১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চবির নিয়োগে অনিয়মের ‘বিস্তর অভিযোগ’ তুললেন একদল শিক্ষার্থী

“শিরিন ম্যামের (সাবেক উপাচার্য) সময়ে দেখেছি, শুধু চট্টগ্রামের মানুষের নিয়োগ হয়; এখন দেখি হয় নোয়াখালীর থেকে নিয়োগ হয়, নাহয় খুলনা থেকে নিয়োগ হয়,” বলেন ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি রুমি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jan 2026, 08:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন একদল শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলন’ এর ব্যানারে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।

সেখানে চবি শাখা ‘ইসলামী ছাত্র মজলিসের’ সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো দায় স্বীকার করেনি। বিভিন্ন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা নিয়োগে অসামঞ্জস্য ও অনিয়মের ব্যাপারে আমাদের বলেছেন।”

তিনি বলেন, “ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের একটি নিয়োগ নিয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও তাতে কোনো কর্ণপাত করা হয়নি। পরে দুদকের কাছে আবেদন করা হলেও তখন তারা ‘বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি’।”

ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক সাইদুর রহমানের নিয়োগ নিয়ে রুমি বলেন, “তিনি উপউপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন স্যারের ভাগ্নে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। আমরা বলতে চাই, তিনি সরাসরি কামাল স্যারের ভাগ্নে না হলেও প্রতিবেশীর যে সম্পর্ক, সেটির ক্ষেত্রেও সুপারিশ আসতে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপউপাচার্য কামাল উদ্দিনের নম্বরে ফোন দিলে তিনি ধরেননি।

সংবাদ সম্মেলনে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের নিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়, “তার বয়স প্রায় ৪৫ বছর এবং তিনি যে জার্নালের মাধ্যমে আবেদন করেছেন, সেটি অর্থের বিনিময়ে প্রকাশিত জার্নাল। তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার প্রশাসক শহীদুল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি নিয়োগ পেয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়োগ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

সাকিব মাহমুদ রুমি বলেন, “সেখানে অধ্যক্ষ হিসেবে যিনি নিয়োগ পেয়েছেন, তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার ভাইয়ের স্বাক্ষরে। নিয়োগ বোর্ডের মধ্যে যার নাম রয়েছে, তিনি অধ্যক্ষের ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সাইফুল ইসলাম। আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই সাইফুল ইসলামের কাছে, তার ভাইয়ের এত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আগে কেন নিয়োগ পায়নি, এখন কেন?

“দ্বিতীয়ত ল্যাবরেটরি কলেজে রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার নাম আল আমীন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, ‘আমি নিয়োগ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে আল আমিন নামে একজন নিয়োগ পাবে শুনলাম’। এরপর আমার মধ্যে শঙ্কা কাজ করলেও আমি পরীক্ষা ভালোভাবে দিয়েছিলাম। তবে আমার যথাযথ যোগ্যতা ও পরীক্ষা ভালো হওয়া সত্ত্বেও সকালে যা শুনেছি, ফলাফল আশার পরে সেটাই সত্য হয়’।”

রুমি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে এত অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, এগুলো সামনে আনলে প্রশাসন মুখ দেখাতে পারবে না। আমরা চাই তারা সকল কিছুর স্বচ্ছতা আনুক।”

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের একটি নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে এক ক্লার্কের চাকরি অস্থায়ী থেকে স্থায়ী করা হয়েছে। জানতে পেরেছি, তার থেকে ৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

“এর বাইরে শামীম স্যার (শামীম উদ্দিন খান, উপউপাচার্য, অ্যাকাডেমিক) আরেকটি অনিয়ম ঘটিয়েছেন। যে সকল বিভাগের চেয়ারম্যানের মতাদর্শ শামীম স্যারের বিরুদ্ধে যায়, তাদের সরিয়ে সেসব বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে তিনি নিজেদের লোক বসিয়েছেন।”

এ বিষয়ে উপউপাচার্য শামীম উদ্দিনের নম্বরে ফোন করলে তিনি ‘ব্যস্ত আছেন’ বলে ফোন কেটে দেন।

সাবেক উপাচার্য শিরিন আখতারের সময়ে নিয়োগে অনিয়মের কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে রুমি বলেন, “তার আমলে দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু চট্টগ্রামের মানুষের নিয়োগ হয়। এখন দেখি হয় নোয়াখালীর থেকে নিয়োগ হয়, না হয় খুলনা থেকে নিয়োগ হয়।

“আপনাদের স্বজনদের এত যোগ্যতা থাকলে আগে কেন আপনাদের স্বজনরা নিয়োগ পেল না। আপনারা ক্ষমতায় আসার পরই কেন তারা নিয়োগ পেল।”

এসব ব্যাপারে চাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রুমি।

তিনি বলেন, “চাকসুর ব্যাপার সামনে আনা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। চাকসুর জিএস বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কাকে নিয়োগ দেবে, কাকে দেবে না, তা আমাদের দেখার বিষয় না’। চাকসু তাদের দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বলে মনে করি।”

এক প্রশ্নের জবাবে রুমি বলেন, “আপনাদের সামনে যে বিষয় উপস্থাপন করেছি, তা এক সপ্তাহ খুঁজে আমরা বের করেছি। বিগত উপাচার্যের নিয়োগে অসঙ্গতির বিষয়ে আমরা খোঁজ নিতে গেলে আমাদের পড়াশোনা ও খাওয়া-দাওয়ার সময় পাওয়া যাবে না।”

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য সচিব পলাশ দে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মোহাম্মদ সবুজ, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের জান্নাতুল মাওয়া মিথিলা, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের তানিয়া আক্তার মাহি, ইসলামিক স্টাডিজ মোহাম্মদ ওসমান গনি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আশিকুর রহমান আশিক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাঈম বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।