০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন’: কেএনএফ প্রধানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম নগরীর একটি গুদাম ও একটি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে গেল বছর কেএনএফের পোশাক উদ্ধার করা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 05:01 PM

Updated : 08 Oct 2026, 05:01 PM

পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের’ অভিযোগে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সিআইডির দাবি, অনুসন্ধানে কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্মের কাপড় ও সেলাইয়ের কাজ বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তারা।

কেএনএফ প্রধান নাথান বম বাদে অন্য আসামিরা হলেন- রাঙামাটির মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), চট্টগ্রামের নিয়াজ হায়দার (৩৯), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), তৌহিদুল ইসলাম (৩৮), চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোলাম আজম (৪৭) ও লালমনিরহাটের মতিউর রহমান (৪৩)।

বুধবার সিআইডির তরফে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি (নম্বর- ১৩) করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সিআইডি বলছে, গেল বছরের ১৮ মে রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় কেএনএফের পোশাক প্রস্তুতের জড়িত একজনকে আটক করে পুলিশ।

পরে তার দেওয়া তথ্যে হালিশহরের ছোটপুল এলাকা থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যে একটি গুদাম ও একটি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে কেএনএফের মোট ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ পোশাক উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। পরে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে সিআইডি বলছে, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা ওরফে মং প্রথমে নিয়াজ হায়দারের সঙ্গে এবং পরবর্তীতে নিয়াজ হায়দারের মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর তারা ‘ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের’ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের পোশাকের ‘ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের’ কাপড় তৈরির ব্যবস্থা করেন।

মংহলাসিন মারমা নিজেকে ‘এম এন্টারপ্রাইজের’ সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি ক্রয়াদেশ দাখিল করেন। এসব কাজের বিপরীতে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে মোট ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল।

কেএনএফের ৪০ হাজার সেট পোশাকের মধ্যে প্যান্ট ও শার্ট সেলাইয়ের জন্য মংহলাসিন মারমার নির্দেশনায় নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজম তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ‘রিংভো অ্যাপারেলস’, ‘এনএন ফ্যাশন’ ও ‘নূর ফ্যাশনের’ সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে কুকি-চিনের ৪০ হাজার সেট পোশাক তৈরির কাজ বাবদ ‘ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের’ অনুকূলে দুটি ক্রয়াদেশ দাখিল করে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং পোশাক সেলাই বাবদ ‘রিংভো অ্যাপারেলস’, ‘এনএন ফ্যাশন’ ও ‘নূর ফ্যাশনকে’ ৭২ লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথাও বলেছে সিআইডি।

অনুসন্ধানে কেএনএফের পোশাক তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় অর্থের একটি সুস্পষ্ট প্রবাহ শনাক্ত করার দাবি করে সিআইডি বলছে, কেএনএফের প্রতিনিধি মংহলাসিন মারমার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদ অর্থ ব্যবহার করে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা কাপড় তৈরির জন্য এবং ৭২ লাখ টাকা পোশাক সেলাইয়ের জন্য দেওয়া হয়।

পারস্পরিক যোগসাজশে কেএনএফের পোশাক তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়নের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ তারা মামলাটি করেছে বলে সিআইডির তরফে বলা হয়েছে।

এ আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিট।