসছে সংস্কৃতির উন্নয়নের প্রসঙ্গও। 

এবারের ডাকসু নির্বাচনে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কতটা ফেরাতে পারবেন? সেই উত্তর খুঁজেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে টিএসসির ক্লাবকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক চর্চা

অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে টিএসসির ক্লাবকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক চর্চা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। সে কারণেই ডাকসুকে কেউ কেউ দেখেন ‘দ্বিতীয় সংসদ’ হিসেবে।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ডাকসু নেতারা।

তবে স্বাধীন দেশে ডাকসু সেই লড়াকু বৈশিষ্ট্য খুব বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ার কারণে ঝিমিয়ে পড়া ডাকসুর সবশেষ নির্বাচনেও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি বলে মনে করেন কেউ কেউ।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাকসু নেতাদের অংশগ্রহণ থাকলেও পরবর্তী সময়ে ডাকসু উদ্যম হারায়। এবারের ডাকসু নির্বাচনে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদের প্রার্থীদেরস সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করবেন। 

 ‘তারুণ্যের উৎসব’ করবে ছাত্রদল, ‘নিজস্ব সংস্কৃতি’র বিকাশ চায় শিবির

বৈচিত্র্যময় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাঙ্গন গড়তে নৃগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করাসহ সাংস্কৃতিক চর্চার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

তারা বলছে, নাটক, শর্ট ফিল্ম, ফটোগ্রাফি, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সৃজনশীল লেখা ও চলচ্চিত্র নির্মাণসহ শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া করা হবে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় হল ও বিভাগভিত্তিক প্রতিটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রীড়া সংগঠনের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করা হবে।

ক্যাম্পাস ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক চক্র দমন, সুস্থ বিনোদন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়ক গান-বাজনা, সুস্থ বিনোদনমূলক বিতর্ক, কমেডি, এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও তারা করতে চায়।

সেজন্য প্রতিবছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারুণ্যের উৎসব’ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ছাত্রদল।

অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ বলছে, তারা ‘সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্যবাদ’ মোকাবিলায় এ অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করবে।

সিনেপ্লেক্স বানাবে ‘বাগছাস’, হলকেন্দ্রিক চর্চা বাড়াবে ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’

১৯৮১-৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে রোকেয়া হলের অডিটোরিয়াম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছবি: নিমা খান

১৯৮১-৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে রোকেয়া হলের অডিটোরিয়াম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ প্যানেল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে¬- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে মিউজিয়াম এবং কালচারাল সেন্টার তৈরি করা। ১৮টি হলের টিভি রুমকে ‘আধুনিক করে মিনি সিনেপ্লেক্সে’ রূপান্তর করা এবং একটি সেন্ট্রাল সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা। আধুনিক গেইমসরুম এবং জিমনেশিয়াম স্থাপন করা।

সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ডিবেটিং ক্লাব, গবেষণা ক্লাবসহ অন্যান্য কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিস সম্পর্কিত ক্লাবগুলোকে ‘যুগোপযোগী’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং টিএসসিকেন্দ্রিক ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে সাত বাম সংগঠন সমর্থিত প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ বলছে, তারা নির্বাচিত হলে- হলগুলোতে নৃত্যকলা, নাট্যকলা, সংগীত এবং চারুকলার শিক্ষার্থীদের চর্চার জন্য আলাদা রুমের সুব্যবস্থা করবে। 

তাদের ইশতেহার বলছে, হল অডিটোরিয়ামগুলোকে সংস্কার এবং সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার হবে। হল-অনুষদে নিয়মিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক আড্ডার আয়োজন করা হবে। সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা হবে। সাহিত্য-শিল্প বিষয়ক বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থাও করবে। 

এছাড়া প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসবের আয়োজন করা হবে এবং ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের সংস্কৃতি তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক আয়োজন করবে।

সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের’

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল। তারা বলেছে ধর্মীয় উৎসবের দিন ও আগে-পরে দুই দিন কোনো পরীক্ষা না রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসবের দিনগুলোকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তাদের ইশতেহারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য, নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি স্থায়ী প্রশাসনিক কমিটি গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রার্থনার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় উপাসনালয় নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকরা: প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের ফারিয়া মতিন (ইলা), ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন প্যানেলের নুরুল ইসলাম সাব্বির, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের অনিদ হাসান এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের নাহিয়ান ফারুক। 

সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকরা: প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের ফারিয়া মতিন (ইলা), ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন প্যানেলের নুরুল ইসলাম সাব্বির, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের অনিদ হাসান এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের নাহিয়ান ফারুক।

বাস্তবায়ন কীভাবে, কী বলছেন প্রার্থীরা?

‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছেন ফারিয়া মতিন (ইলা)। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের ইশতেহারটা যদি লক্ষ্য করেন, সেখানে দেখবেন আঞ্চলিক সাহিত্যকে ঘিরে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার কথা বলেছি।

“আর আমার ব্যক্তিগত ইশতেহারে যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, সেখানে প্রশাসনিক হেল্পের দরকার নাই। এগুলো আমি ব্যক্তি উদ্যোগে এবং আমার সহযোদ্ধাদের নিয়েই বাস্তবায়ন করতে পারব। যেহেতু এই ক্যাম্পাসে আমি আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি, এজন্য আমার পক্ষে কাজগুলো করা কঠিন হবে না বলে মনে করি।”

ছাত্রশিবিরের নেত্বত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ এর প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাব্বির। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “আমি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলে শুরুতেই ফ্যাসিবাদের যে কাঠামো, সেটাকে অবসান ঘটাতে চাই। পাশাপাশি একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।”

একবছরে সেটা কতটা সম্ভব হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একবছরে তো পুরোপুরি হয়ত সম্ভব হবে না। তবে আমরা একটা ভিত্তি তৈরি করতে পারব, সেই কাজের রেওয়াজ চালু করে যাব।”

সাংস্কৃতিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শন- তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী অনিদ হাসান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান যে সংস্কৃতি, তার সাথে পুরনো সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে। এখানে একসাথে যেমন পুঁথি পাঠ, পুতুলনাচের মত পুরনো- হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি চালু হবে. পাশাপাশি মুসলিম ছেলে-মেয়েদের জন্য আমি হামদ, নাত ও গজলের আয়োজন করব।”

সেইসঙ্গে ক্যালিওগ্রাফি চর্চা নিয়েও কাজ করতে চান অনিদ হাসান।

তিনি বলেন, “আমি তো একবছরের রোডম্যাপ হাতে নিয়ে নেমেছি। তাই আমি মনে করি এক বছরে আমাদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

“আপনি শিক্ষার্থীদের মাছ ধরে খাওয়ালে, সে প্রতিদিন খেতে পারবে, আপনি একবার মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে আর ধরে খাওয়াতে হবে না। এজন্য শিক্ষার্থীরা মাছ খাওয়ানোর চেয়ে ‘মাছ ধরাটা’ শেখাতে চাই।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ-বাগছাস এর প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সম্পাদক পদে লড়ছেন নাহিয়ান ফারুক। তিনি মনে করছেন, তাদের দেওয়া ইশতেহার- এক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

“আমরা যে প্রতিশ্রতিগুলো দিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়নে কোটি কোটি টাকা বা বিশাল কোনো কিছু করতে হবে- সেরকম না। আর আমি গত ছয় বছর ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেছি। তাই আমি জানি কোথায় কী সমস্যা। তাই আমি মনে করি আমি এ পদে এলে আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি দাবিই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”

তার মতে, টিএসসিভিত্তিক ক্লাবগুলো এক প্রকার ‘অভিভাবকহীনতার’ কারণে কাজ করতে পারছে না।

তিনি সাহিত্য ও সম্পাদক পদে জিতলে ‘অভিভাবকহীন’ সে টিএসসির দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।