১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হার্টের রিং, চোখের লেন্স ও ডায়ালাইসিসে খরচ কমছে

প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jun 2026, 07:28 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:23 PM

হার্টের রিং, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, চোখের লেন্স এবং ক্যান্সারের ওষুধ কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও করেন তিনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় এ প্রস্তাব দেন তিনি। 

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে প্রস্তাবিত কর মওকুফ হলে-

•    ডায়ালাইসিস ব্যয় কমবে ৮০০ টাকা

•    প্রতিটি হার্টের স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে

•    চোখের ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হচ্ছে। যার মেয়াদ আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করছি। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, “ঔষধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে এপিআই তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শতভাগ করার প্রস্তাব করছি।

“ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী ঔষধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে নতুন করে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত করে আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।” 

এছাড়া বায়োলজিক্যাল সেফটি ক্যাবিনেট আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক হ্রাস করে ১ শতাংশ নির্ধারণপূর্বক এটিকে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন বাজেটে। এছাড়া ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম’ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের পরিবর্তে ১ শতাংশ করে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়।

অর্থমন্ত্রী মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হিমঘর আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত ব্যয় কমাতে কার্ডিয়াক স্টেন্ট ও ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর পুরোপুরি মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এর ফলে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধার কারণে কিডনি রোগীর প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ কমবে প্রায় ৮০০ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনকে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করে করা হয়েছে। 

“আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।”

 এর ফলে দেশে তৈরি ক্যান্সারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।