০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল: ইনভেস্ট বাংলাদেশের সামনে অবস্থান বামপন্থিদের

ভেতরে চলছে কনসেশন চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 02:48 PM

Updated : 08 Oct 2026, 03:06 PM

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির আগ মুহূর্তে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সামনে অবস্থান নিয়েছে বামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে এ কর্মসূচি থেকে চুক্তির বিরোধিতা করে স্লোগান ও বক্তব্য চলছে।

এ কর্মসূচিতে আছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ সাম্যবাদী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

এদিন বিকাল ৩টায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে এনসিটির কনসেশন চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠা-নামার চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি পায়নি।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনসিটির দায়িত্ব বিদেশি অপরাটেরের হাতে দেওয়ার কার্যক্রম আবার শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তির জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। এর প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে।

পরে বিএনপির নতুন সরকার গেল ৪ জুন দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।

এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে কয়েক মাস ধরে বন্দর রক্ষা কমিটি গণঅনশন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। গত সেপ্টেম্বরে একই দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয় বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ।

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার পেছনে সরকারের মূল যুক্তিগুলো হল, বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও গতিশীল করা। লজিস্টিকস ও পোর্ট অবকাঠামো খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। একইসঙ্গে বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা অর্জন।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশিদের দিলে চট্টগ্রাম বন্দর যেমন লোকসানের দিকে যাবে ও দক্ষ কর্মশক্তি হারাবে তেমনিভাবে ভূ-রাজনৈতিক ভাবেও বাংলাদেশ বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা আছে। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিকে ইজারা দিলে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং ‘কনসেশন’ চুক্তির কারণে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশঙ্কা রয়েছে।