ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ১১ টাকা ৯২ পয়সা
বুধবার রাত ১২টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে, বলা হয় বিইআরসির আদেশে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সরবরাহ করা প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম পড়বে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা।
বুধবার বিইআরসির এক আদেশে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। এই দর এদিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী আদেশ না নেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গ্রাহকের জন্য নতুন দর প্রযোজ্য হবে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি। সে হিসাবে আগের দর থেকে এবার দাম বেড়েছে ১১ টাকা ৯২ পয়সা।
বিইআরসির আদেশে বলা হয়েছে, ২৯ অগাস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড়, সেপ্টেম্বরে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের সিআইএফ মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্ল্যাটস রেট হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত একটি বাজারদর। আর সিআইএফ মূল্যের মধ্যে পণ্যের দাম, বীমা ও পরিবহন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
বিইআরসি বলেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতাবলে ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিপিসি ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্য, বিপিসির মজুদ ও সরবরাহ চার্জ, বিপণন কোম্পানিগুলোর চার্জ এবং সমন্বিত পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে বিইআরসি।
ওই আদেশে তিন মাস পরপর অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়।
সেদিন প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছিল।
এরপর ১২ এপ্রিল দাম এক লাফে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা করা হয়।
১৮ মে আবার লিটারে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সায় নেওয়া হয়। ওই সময় এক মাস ছয় দিনের মধ্যে দুই দফায় দাম বাড়ে ৪৩ টাকা ৪৪ পয়সা।
এরপর ৩০ জুন লিটারে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়।
৩০ জুলাই আরেক দফায় ৮ টাকা ৭১ পয়সা কমিয়ে দাম নামানো হয় ১০০ টাকা ৩৯ পয়সায়। এর পর ৬ সেপ্টেম্বর লিটারে আরও ৩ টাকা কমিয়ে ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
এবার অক্টোবরের জন্য সেই দর থেকে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করল কমিশন।
