৮ কার্গো এলএনজি, ৫ হাজার টন এলপিজি কিনছে সরকার
দুই কার্গো করে এলএনজি কেনা হবে যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে আট কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার।
একই সঙ্গে দেশের 'আপৎকালীন' এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের 'স্থিতিশীলতা' নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে। গণখাতে ক্রয় বিধির (পিপিআর) ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়।
সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ দুই কার্গো করে এলএনজি কেনার চারটি প্রস্তাব দেয়।
এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে দুই কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন মেলে।
২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।
সমুদ্রপথে আনা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতীয় গ্রিডে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে।
আগুনে একটি টার্মিনালের বিদ্যুৎ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য বহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুই সপ্তাহ সেখানে কাজ বন্ধ রাখা হয়।
প্রয়োজনীয় মেরামত সেরে টার্মিনালের একটি ইউনিটের বয়লার চালু করার পর বৃহস্পতিবার ভোররাতে এক্সিলারেট এনার্জির ওই টার্মিনাল থেকে সীমিত পরিমাণে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
এদিন অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়।
সেখানে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন মেলে।
একই সঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয় সভা।
এছাড়া এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কয়েকটি ক্রয় প্রস্তাবেও সায় দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি।
