২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিচারহীনতার প্রতিবাদে আত্মহত্যা!

কাজী রাশেদ

Published : 30 Apr 2017, 09:08 PM

Updated : 23 Jun 2022, 11:17 PM

শ্রীপুর রেলস্টেশনের কাছেই সবুজ মাঠে পড়ে আছে দুটো রক্তাক্ত লাশ। এযেন বাংলাদেশের পতাকা, লাল সবুজের এক জীবন্ত পোর্টাল। লাশ দুটো কোন ক্রসফায়ারে গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসীর না, কোন জঙ্গীর না বা বিএসএফের গুলিতে গুলিবিদ্ধ কোন বাংলাদেশী নাগরিকেরও না। এ লাশ গ্রামবাংলার এক অভাবী স্নেহধন্য পিতা আর কন্যার।

শ্রীপুর রেলস্টেশনের অদুরে বসবাসকারী হযরত আলী এক দরিদ্র কৃষক। নিঃসন্তান হযরত আলী সন্তানের অভাব ঘোচাতে দত্তক নিয়েছিলো এক কন্যা সন্তান। সুন্দর ফুটফুটে তিনমাসের বাচ্চাকে কোলে তুলে দিয়েছিলো নিঃসন্তান মাকে। সেই কন্যাসন্তান হেসেখেলে বেড়ে উঠছিলো বাবা-মায়ের আদরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সন্তান আয়েসা খাতুন কে মাত্র আট বছর বয়সেই হতে হলো ধর্ষণের শিকার! গ্রামের প্রভাবশালীদের সন্তানদের লালশার হাত থেকে রেহাই পেলনা আয়েসা খাতুন। বাসা থেকে তুলে নিয়ে নিষ্পাপ আট বছরের শিশুকে কয়েকজন জানোয়ার মিলে পাশবিক অত্যাচার চালালো। হতভাগ্য পিতা ভোরের আজানের সময় রক্তাক্ত কন্যাকে উদ্ধার করেন মাঠ থেকে।

এরপর অসহায় পিতা দৌড়ে যান থানা পুলিশ, আর ইউপি সদস্যের কাছে। ইউপি সদস্য তাকে বিচারে না যেয়ে আপোষ করতে পরামর্শ দেন। হযরত আলী সেই আপোষ করতে চাননি। তার ফলে নেমে আসে নানা হুমকি-ধামকি আর নির্যাতন। রাতের মধ্যে চুরি হয়ে যায় হালের বলদ। হুমকী আসে আবারো তার কন্যাকে নিয়ে যেয়ে ধর্ষণের। বিচারহীনতার এই সমাজে হযরত আলীদের বিচার পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভয়ে, নিরাপত্তাহীনতা আর বাচ্চা কন্যার আবারো ধর্ষণের ভয়ে পিতা হযরত আলী সিদ্ধান্ত নিলেন আত্মহননের।

বিচার আর নানা হুমকি-ধামকির সামনে অসহায় পিতা কন্যাকে নিয়েই রেলের নীচে আত্মহত্যা করে নিজের সন্মান আর কন্যার আবারো নির্যাতনের কষ্ট লাঘব করে দিলেন। হায় বাংলাদেশ, হায় রে বিচার! ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে সব জায়গায় আজ যে বিচার না পাওয়ার ঘটনা, তা শেষে আত্মহননে রূপ নিলো।

ঘটনার পর এখন পর্যন্ত সেই ইউপি সদস্য ও ধর্ষকেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর এখনো ঘুম ভাংঙে নি। আজ সারা বাংলাদেশ বিচারহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।