১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সিটি ব্যাংককে সাড়ে ৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এআইআইবি-এনডিবি

দেশের বেসরকারি খাতের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে এই অর্থ কাজে লাগানো হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Oct 2025, 11:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:24 PM

এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) থেকে সাড়ে ৭ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে সিটি ব্যাংক।

এর মধ্যে এআইআইবি দিচ্ছে ৫ কোটি ও এনডিবি দিচ্ছে আড়াই কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। 

দেশের বেসরকারি খাতের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে এই অর্থ কাজে লাগানো হবে।

বেইজিংয়ে এআইআইবির প্রধান কার্যালয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি গত ১ এপ্রিল নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এনডিবি। সেখানে বলা হয়, এআইআইবির সঙ্গে যৌথভাবে তারা সিটি ব্যাংককে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে এটিই প্রথম অর্থায়ন ব্যাংক দুটির।

ঋণ অনুমোদনের পাঁচ মাস পর সিটি ব্যাংকের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, এআইআইবির মহাপরিচালক (ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস অ্যান্ড ফান্ডস ক্লায়েন্টস) গ্রেগরি লিউ, এনডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট রোমান সেরভ ও মহাপরিচালক বিন হান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মাসরুর আরেফিন বলেন, “বাংলাদেশে কোনো বেসরকারি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বভৌম গ্যারান্টি ছাড়াই এআইআইবির এটিই প্রথম অর্থায়ন। এআইআইবি ও এনডিবির সঙ্গে এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন অংশীদারিত্ব সিটি ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

“এ ঋণ দেশে বেসরকারি খাতের মূলধন বিনিয়োগকে আরও গতিশীল করবে, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ঋণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।”

কবে নাগাদ অর্থায়ন শুরু হতে পারে, সে ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে থাকা সিটি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (করপোরেট অর্থায়ন) মেসবাউল আসীফ সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন অর্থ পেতে পাইপলাইন ঠিক করা হবে। বিনিয়োগ খাত ঠিক করেই পরিমাণ মত অর্থ নিতে পারব। চাইলে পুরোটাও একসঙ্গে নেওয়া যাবে। তবে আমরা ঋণ গ্রহীতা ঠিক করেই নেব।”

সম্পূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রায় পাওয়া এ ঋণ গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রাতেও ব্যাংক দিতে পারবে বলে জানান তিনি।

প্রয়োজনীয় আমদানি দায় মেটাতে বা পণ্য আমদানিতেও এখানে থেকে ঋণ নেওয়া যাবে। বহুজাতিক দুই বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণের সুদহার প্রকাশ করছে না সিটি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলছেন, সিটি ব্যাংককে দেওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি এ অর্থায়নের সুদহার নির্ধারিত হবে সোফর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট) পদ্ধতির ছয় মাসের ‘সিএমই টার্মে’। এ সুদহার প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি’ (এফসিএ) এর অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সিএমই গ্রুপ।

সোফরের বিদ্যমান সুদ হার হচ্ছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদ যোগ করে ঋণ দিতে পারবে বেসরকারি কোনো ব্যাংক। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদ নিতে পারবে সিটি ব্যাংক, যা স্থানীয় মুদ্রা অর্থাৎ টাকায় দেওয়া ঋণের সুদহারের চেয়ে কম। গত সেপ্টেম্বরে মাসে দেশে ব্যাংক ঋণের গড় সুদহার ছিল সাড়ে ১২ শতাংশের মধ্যে।

এর আগে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), দি ওপেক ফান্ড ও নরওয়েজিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (নরফান্ড) থেকেও অর্থায়ন পেয়েছে সিটি ব্যাংক।

আর বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে প্রথমবার এআইআইবি ঋণ দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইডকলকে।