২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইল আমদানিতেও কর ‘ছাড় দিতে রাজি’ এনবিআর

“যেহেতু এখন গ্রে মার্কেটে বেশিরভাগ হাই এন্ড ফোন আসে, ফলে আসলে আমরা সত্যিকার্র অর্থে কোনো রেভিনিউ পাই না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Dec 2025, 02:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

মোবাইলের দাম কমিয়ে আনতে দেশে উৎপাদন ও আমদানির উভয়ক্ষেত্রেই কর ছাড় দিতে রাজি থাকার কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেছেন, “পৃথিবীর কোনো দেশেই ট্রেড থেকে এত ট্যাক্স নেয় না—আমাদের যত পরিমাণ আমরা ট্যাক্স ইম্পোজ করি। এটা যে ট্যাক্সের জন্য করা হয় তা কিন্তু না। মোস্ট অব দ্য কেইসে আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রি... (সুরক্ষা দিতে)।

“যেমন আজকেও সকালবেলা আমাদের মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারাররা দলবেঁধে এসছেন যে, আপনারা যে ট্যাক্স কমাবেন (মোবাইল) ইম্পোর্টের, আমাদের ইনভেস্টমেন্টের কী হবে? কারণ আপনারা জানেন যে, আগামীকাল থেকে এনইআইআর চালু হবে এবং সে কারণে আমরা, সরকার চিন্তাভাবনা করছে যে—এটাকে কীভাবে অ্যাডজাস্ট করা যায়।”

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুর রহমান খান বলেন, “আমরা এনবিআর থেকে যেটা বুঝি, সেটা হলো যে—উভয় গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা করে এবং কনজিউমার ইন্টারেস্ট প্রোটেক্ট করার জন্য আমরা চাই মোবাইল ফোন, স্মার্টফোনের দাম বাংলাদেশে কমুক। এবং এটা করতে গেলে আমরা দুই জায়গাতেই ছাড় দিতে রাজি আছি।”

বিজয় দিবস থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বা এনইআইআর। তবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা ফোনগুলো আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে; এই সময়ের পরে আর কোন অবৈধ ফোনকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে দেওয়া হবে না। উচ্চ শুল্কের কারণে বৈধপথে খুব কমই মোবাইল আমদানি হয়ে থাকে বলে ভাষ্য ব্যবসায়ীদের।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “যেহেতু এখন গ্রে মার্কেটে বেশিরভাগ হাই এন্ড ফোন আসে, ফলে আসলে আমরা সত্যিকার্র অর্থে কোনো রেভিনিউ পাই না। 

“এটা যদি আমরা ফরমাল করতে পারি— এনইআইআর ইমপ্লিমেন্টেশনের মাধ্যমে, ইভেন রেভিনিউ যদি আমরা ছেড়েও দেই; তার পরেও কিন্তু ফরমাল চ্যানেলে আসার কারণে আমাদের রেভিনিউ বাড়বে।”

স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে অনেক সময় যে সংশ্লিষ্ট পণ্যে উচ্চ আমদানি শুল্ক বসানো হয়, সেই প্রসঙ্গ টেনে আবদুর রহমান খান বলেন, “আমরা লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে প্রোটেক্ট করার জন্যই কিন্তু অনেক সময় বেশি বেশি রেট ধরি। তার পরও আমরা এটা (আমদানি শুল্ক) কমাব।“

বর্তমানে স্মার্টফোনে আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মিলে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ কর রয়েছে।

উৎপাদন ও সংযোজনের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট রয়েছে।

‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ বা এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে সম্প্রতি বিক্ষোভ করছিলেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

এনইআইআর চালু হলে দেশে অবৈধ পথে আসা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পুরনো ফোনের ব্যবসাও। এ পরিস্থিতিতে গত ডিসেম্বর বহুপক্ষীয় বৈঠক করে ডাক ও টেলিযোগাযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, যেখানে অবৈধ ফোন তিন মাসের জন্য ছাড় পেয়েছে।