জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন: স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের জন্য আবেদন ফি কমল
অন্য ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে আগের নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে।
সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফি কমিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
স্নাতকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তরে ২ হাজার টাকা ফি কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুর্গাপূজার ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস সোমবার দুপুরে উপাচার্যের সভাকক্ষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য নিবন্ধন ফি কমানো হয়েছে। অন্য ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে আগের নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমার্বতনের জন্য স্নাতকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তরে ৬ হাজার ৫০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডিতে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮ হাজার ৮০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়।
প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় প্রতিটি ডিগ্রির নিবন্ধন ফিতে অন্তত ২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়।
গত ১৫ অক্টোবর নিবন্ধন শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের সাড়া কম ছিল। ফি বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা, নিবন্ধনে অনাগ্রহ এবং আন্দোলনের হুঁশিয়ারির পর ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৪ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তরের ফি ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এমফিল, পিএইচডি ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের নিবন্ধন ফি অপরিবর্তিত থাকছে।
এর সঙ্গে নিবন্ধন ও মূল সনদের ফির ওপর ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন হয়। এরপর কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সাত বছর পর এবার দ্বিতীয় সমাবর্তন হতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক এবং ২০১৬-১৭ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের ডিগ্রি অর্জনকারীরা দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন করতে পারবেন।
এ ছাড়া এমফিল, পিএইচডি এবং প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের যেসব শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত একটি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন।
তবে বিভিন্ন কারণে প্রথম সমাবর্তনে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন এমন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যারা প্রথম সমাবর্তনে অংশ নিতে পারেননি, তারা লিখিত আবেদন দিন। পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরা অংশগ্রহণ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার বলেন, “আমরা এরকম কোনো অপশন রাখিনি। শুধু নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন।”
আগামী ৩০ জানুয়ারি পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান হবে।
