Published : 06 Aug 2026, 10:22 PM
পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে ভারতকে অনুরোধ করার কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে। সেখান থেকে ডিজেল আসে। তাদেরকে বলেছি আরো বেশি দেওয়ার জন্য।”
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বৈঠকে আর কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের হাই কমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল একটি ‘রুটিন বৈঠক’।
“এর আগে অনেক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার মিটিং হয়েছে। সেরকম রুটিন মিটিং ভারতের অ্যাম্বাসেডর সঙ্গে হয়েছে। যেহেতু ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থের ব্যাপার আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে ডিজেল আনা হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ পাইপলাইনটি উদ্বোধন করা হয়। বছরে ১০ লাখ টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে এই পাইপলাইনের।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন জ্বালানিমন্ত্রী। এর জন্য তিনি গ্যাসের ঘাটতিকে দায়ী করেন।
“স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, পাওয়ার প্ল্যান্টও পাবে না। এখন গ্যাসের অভাবে যে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো আবার চালু করব,” বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে কী ভাবছে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “যেটা হয়েছে, সেটা কি মানুষের হাতের মধ্যে আছে?”
মহেশখালীর বিকল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত টার্মিনালটি দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার আংশিক চালু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই রাতে আগুনে টার্মিনালের বয়লার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। টার্মিনালটি স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতেও সংকট দেখা দেয়। পাওয়ার গ্রিডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে অন্তত ৬২টিতে জ্বালানির ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে ২৬টি গ্যাসভিত্তিক এবং ৩৩টি তেলভিত্তিক ইউনিট।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী
জুন ও জুলাই মাসে অনেক গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অভিযোগ করা হলেও অনেক গ্রাহক তাদের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আসেন না।
“বিলগুলো নিয়ে আসেন। যখন আমরা বলি বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না।”
জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চের তুলনায় জুনে গরম কম ছিল। এরপরও অনেক গ্রাহকের বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন সাংবাদিকের দেওয়া পোস্টের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই গ্রাহকের মাসিক বিল সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাত হাজার টাকা হয়েছিল।
“আমার লোক পরীক্ষা করে দেখে এসেছে, তিনি দুটি এয়ার কন্ডিশনার চালান। তার ফ্রিজ আছে, ব্লেন্ডার চালান। এত কিছু চালানোর পরও সাত হাজার টাকা যদি বেশি বিদ্যুতের বিল হয়, আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও সাত হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়।”
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জুন থেকে খুচরা বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। ব্যবহার বাড়লে গ্রাহক উচ্চ দামের ধাপে চলে যান। ফলে ইউনিট ব্যবহারের তুলনায় বিল বেশি হারে বাড়তে পারে।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি এসেছিল কি না, সেই প্রশ্নে সরাসরি জবাব না দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আমি শেখ হাসিনার সম্বন্ধে কিছু বলতে চাই না। উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।”
এ বিষয়ে এর আগে ভারত সরকার বলেছে, একটি বেসরকারি সংগঠন ওই আয়োজন করেছে এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।