০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও অগাস্টে রপ্তানি বাড়ল ১৩%, খুশি নন রপ্তানিকারকরা

অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে এসে নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে উঠেছে রপ্তানি খাত।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2026, 12:38 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও অগাস্টে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ; মোট আয় এসেছে ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

এতে করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে এসে নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে উঠেছে রপ্তানি খাত।

তবে অগাস্টের আয়ের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য, যা ছিল আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ শতাংশের কিছুটা কম।

বরাবরের মত অগাস্টেও মূলত পোশাক রপ্তানির উপর ভর করে সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে। এ মাসে তৈরি পোশাক থেকে আয় এসেছে ৩৬০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, যা ২০২৫ সালের অগাস্টের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

তবে সংকটের মধ্যেও এমন প্রবৃদ্ধিতে খুশি নন রপ্তানিকারককরা। নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অগাস্টে রপ্তানি আয় বাড়ায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে ২১ জুলাই থেকে। গ্যাস সমস্যার কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বন্ধই ছিল বলা যায়। এ সময়ে মিলগুলো থেকে কোনো কাপড় পাইনি। পোশাক তৈরি করতে পারিনি; রপ্তানিও হয়নি।

“এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা লেগেই আছে। সে কারণে সবার শঙ্কা ছিল অগাস্টে রপ্তানি বেশ কমবে; কিন্তু বাড়ায় অবাক হয়েছি। পরে ইপিবির তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখলাম, গত বছরের অগাস্টে পণ্য রপ্তানি থেকে অনেক কম আয় হয়েছিল; ৪ বিলিয়নের কম-৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। সে কারণেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত জুলাইয়ের চেয়ে কিন্তু ঠিকই কমেছে।”

তার ভাষ্য, সত্যিকার হিসাবটা করলে দেখা যাবে ২০২৫ সালের অগাস্টে আগের বছরের অগাস্টের চেয়ে ৩ শতাংশ কমেছিল। সেই কম আয় থেকে এই আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। 

 “এটা হিসাবে প্রবৃদ্ধি হলেও বাস্তবে আমাদের কতোটা লাভ হয়েছে সেটাই প্রশ্ন?,” যোগ করেন তিনি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে আগামী মাসগুলো আরও খারাপের দিকে যাবে বলে শঙ্কার কথা বলেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রপ্তানি আয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছিল নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়ে। জুলাইয়ে আয় এসেছিল ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক থেকে আয় কমেছিল প্রায় ২ শতাংশ।

আগের অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৪৭৭ কোটি ৬ লাখ ডলার আয় হয়েছিল; শতাংশের হিসেবে কমেছিল ১ শতাংশের কম।

তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের (জুলাই-অগাস্ট) হিসাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ দুই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট ৯১৫ কোটি ৬৯ লাখ (৯.১৬ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছে। আগের অর্থবছরের জুলাই-অগাস্টে আয় হয়েছিল ৮৬৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। আর রপ্তানি আয় কমার তথ্যে শেষ হয়েছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছর; মোট আয় হয় ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে তা দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে সবচেয়ে বেশি

একক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশের মত আসে এ দেশ থেকে।

ইপিবির দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাল্টা শুল্কসহ নানা সমস্যার মধ্যেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি অগাস্টেও বেড়েছে।

এ মাসে দেশটিতে ৯৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা আগের বছরের চেয়ে ২৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি।

দুই মাসের (জুলাই-অগাস্ট) হিসাবে বেড়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ; রপ্তানি হয়েছে ১৮৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের পণ্য।

এছাড়া অগাস্টে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে বেড়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩২, ২১ দশমিক ৪১ ও ১৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। তবে ফ্রান্সে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে।

৮১.৪৭% আয় এসেছে পোশাক থেকে

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়,  অগাস্টে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে ৩৬০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার আয় হয়েছে। মোট ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের মধ্যে পোশাকের অংশ ৮১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এ মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার; আগের বছরের অগাস্টের চেয়ে যা ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

অপরদিকে ওভেন পোশাকে রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আয় এসেছে ১৫৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

সার্বিক হিসাবে আগের বছরের অগাস্টের চেয়ে এ বছরের অগাস্টে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অগাস্টে এ খাত থেকে আয়ের অঙ্ক ছিল ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

অন্যান্য খাত

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে অগাস্টে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে বেড়েছে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে বেড়েছে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

তবে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, ৩৯ শতাংশ। বাই সাইকেল থেকে বেড়েছে ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

অপরদিকে কৃষি পণ্য রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি থেকে কমেছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং প্লাস্টিক পণ্যে কমেছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।