স্বাধীনতা দিবসে জঙ্গীবাদের আলোচনা
টেক্সাসে ২৬ শে মার্চ আসলো মাত্র কয়েক মিনিট আগে। সবাইকে শুভেচ্ছা। ঢাকায় থাকলে এই সময়টায় হয়তোবা রবীন্দ্র সরোবর অথবা শাহবাগে থাকতাম।
গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল। ভুল ব্যাখ্যার "ব্রেইনওয়াশিং" এর রোষাণলে পড়ে কয়েকজন নিরীহ মানুষ হয়ে গেল ঘৃণ্য খুনী। "ব্রেইনওয়াশিং" এর ক্ষমতাটা জঙ্গীদের কর্মকান্ড দেখলেই নিশ্চিত হওয়া যায়।
হতে পারে কেউ খ্রীস্টান, বৌদ্ধ অথবা নাস্তিক। কিন্তু, তাকে যদি মেরে ফেলা হয়, তবে তাকে ইসলামের পথে আমন্ত্রণ জানানোর কোন সুযোগ থাকেনা। এমনি করে যদি সমস্ত মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়, তবে ইসলামের ধারক ও বাহক কারা হবে? মানুষই যদি না থাকে, তবে ইসলাম থাকবে কীভাবে? কে নামাজ পড়বে? কেইবা হজ্ব পালন করবে?
আমরা যা করতে পারি- সচেতনতা বাড়ানো। মাদ্রাসা বন্ধ করে জঙ্গীবাদ থামবেনা। ইসলাম ধর্ম বিরোধীরা আগে মাদ্রাসা বন্ধ করার কথা বলত জঙ্গীবাদ থামানোর জন্য। এখন তারাও অনেকটা সতর্ক হয়ে গেছে। কারণ, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাও জঙ্গী হয়।
যে কোন ক্ষেত্রেই "ভুল ব্যাখ্যা" মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে গুরুতরভাবে। অনেক নাস্তিক আছে, যারা কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে (সা) নিয়ে অত্যন্ত জঘন্য কথা-বার্তা বলে। আপনি নাস্তিক হতেই পারেন। কিন্তু, ইসলাম নিয়ে মিথ্যা ও জঘন্য কথা বলবেন কেন?
যারা ইসলাম ধর্মকে সম্বল করে জঙ্গীবাদে জড়াচ্ছে, তাদের অধিকাংশই কোরআন শরীফ পড়তে জানেনা। আবার পড়তে জানলেও অর্থ বুঝেনা। তাদেরকে বিপথগামী কিছু গুরু যেভাবে 'ব্রেইনওয়াশড' করে, সেভাবেই তারা চলে। আইএস, আল-কায়েদা, তালেবান- এরা সবাই নিজেদের মত পুস্তিকা বানায় এবং সেগুলোই নতুন সদস্যদের পড়ায়। নাস্তিকদের অধিকাংশই পুরোপুরি কোরান কোন সময় পড়েনা, কয়েকটা আয়াত দেখে নেয় এবং সেগুলো নিয়েই মেতে উঠে। কিন্তু, এই আয়াতগুলোর আগে-পিছে আর কী বলা আছে, সেটা তারা দেখেনা।
বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোর প্রভাব অনেক বেশি বলে বিপথগামী মুসলমানদের জঙ্গীবাদ নিয়েই সবাই বেশি কথা বলে। কিন্তু, এইরকম জঙ্গীবাদ আরো অনেক ধর্মের লোকজনের মধ্যে আছে। খ্রীস্টান উগ্রবাদী কিংবা ভারতের হিন্দু উগ্রবাদীদের কিন্তু জঙ্গী বলা হচ্ছেনা।
আবার, অনেক ক্ষেত্রে অনেক ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামী গোষ্ঠীর গায়ে জঙ্গীবাদের মিথ্যা মলাট লাগিয়ে দেয়া হয়। যেমনঃ ভারতে কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনেকেই জঙ্গী বলছে। চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের সংগ্রামী লোকজন আমেরিকার তৈরি করা জঙ্গীগোষ্ঠীর তালিকায় রয়েছে। উইঘুর সম্প্রদায়কে আমেরিকা জঙ্গী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এর পেছনেও কারণ রয়েছে। এটা জানার জন্য আমেরিকা কর্তৃক ইরাকে হামলা শুরুর সময়কার জাতিসংঘের ইতিহাস পড়তে হবে। চীনের সাথে এক ধরনের চুক্তি হিসেবেই সংগ্রামী উইঘুরদের জঙ্গী তকমা দেয় আমেরিকা। আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা চালানোর পরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী টাকার বিনিময়ে পাকিস্তানে থাকা যেসব উইঘুর লোকজনকে জঙ্গী তকমা দিয়ে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়, তাদেরকে গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দী করা হয়। কিন্তু, পরে আমেরিকার আদালত তাদেরকে নির্দোষ বলে ঘোষণা দেয়। এরইমধ্যে আমেরিকা যেহেতু উইঘুর সংগ্রামীদের জঙ্গী উপাধি দিয়ে দিয়েছে, সেহেতু গুয়ানতানামো কারাগারে থাকা নির্দোষ উইঘুরদের পুনর্বাসন করতে গিয়ে আমেরিকার সরকারকে বেশ ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। এখন কথা হচ্ছে, কাশ্মীরের লোকজন অথবা উইঘুর সংগ্রামীরা যদি জঙ্গী তকমা পায়, তবে নির্দ্বিধায় আমাদের মহানায়ক ক্ষুদিরামকেও জঙ্গী বলতে হবে।
আবার, বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবিরকেও আওয়ামীলীগের লোকজন জঙ্গী বলে। যদি তাই হয়, তবে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগও জঙ্গী। কানাডার একটি আদালত নাকি বিএনপিকে জঙ্গীবাদের সমর্থক বলেছে (কিছুদিন আগে বাংলাদেশী একটি পত্রিকাতে দেখেছিলাম বোধ হয়)।
জঙ্গীবাদ নিপাত যাক। কাউকে রাজনৈতিক কারণে জঙ্গী বানানোর প্রচেষ্টারও অবসান হোক।
