১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের সংকট ‘দেখছে না’ সরকার

অপরিশোধিত তেল আনার প্রচলিত পথে সমস্যা হলে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, বলেন যুগ্মসচিব মনির হোসেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2026, 06:53 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ এবং নির্ধারিত আমদানি থাকায় নিকট ভবিষ্যতে কোনো সংকটের ‘আশঙ্কা না থাকার’ কথা বলেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

পরিশোধিত জ্বালানি তেলের অধিকাংশ চালান পশ্চিম এশিয়ার বাইরের দেশ থেকে আসে তুলে ধরে জ্বালানি বিভাগ বলেছে, অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রেও বিকল্প পরিবহনপথ নিয়ে কাজ চলছে।

বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

বর্তমান মজুদ, আমদানির নির্ধারিত সময়সূচি এবং বিকল্প পরিবহনপথের পরিকল্পনা বিবেচনায় সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের কোনো সংকট দেখছে না, বলেন তিনি।

মনির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রধানত চীন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের অঞ্চল থেকে আমদানি করে।

এ কারণে পশ্চিম এশিয়ায় কোনো পরিবহনপথে সমস্যা হলেও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে সরকার।

তবে দেশে পরিশোধনের জন্য অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। সাধারণত মাসে একটি অপরিশোধিত তেলের কার্গো আসে বলে জানান মনির।

মনির হোসেন বলেন, অপরিশোধিত তেল আনার প্রচলিত পথে সমস্যা হলে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। তার প্রতিক্রিয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। এর ধারাবাহিকতায় ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। 

বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজ আটকা পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লম্ফন ঘটে। দেশে তেলের সংকট তৈরি হয়। 

এক মাস আগে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়, খুলে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালি। কিন্তু স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলার মধ্যে আবার ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, ফলে হরমুজ প্রণালিত জাহাজ চলাচলে আবার বিঘ্ন ঘটছে।

এ অবস্থায় জ্বালানি বিভাগ বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে লোহিত সাগর ঘুরে আনার সুযোগ রয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।

কিন্তু ইতোমধ্যে ইরানের সমর্থনে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।

এই পথেও কোনো কারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে আরেকটি বিকল্প কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে সরকার চিন্তা করছে, বলেন যুগ্মসচিব।

তিনি বলেন, অগাস্টের মাঝামাঝি দেশে পৌঁছানোর কথা থাকা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালানগুলো অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে রওনা হতে পারে।

এসব চালান চীন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর অঞ্চল থেকে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো পরিশোধিত জ্বালানি তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে না।

বর্তমানে অপরিশোধিত তেলেরও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে দাবি করেন মনির হোসেন।

তবে বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বড় ধরনের বৈশ্বিক সংঘাত তৈরি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ঘোষণা দেওয়ার পর সংকট শুরু হয়নি; বরং এর আগেই কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

গুজবের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে খবর প্রকাশের আহ্বান জানান।

যুগ্মসচিব বলেন, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই গুজবে কান না দেওয়া এবং আতঙ্কিত না হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে।