Published : 13 Apr 2026, 10:08 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের সময় নতুন একটি ধারা যুক্ত করার পেছনে ‘বড় ধরনের ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন জড়িত’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির।
ব্যাংক রেজল্যুশন বিলে নতুন ওই ধারা যুক্ত করার ফলে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোতে পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খুলে গেছে বলে সমালোচনা হচ্ছে।
শিশির মনির বলেন, “আমরা মনে করি, এইভাবে ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন দিয়ে বাংলাদেশের মানি মার্কেটকে আবারো করায়ত্ত করার সুযোগ বিএনপি সরকারকে করে দেওয়া উচিৎ নয়। যারা ভুক্তভোগী তাদেরটা তাদের কাছেই ফেরত দেওয়া উচিৎ।”
সোমবার সন্ধ্যায় জামায়াতের মগবাজারের কার্যালয়ে এক ‘জরুরি’ সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল নিয়ে দলের এই অবস্থান তুলে ধরেন শিশির মনির।
তিনি বলেন, “অন্তবর্তী সরকারের সময়ে যে পাঁচটি ব্যাংককে এক করে একটি ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়েছিল, বিএনপি সরকার ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’ পাস করার মধ্য দিয়ে আবারো পুরনো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
“এইটা করার মাধ্যমে এই ব্যাংকগুলোর যারা মালিক ছিলেন, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মনে হয়, সন্তুষ্ট হয়, তাহলে তাদের আগের বিষয়াদি তাদের ফিরিয়ে দিতে পারবে।’
এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা মনে করি এই ব্যাংক রেজুলেশনটা (অন্তর্বতী সরকারের সময়ে করা) বাতিল করার পেছনে শুধুমাত্র সরকার জড়িত না, এটার পেছনে বড় ধরনের ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন জড়িত।”
তিনি বলেন, “যারা ব্যাংক লুট করে নিল, সব আমানতকারীর টাকা পয়সা নিয়ে গেল, নতুন আইনে (অন্তবর্তী সরকারের সময়ে সংযোজিত ধারা-১৮(ক)) কীভাবে তার শাস্তি ছিল, কীভাবে তা রিকভার করা হবে–এই পুরোটাকে এখান থেকে আউট করে দিয়ে, ব্যাংক ডাকাতদের কাছেই আবার ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক দখলের উদাহরণ টেনে শিশির মনির বলেন, “যারা ব্যাংকটাকে একেবারে শূন্য করে ফেলল, এক ইসলামী ব্যাংক থেকেই সত্তর হাজার কোটি টাকা যারা সরাল; আপনারা জানেন, চব্বিশটা বিকল্প কম্পানি তৈরি করে ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া হয়েছে; এই মামলাটা আপনারা দেখলেই বুঝতে পারবেন, মানি লন্ডারিং কেস হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, চব্বিশটা বিকল্প কম্পানি তৈরি করেছে যেগুলো বাস্তবে এক্সিস্ট করে না।
“চব্বিশটা কম্পানি গঠন করে টু পার্সেন্ট করে শেয়ার নিয়ে এসে তারা বোর্ডে লোক বসিয়েছে। বোর্ডে লোক বসিয়ে তারা বিরাশি পার্সেন্ট অংশের মালিক হয়েছেন, সেই এস আলমের হাতে আবার সেই পাঁচটা কোম্পানির শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর খবরের প্রসঙ্গ টেনে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, “এ ব্যাপারে আপনাদের (সাংবাদিকদের) খোঁজ নেওয়া উচিৎ।”
অন্যদের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।