দেশে ‘উদ্বৃত্ত তৈরির’ অর্থনীতি চান বাণিজ্য উপদেষ্টা
“আমাদেরকে নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। নীতি সহায়তায় বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়,” বলেন শেখ বশিরউদ্দীন।
ব্যয় থেকে উদ্বৃত্ত তৈরি করাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মডেল হওয়া উচিত বলে মনে করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেছেন, “যদি মাইক্রো ইকোনকমির দিকে তাকাই, আমাদের ৮০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি। এর মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য আমদানি করি; ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানি করি। মধ্যবর্তী শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্যও আমদানি করি।
“আমার বিবেচনায় আমাদের অর্থনৈতিক মডেল একটা লাইনে যেটা হওয়া উচিত, সেটা হচ্ছে ব্যয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি করা। আপনার শিল্পের সক্ষমতা তৈরি করতে গেলে আপনাকে স্ট্যান্ডাডাইজড তৈরি করতে হবে। আপনাকে সাময়িক সময়ের জন্য বৈচিত্র্যকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে। এত বৈচিত্র্য দিয়ে আপনার ইকোসিস্টেম তৈরি হবে না।”
রোববার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার এডিসন প্রাইম ভবনে ‘রোড টু মেড ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড অ্যাগ্রো মেশিনারি ফেয়ার ২০২৫' এর সমাপনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ৪০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। তারপরও কেন আমরা উদ্বৃত্ত হতে পারছি না? সম্পদের পর্যাপ্ততা বিবেচনা না করেই যদি আমরা অতিরিক্ত ব্যয় করি, তখন তো উদ্বৃত্ত আসবে না। নিজস্ব সক্ষমতায় ব্যয় থেকে উদ্বৃত্ত তৈরি করে আমাদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদেরকে নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে। পলিসি সাপোর্ট দিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব না। আমাদের দেশে গার্মেন্ট সেক্টর ছাড়া অন্য কোনো সেক্টর পলিসি সাপোর্ট নিয়ে কিছুই করতে পারেনি।”
উপদেষ্টা বলেন, “স্বাধীনতার আগে আমাদের শিল্পের যে বৈশিষ্ট্য ছিল, এখন সেটি নাই। আগে এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছিল। এখন সেটি নাই। আমরা স্বাধীনতার পর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।”
পরে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অ্যাগ্রো মেশিনারি ফেয়ারে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারেরর নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী এবং ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সহাপতি তাসকিন আহমেদ।
দুই দিনের এ প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত এ মেলায় সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
