কমতে শুরু করেছে সবজির দাম, মাংসের গরম কমেনি
কিছু সবজির দাম কমলেও যেখান থেকে বেড়েছিল সেখানে পৌঁছাতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করছেন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা সেলিম হোসেন।
রোজার শুরুর দিকে সবজির দর যেভাবে বেড়েছিল, তা কিছুটা কমতে শুরু করলেও মাংসের বাজারে গরম কমেনি।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখাড়া, মতিঝিল ও সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শসা, গোল ও লম্বা বেগুন, গাজর, লেবু, টমেটো, ও মরিচের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
তবে আলু, সিম, ফুলকপি, মুলা, শালগম, মটরশুটি, করল্লা ও পেঁপে আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে।
কিছু সবজির দাম কমলেও যেখান থেকে বেড়েছিল সেখানে পৌঁছাতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করছেন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা সেলিম হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লম্বা বেগুন এখন ৭০-৮০ টাকা কেজি। রোজার শুরুতে ১১০-১২০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে।
“মানুষ কেনা কমাই দিছে, তাই মাল (সবজি) আনিও কম। এহন দাম কইমা বেচাও কইমা গেছে। দাম বেশি হইলে মানুষ বেশি-বেশি কিনে, আমাগোও লাভ হয়।”
ইফতারের উপকরণ হিসেবে বেগুনি তৈরিতে বেগুনের ব্যবহার বেশি হয়। সে কারণে প্রতি রোজার সময়ই সাধারণ সময়ের তুলনায় বেগুনের দাম একটু বেড়ে যায়। সে কারণে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
লম্বা বেগুনের দাম এক সপ্তাহে কিছুটা কমলেও ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হওয়া গোল বেগুনের দাম খুব বেশি কমেনি। আগের সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গোল বেগুন এখন ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেগুনবাগিচায়।
রোজার শুরুতে এক হালি লেবু ১২০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার সেগুনবাগিচায় ৬০ টাকা হালিতেও লেবু পাওয়া গেছে।
তারপরও ক্রেতা সংকটে সব লেবু বিক্রি হচ্ছে না বলে দোকানি ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য।
তিনি বলেন, ‘‘ইফতারে শরবতে লেবু নেয় অনেকে। এখন তো তেমন গরম নাই, তাই শরবত কম লাগে। লেবুর বাজারও পইড়া গেছে।“
অন্যদিকে সালাদের উপকরণের মধ্যে দাম কমেছে শসা ও গাজরের। আগের সপ্তাহে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এখন ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন যাত্রাবাড়ীর দোকানি হাশেম আলী।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘ঠান্ডার সময় শসা কম চলে। এহন দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছাড়া শসা খুব একটা চলে না। ডায়বেটিসের রোগীরা নিয়মিত শসা নেয়।”
তার দোকানে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।
সবচেয়ে বেশি কমেছে টমোটোর দাম। আগের সপ্তাহে হঠাৎ করেই ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া টমেটো শুক্রবার শনির আখাড়ায় ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেল।
সাধারণ মানের টমেটো আরে কমে ২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন শনির আখাড়ার ইউনূস সরদার।
এ বাজারে গত সপ্তাহের মতই সিম ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, দেশি পেয়াঁজ ৪০ টাকা, ফুলকপি ও শালগম ৪০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচায় মটরশুটি আগের মতই ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড জাতের একটু মোটা দানার মটরশুটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে।
সিমের দরেও কোনো হেরফের দেখা গেল না। শুক্রবারও মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দাম চাইলেন দোকানিরা।
প্রতি কেজি আলু আগের মতই ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে তা ১৬০ টাকায় উঠেছিল।
অবশ্য মাংসের বাজারে রোজার শুরুতে যে উত্তাপ দেখা দিয়েছিল তাতে কোনো হেরফের হয়নি।
সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২০০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রির কথা বললেন যাত্রাবাড়ীর দোকানি জুলহাস উদ্দিন।
ডিম আগের মতই ১২০ টাকা ডজন দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা।
আর গরুর মাংস আগের সপ্তাহের মত ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শনির আখাড়ায়। রোজার আগে যার দর ছিল ৭৫০ টাকা কেজি।
