০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে: উপদেষ্টা জাহেদ

“তিস্তা মহাপরিকল্পনা সরকার করতে আগ্রহী এবং খুব সিরিয়াসলি আগ্রহী।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 02:54 PM

Updated : 06 Oct 2026, 02:54 PM

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ‘খুবই আন্তরিক’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, পানি সংরক্ষণের ভাবনা যুক্ত করে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

তিনি বলেছেন, “ব্যারেজের মাধ্যমে বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের বিষয়টি তিস্তা পরিকল্পনায় ছিল না। তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ অনেক দ্রুত হওয়ায় এখানে পানি সংরক্ষণ করা কঠিন। তার পরও বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে পরিকল্পনা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন।

“বর্তমানে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।”

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা সরকার করতে আগ্রহী এবং খুব সিরিয়াসলি আগ্রহী। ফান্ডিং চায়নার হবে, না আমাদের হবে, না অন্য কোনো দেশের হবে—এটা একটা ডিফারেন্ট আলোচনা। প্রাথমিকভাবে আমাকে বুঝতে হবে যে, আমরা এই পরিকল্পনাটা করতে চাই কি না। উত্তর হচ্ছে, আমরা করতে চাই।

“আমরা যদি সেটা করতে চাই, সেটা কীভাবে করব, একটা পরিবর্তন পরিকল্পনায় হয়েছে এবং সেটা নিয়ে যেন আবার নতুন করে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেটা শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছিল, সেই পরিকল্পনায় মূলত ছিল নদী শাসন, মানে নদীটাকে তো প্রচুর ভাঙন হয়, তিস্তা এলাকায় যারা থাকেন তারা জানেন।

“বর্ষার সময় এটা প্রচুর ভাঙন হয় এবং কোনো কোনো জায়গায় এই নদীর উইডথ (প্রশস্ত) ৫ থেকে ৮ কিলোমিটারও হয়ে যায়। সেখানকার প্রপোজাল ছিল এটাকে খনন করে, পাড়টাকে শক্ত করে নদীর একটা ভাঙনটা রোধ করা এবং ল্যান্ড রিক্লেইম করা।

“আমরা যদি এটাকে এক কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, আশপাশে প্রচুর ভূমি—যেটা বর্ষার সময় ডুবে যায়, ভেঙে যায়, সেটাও আমরা পেতে পারি। এই ধরনের একটা পরিকল্পনা ছিল।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনা হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা; যার মূল লক্ষ্য—নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ।

২০১৬ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি সমীক্ষা চালিয়ে এই মহাপরিকল্পনার নকশা চূড়ান্ত করে।

পরে ভারতও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে এই প্রকল্পে যুক্ত হতে এবং অর্থায়নে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করে, যার ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।

২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় চীনের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এরপর বিএনপি সরকার পানি সংরক্ষণের ভাবনা যুক্ত করে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে যখন এই তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে বসা হয়েছিল, আমি সেই মিটিংয়ে ছিলাম।

“সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্নটা রেইজ করেছেন যে, আমরা পদ্মা ব্যারেজ যে করছি, সেখানে কিন্তু আমরা ওয়াটার রিটেইন করার চেষ্টা করছি, পানি জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি—বর্ষার পানি যাতে আমরা শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা হলেও পানি ব্যবহার করতে পারি। এটা ঠিক টিপিক্যাল জলবিদ্যুৎ যেরকম বাঁধ দিয়ে লেইক— ওরকম না, পানি আটকে রাখা, রিটেইন করা। সেই জিনিসটা তিস্তায় ছিল না।”

তবে তিস্তার পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা করা কঠিন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কারণ হচ্ছে তিস্তা অনেক খাড়া নদী, অনেক দ্রুত পানি চলে যায়।

“তার পরও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা একটা পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন যেটা চাইছেন, তিস্তা পরিকল্পনায় যে নদীর ক্ষেত্রে যে কথাটা বলা হয়েছিল ভাঙন রোধ তো আছেই, এতে এখন পানি সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবস্থা করা যায় কি না—সেই ব্যাপারে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “ফান্ডিং কি হবে না হবে, সেটা ওপেন এন্ডেড। আমি এটুকু নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশ তার স্বার্থের জন্য, স্বার্থের পক্ষে যায়—এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে।

“এই ফান্ড যার কাছ থেকে নিলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে, বা আমরা নিজেরা করলে সুবিধা হবে কি না—সে (বাংলাদেশ) তার মত করে সিদ্ধান্ত নেবে ইন্ডিপেন্ডেন্টলি। এটা একটা স্বাধীন সার্বভৌম সরকার, যে সরকার জনগণ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে তার সিদ্ধান্ত নেয়।”

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে বিধিনিষেধ ছিল তা বহাল থাকবে কি না, এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, “সেন্ট মার্টিনসের যে নিয়মটা ছিল, সেটা হচ্ছে—সারা বছর না একটা নির্দিষ্ট সময়ে, আমার জানামতে সেটা ঠিক আছে।

“মানে এটা এখনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে তারা যাবেন, আপনারা জানেন এই দ্বীপটার উপরে প্রচণ্ড চাপ পড়ছিল; এটার ইকোসিস্টেম রক্ষা করা, এটার অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য এটা জরুরি ছিল।”