দেশে বাড়ছে কফির উৎপাদন, চাষবাস ও বাজারজাতকরণে বড় সংকট
মান যাচাই ছাড়া চারা আমদানি, সেচের অভাব, রোগবালাই, পোকার আক্রমণ, মাঠ তদারকি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নানা সমস্যার কারণে কফি চাষ ও উৎপাদনে পুরোপুরি সুফল মিলছে না।
এক যুগ আগে ভারতের ত্রিপুরা থেকে বীজ এনে বান্দরবানে কফি চাষ শুরু করেছিলে সি অং খুমি, পরে চিম্বুক পাহাড়ের একশর বেশি চাষিকে বিনামূল্যে বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কফি চাষে আগ্রহ তৈরি করেন।
শুরুতে চাষের উপায়, সেচ আর রোগবালাইসহ নানা জটিলতায় পড়েন সি অং। ধীরে ধীরে চাষবাসের প্রক্রিয়া আয়ত্ত করেন। প্রশিক্ষণ দেন অন্যদেরও।
সি অং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০১৪ সালে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে রোবাস্টার বীজ এনেছিলাম। তারপর অ্যারাবিকা এনেছি মিজোরাম থেকে। এভাবে আমি এখানে কফি চাষ শুরু করি।
“আমি যখন শুরু করি, তখন এলাকার কৃষকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। ২০১৬ সালে চিম্বুকে কৃষকদের বিনামূল্যে চারা বিতরণ করি। ওই সময় ১১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এখন তারা নিজেরা নার্সারি করে নিজেদের ভূমিতে লাগাচ্ছে।”
একযুগের ব্যবধানে দেশে কফি আমদানি বেড়েছে ছয়গুণ। সেইসঙ্গে বছর পাঁচেকের ব্যবধানে দেশে কফির উৎপাদনও বেড়েছে। পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলেও কফির চাষ শুরু হয়েছে। তবে মান যাচাই ছাড়া চারা আমদানি, সেচের অভাব, রোগবালাই, পোকার আক্রমণ আর মাঠ তদারকি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নানা সমস্যার কারণে চাষ ও উৎপাদনে পুরোপুরি সুফল মিলছে না।
কেমন হচ্ছে উৎপাদন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ২০১২ সালে কফি আমদানি হয়েছিল ২৬৪ টন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ টনে। অর্থাৎ এক যুগে কফি আমদানি বেড়েছে ৬ গুণ।
৪০টি দেশ থেকে কফি আমদানি করা হলেও বড় অংশ আসে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম থেকে।
চাহিদা বাড়ায় কফি চাষ সম্প্রসারণে ২০২১-২০২৫ মেয়াদে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প নেয় সরকার। লক্ষ্য ছিল কাজুবাদাম ও কফির উৎপাদন ৫০ শতাংশ বাড়ানো এবং এখন চাষ হওয়া ২ হাজার হেক্টর এলাকাকে ৬ হাজার হেক্টরে উন্নীত করা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২১ সালে দেশে ১২০ হেক্টর জমিতে ৩৫ টন (প্রক্রিয়াজাত গুঁড়া) কফি উৎপাদন হয়েছিল। ২০২৫ সালে আবাদি জমি বেড়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়। প্রক্রিয়াজাত গুড়া কফির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ টনে।
দেশের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে কফির চাষ বেশি হচ্ছে বান্দরবানে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৩৬ হেক্টর জমিতে ৪১ টন কফি উৎপাদন হয়েছিল। পরের অর্থবছরে ৪৯৩ দশমিক ৬১ হেক্টরে উৎপাদন হয় ৫৪ দশমিক ৭৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৪৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়, কাঁচা চেরির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ দশমিক ৬ টনে।
বর্তমানে খাগড়াছড়িতে ১৭৯ হেক্টর জমিতে কফি চাষ এবং ১ হাজার ৯৪টি ছোট-বড় কফি বাগান রয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে কফি উৎপাদন ১ হাজার ৫০০ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার, যার বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি বাজার তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সমতলের চিত্র
পার্বত্য জেলাগুলোর বাইরে বেশ কয়েকটি জেলাতেও কফির চাষ হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, সেখানে ১২০ জন কৃষক ৩৫ হেক্টর জমিতে কফির চাষ করছেন।
সিলেট জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ শুরু হয় ২০২১ সালে। সেখানে অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা জাতের কফি চাষ হচ্ছে। গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার ২০ হেক্টরের বেশি জমিতে কফি চাষ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রংপুর, নীলফামারী ও শেরপুরকে কফি চাষের সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে কৃষি অধিদপ্তর।
চাষবাসসহ নানা সংকট
উৎপাদন বাড়াতে সরকারের আগ্রহ আর উদ্যোগ থাকলেও মাঠে নানামুখী সংকটে রয়েছেন কফি চাষিরা। সেচ, রোগবালাই, পোকার আক্রমণের সঙ্গে যন্ত্রপাতির অভাব আর বাজার ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় দাম পাচ্ছেন না তারা।
বান্দরবানের চাষি সি অং খুমির ৬ একর জমিতে সাড়ে ৩ হাজার কফি গাছ রয়েছে। তিনি এখন নতুন চাষিদের প্রশিক্ষণ দেন।
চাষাবাদের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “পানির সমস্যার কারণে গ্রীষ্মকালে চারা মারা যায়। তাপ বেশি হওয়ায় রোপণের এক-দুই বছর পরে চারা মারা যায়। বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ হচ্ছে। মিলিবাগ, ডাইব্যাক ও রুট রট বা শিকড় ও গোড়া পচা রোগ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যারাবিকায় পোকার আক্রমণ বেশি। পোকা দমনের ঔষধগুলো এখনও নেই বোধহয়।
