Published : 08 Sep 2025, 06:49 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে ভুয়া আইডি কার্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা।
এ ছাড়া ভোটের লাইনে জট সৃষ্টি করে ভোট আটকানো ও প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইডি অচল করে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভোটের আগের দিন সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা। নির্বাচন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উমামা ফাতেমা বলেন, “আমরা বিভিন্ন পক্ষ থেকে শুনতে পাচ্ছি, ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ভুয়া আইডি কার্ডের মাধ্যমে নানানভাবে বহিরাগতদের ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের এখানে লাইন জ্যামিং করে ভোট আটকানো বা বোর্ডকে দীর্ঘায়িত করার একটা প্রচেষ্টাও থাকতে পারে, এমনটা আমাদের কান পর্যন্ত এসেছে।”
বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামীকালকে (মঙ্গলবার) আমাদের ভোটাররা যখন কেন্দ্রের মধ্যে থাকবেন, সেই কেন্দ্রে ভোটারদের আইডি কার্ড দেখে ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি’ পাওয়া গেলে তাদের আইডি কার্ড পরীক্ষার জন্য ভ্রাম্যমাণ আইডি কার্ড চেকার রাখতে হবে। তাহলে বহিরাগতদের প্রবেশ আমরা আটকাতে পারব।”
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নীলক্ষেত এলাকায় ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখার দাবি জানান তিনি।
ভোট ঘিরে প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট অচল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে উমামা ফাতেমা বলেন, “আজকে (সোমবার) সকাল থেকেই ডাকসু নির্বাচনের বিভিন্ন প্রার্থীদের আইডিতে আক্রমণ করা হচ্ছে। আইডি অচল করে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্যান্য প্যানেলের বিভিন্ন প্রার্থীদের আইডিতে আক্রমণ করে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
“আমরা শেষমুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাই, আপনারা সকল প্রার্থীদের আইটি সহায়তা প্রদান করুন।”
ভোট কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা সুযোগ রাখার দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন আমাদের ভোটাররা ভোট দিতে আসবেন, সেক্ষেত্রে ভোট কেন্দ্রে তাদের জন্য যথাযথ পরিমাণে সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তৃপক্ষের একান্ত দায়িত্ব।
“সেক্ষেত্রে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এটা বলতে চাই, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য পানি, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুযোগ-সুবিধা ও তাদের জন্য যাতে বসার বন্দোবস্ত থাকে। ভোটাররা যেন এই তীব্র গরমের মধ্যে কোনো ভোগান্তি শিকার না হয়। তাই পুরো কেন্দ্রের মধ্যে অবশ্যই যথাযথ বসার বন্দোবস্ত থাকতে হবে। অবশ্যই কেন্দ্রের মধ্যে ফ্যানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভোটাররা অনেকেই আসবেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য যথাযথ পরিমাণে স্যালাইন, খাবার স্যালাইন ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য রাখারও দাবি জানান উমামা।
তার কথায়, “আমরা আশা করি আগামীকালকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে কোনোপ্রকার ভোটারদের নিরাপত্তাহীনতা বা কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেই জায়গায় আমাদের প্রশাসন এবং আমাদের যারা স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন, তারা খুব সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আল সাদী ভূইয়া অভিযোগ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে খাইয়ে, টাকা-পয়সা বিলিয়ে একটি দল শিক্ষার্থীদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে। আমি বিশ্বাস করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা খাবারের ও টাকা-পয়সার বিনিময়ে কাউকে ভোট দিবে না।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা আপনাদের খাইয়ে ভোট নিতে চায়, যারা টাকা দিয়ে ভোট নিতে চায়, তারা নির্বাচিত হলে কিংবা তারা ক্ষমতায় আসলে আপনার ক্ষমতা দেখিয়ে তারা আপনার সিট দখল করে নেবে। তারা আপনার ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও অধিকারকে ছিনিয়ে নিবে। সেই জায়গায়, আমি শিক্ষার্থীদেরকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”