সাত মামলায় জামিনের পর ফের গ্রেপ্তার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল
হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকার পল্টন মডেল থানার এক হত্যাচেষ্টার মামলায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।
হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে পল্টন মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
একে একে হেলালকে ৭ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে সবগুলো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান। ফলে হেলাল উদ্দিন কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
হত্যাচেষ্টা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই আবু সালেহ গত ১৪ সেপ্টেম্বর হেলালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন রাখেন। এ দিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, “হেলাল উদ্দিন মিয়াজী ইতিমধ্যে সাত মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। অথচ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া যাতে তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করা হয় এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট রুলসহ নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আদালত আইনগত কোনো বিষয় আমলে না নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।”
২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল মুশফিকুর রহমান আবির নামে এক বিএনপি কর্মী পল্টন থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নয়াপল্টন স্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠতে থাকে এবং সেখানে আবির যোগ দেন। সমাবেশকে পণ্ড করতে ওইদিন হঠাৎ হামলা শুরু করে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা।
আবির সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কলাবাগানে নিজ বাসায় ফিরে যান তিনি। তার একদিন পরেই স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বোচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসীরা বাদীর বাসায় ভাঙচুর, লুটপাট করে এবং অসুস্থাবস্থাতেই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে আবির জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর বাদী নিজেকে কলাবাগান থানা হাজতে দেখতে পান।
সেদিন রাতেই আবিরের বাবার সঙ্গে তখনকার ওসি কথা বলেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পরের দিন পুলিশ তাকে আদালতে নেওয়ার পর রিমান্ডে চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২২ দিন অসুস্থাবস্থায় জেল খেটে জামিন পান আবির।