“রোবাস্টার কফিতে ‘হাই ইরিগেশন’ প্রয়োজন হয় না। তাই অ্যারাবিকার চেয়ে এটা বেশি উপযোগী। তবে দুইটাই হয় পাহাড়ে।”
বান্দরবান সদর থেকে ৯ কিলোমিটার ভেতরে চিম্বুক রোডের পাশে রয়েছে ম্রোলং পাড়া, নোয়া পাড়া ও বসন্ত পাড়া। এই তিন পাড়ায় ১৫ থেকে ২০ পরিবার কফি চাষের সঙ্গে যুক্ত। সি অং খুমির কাছে থেকেই চারা নিয়ে ম্রোলং পাড়ায় কফি চাষ শুরু করেন পারিং ম্রো।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০১৬ সালে সিং অং দাদা চারা দিয়েছিল। শুরুতে অনেকে গুরুত্ব দেয়নি, আমরা তিন-চারজন গুরুত্ব দিয়ে চাষ শুরু করে এখন ফলন পাচ্ছি।
“আমি কফি চাষ করেছি আমগাছ ও সুপারি গাছের নিচে। এখন ৬ হাজার চারা আছে। গত বছর প্রায় দুই থেকে আড়াই মণের মত কফি পাইছি। এই বছর ফলন আগের চেয়ে বেশি হতে পারে, তিন থেকে চার মণের মত কফি পাব বলে আশা করছি।”
তবে ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন বলে অভিযোগ পারিং ম্রোর।
তার কথায়, “ক্ষেত থেকে সরাসরি যে কাঁচা চেরি ফল তুলে আনা হয়, তা আমরা প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে বিক্রি করি। কাঁচা চেরির ওপরের চামড়া বা খোসা ছাড়িয়ে শুকিয়ে যে দানা পাওয়া যায়, তাকে বলে পার্চমেন্ট।
“চার কেজি কাঁচা চেরি শুকিয়ে প্রায় এক কেজি পার্চমেন্ট পাওয়া যায়। এক কেজি কাঁচা চেরি ২০০ টাকা হলে চার কেজি চেরির দাম দাঁড়ায় ৮০০ টাকা। তার ওপর আবার রোদে শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করাসহ অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সেই শুকনো পার্চমেন্ট আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। যদি এই পার্চমেন্টের দাম কেজি প্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হত, তবে আমাদের কষ্ট সার্থক হত।”
কফি চাষে কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরে পারিং বলেন, “অ্যারাবিকার কফির বাজারমূল্য বেশি হলেও চারা গাছে রোগবালাই বেশি হয়। আর রোবাস্টায় রোগ কম ও ফলন বেশি। ২০১৬ বা ২০১৮ সালে আমি যে চারাগুলো লাগাইছিলাম, তার মধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি চারা মারা গেছে। শুধু আমার না, আমাদের এলাকার সবারই কমবেশি এই সমস্যা হচ্ছে।
“কোন সময়ে কী কীটনাশক দিতে হবে, কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে এবং কখন ও কীভাবে ডাল ছাঁটাই করতে হবে—এসব ব্যাপারে আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।”
বিদ্যুৎ সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকারি মেশিনগুলো ঠিকমত চালানোর মত সোলারও নেই। সরকারের পাল্পিং মেশিনসহ শুকানোর মেশিন, পার্চমেন্ট মেশিন আছে। বিদ্যুতের অভাবে এগুলো ঠিকমত ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
“শক্তিশালী সোলার বসিয়ে দিলে আমরা উপকৃত হতাম। এখান থেকে গুঁড়ো করে আরো ভালো দাম পেতাম।”
একই সমস্যার কথা বলছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ির উপলছড়ির চাষি রুমেল মারমা। তিন একর জমিতে আমগাছের সঙ্গে কফি চাষ করছেন তিনি।
২০২১ সালে সরকারি সহায়তায় কফি চাষ শুরু করা রুমেল বলেন, “গ্রীষ্মকালে গরমের কারণে সেচের সংকট হয়। গভীর নলকূপ বসিয়ে সোলার দিয়ে চালানো গেলে এই সমস্যা কিছুটা মিটত।”
সরকারের ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ নিয়ে সম্প্রতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। সেই মূল্যায়নে কফি চাষে সেচ সংকটের কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কফি গাছে প্রত্যাশিত ফলন পেতে সেচ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় সৌর পাম্প ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো দরকার। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মিলিবাগের আক্রমণ দেখা গেছে। ডাইব্যাক রোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও শিকড় পচা রোগও হচ্ছে।
রোগ ও পোকা দমনের জ্ঞান সীমিত কৃষকদের। মিলিবাগ ও ডাইব্যাকের মত সমস্যার ভৌত ও রাসায়নিক দমন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। এ জন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা চালুর সুপারিশসহ কৃষকদের এ বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলা হয়, আমদানি করা বীজ ও চারা গবেষণাগারে পরীক্ষা না করেই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বিরূপ কৃষি পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে রোগ-পোকা আক্রমণ এবং কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কার্যক্রম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় পাহাড়ধস ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকিও রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, “এটা ছিল আমাদের প্রথম প্রকল্প। অভিজ্ঞতা ছিল না। বাইরে থেকে চারা আনতে হয়েছে। এতে একটু সমস্যা হয়েছে। প্রথমে একটু ত্রুটি থাকবেই।
“পরে দেশের উপযোগী পরিবেশের সঙ্গে মাননসই চারা উৎপাদন করেছি। ২০২৩ সালে ও ২০২৫ সালে গবেষণা করে বারি দুটি জাত বারি কফি-১ (রোবাস্টা) ও বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা) উদ্ভাবন করেছি। এগুলো ব্যবহার করলেই ফলনটা নিশ্চিত হবে। রোগ-বালাই কমবে।”
নতুন উদ্যোক্তদের এ দুই জাত ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো উদ্যোক্তা যদি এই চাষে আসে, অনেক বেশি উৎপাদন করতে চায়, আমাদের কাছে আসলে দেশের পরিবেশ উপযোগী চারা উৎপাদন করে তাদের সরবরাহ করব। আমরা সুপারিশ করব দেশীয় জাত যেন ব্যবহার করে। ফলন ভালো হচ্ছে।”
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পোকা আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি হয়েছে। কৃষকরা যোগাযোগ করলে আমরা তাদের বইটা দিব। পোকা ও রোগের ধরণ অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করলে সহজেই মুক্তি পাওয়া যাবে।”
পাহাড়ে সম্ভাবনা বেশি
‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আবহাওয়া, উচ্চতা, মাটির গঠন ও বৃষ্টিপাত কফি চাষের জন্য উপযোগী। অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা দুই ধরনের কফি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলাতেই বারি অ্যারাবিকা ভালো ফলন দিচ্ছে। খাগড়াছড়িতে বারি রোবাস্টা জাতও ভালো করছে।
“পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের সম্ভাবনা সমতল এলাকার তুলনায় বেশি। আম, আনারস, কলা, কচু ও সজনে প্রভৃতির সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবেও চাষ করা যায় বলে কফি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের মধ্যে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা জাতের চারা বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।”
কফি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। রোপণের তিন বছর পর ফল দেওয়া শুরু করে।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, একটি গাছ লাগালে তিন বছর বয়স থেকেই ফলন দেওয়া শুরু হয়। এটি বহুবছরজীবী গাছ। একবার লাগালে প্রায় ১৮ থেকে ২০ পর্যন্ত ফল পাবেন কৃষকরা।
প্রতিবেদনেও বলা হয়, কফি ও কাজুবাদামের মত ফসলের পূর্ণ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক ফলাফল মূল্যায়নের জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। এ জন্য ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে মূল্যায়নে।
লাভ হচ্ছে?
দেশে কফির চাষ বাড়ছে। কিন্তু চাষের পর কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে, সে বিষয়ে অনেকের জ্ঞান সীমিত।
বান্দরবানে কফি প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় নিয়ে আসেন সিং অং।
দাম নিয়ে তিনি বলেন, “দানাটা কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। বান্দারবানে প্রসেস করার ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় প্রসেস করে গুড়া করি। সেগুলো আমি বিক্রি করি প্রতি কেজি ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। মাঝেমধ্যে ৪ হাজার টাকাও উঠে। কিন্তু এখানের সবাই ঢাকায় নিয়ে যেতে পারে না।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, “কিছু এলাকায় তাজা কফি বেরি প্রতি কেজি ১২০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুকনো কফি প্রায় ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কফি চেরি প্রক্রিয়াজাত করে সবুজ কফি বিনের দাম প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।
“আবার কিছু কৃষক ব্র্যান্ড তৈরি করে আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন। মধুপুরের কিছু কৃষক কফি পাল্প ও শুকনো কফি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে প্রতিকেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।”
‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, “উৎপাদন শুরু হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো এখনো পর্যাপ্ত নয়। কৃষকরা কাঁচা বা প্রাথমিক পর্যায়ের পণ্য বিক্রি করলেও কম দাম পাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজিত কফির দাম অনেক বেশি।
“কফি উত্তোলনের কাজ শুরু হলেও পাল্পিং মেশিন, শুকানোর মেশিন, পার্চমেন্ট মেশিন, রিমুভার, রোস্টার ও গ্রাইন্ডিংয়ের মত যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। কফি এখনো অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সংগ্রহ কেন্দ্র না থাকায় কৃষকরা সঠিক বাজারমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কফির পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি নিয়ে মাঠপর্যায়ে আরও পরীক্ষা ও গবেষণা প্রয়োজন। স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
অনুন্নত যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে বারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
