০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সান ফ্রান্সিসকোতে যাওয়ার কথা ‘কখনোই ছিল না’: শামা ওবায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভিন্ন রকম সাড়া পাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 09:14 PM

Updated : 04 Oct 2026, 09:14 PM

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকই কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সূচিতে থাকার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

নিউ ইয়র্ক সফর শেষ করে সরকারপ্রধানের সান ফ্রান্সিসকো যাওয়া নিয়ে ‘গুঞ্জনের’ বিষয়ে এক প্রশ্নে রোববার তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। সুতরাং আমি একটাই কথা বলব, গুজবে কান দেওয়া ঠিক না।”

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস, সিলিকন ভ্যালি এবং সান ফ্রান্সিসকোতে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রতিনিধিদলের সিরিজ বৈঠক নিয়ে রোববার ব্রিফিংয়ে আসেন প্রতিনিমন্ত্রী।

সেখানে গুগল, অ্যাপল, মেটা, সিসকো, এনভিডিয়া এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি পেশাদারদের সঙ্গে বৈঠক হয় প্রতিনিধিদলের।

লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে নিউ ইয়র্কে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল ক্যাপলানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সেখানে বাংলাদেশে অফিস খুলতে মেটাকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

রোববারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সান ফ্রান্সিসকোতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এফবিআইয়ের মামলা বা আমেরিকার ভিসাজনিত কিছু জটিলতার কারণে তিনি জাতিসংঘ সফরের বাইরে যেতে পারেননি। এই গুঞ্জনের সত্যতা কতটুকু?”

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এজন্যই এখানে মেটার অফিস খোলার দরকার! গুঞ্জনে কান দেওয়া ঠিক না, গুজবে কান দেওয়া ঠিক না, আমার সামনে আপনারা এতজন মিডিয়াকর্মী আছেন, আপনারা সত্য যাচাই করে নিউজটা করবেন। এটাই আমরা আশা করি।”

শামা ওবায়েদ বলেন, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন, মালয়েশিয়া এবং জাতিসংঘের সফরে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো লোক সাথে নেননি’। নিউ ইয়র্ক সফরে যতদিন থাকার দরকার ছিল, কেবল ততদিন থেকেছেন।

“উনি জাতিসংঘে গেছেন, অবশ্যই একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। সেখানে উনি ভাষণ দিয়েছেন। যেসব দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক করার প্রয়োজন ছিল, তা সেরে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। উনার কখনোই সান ফ্রান্সিসকোতে বা বে-এরিয়াতে যাওয়ার কথা ছিল না।”

লস অ্যাঞ্জেলেস সফরে যাদেরকে পাঠালে সম্পৃক্ততা বাড়বে কেবল তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “উনি সবসময় চেয়েছিলেন যে, একটা প্রতিনিধিদল যাক। আপনারা দেখবেন, উনি তাদেরকেই পাঠিয়েছেন, যারা ওখানে ভালোমত সম্পৃক্ত হতে পারবেন।

“আইসিটি উপদেষ্টা, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন এবং আমি গিয়েছিলাম। যারা প্র্যাক্টিক্যালি কাজগুলো করে আসতে পারবে, বাংলাদেশের জন্য কিছু করে আসতে পারবে, তাদেরকে পাঠিয়েছেন। এবং উনি সবসময় সেটাই চেয়েছেন।”

লস অ্যাঞ্জেলেসে কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইওদের সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।”

প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভিন্ন রকম সাড়া পাওয়ার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা, সবাই একবাক্যে বলেছেন যে, ‘এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো সরকার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়ে এত বিস্তারিতভাবে তাদের সাথে আলোচনা ও যোগাযোগ করেছে’।

“বিগত দিনের সরকারগুলো তথাকথিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর নামে সিলিকন ভ্যালিতে গেছে, সরকারি খরচে বড় বড় খানাপিনা দিয়েছে, কিন্তু পরের দিন ভুলে গেছে। আলোচনার আলোকে কাজগুলো নিয়ে অগ্রসর হয়নি। সেই জায়গা থেকে তারা এখন অত্যন্ত আশাবাদী যে, আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেই পদক্ষেপগুলো খুবই ইতিবাচক।”

‘ভারতেরও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে’

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, দুদেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তিতে এমন ‘ক্লজ’ ছিল, রাজনৈতিক চরিত্রের হলে, কারও জীবনের ঝুঁকি থাকে, সেক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ না করতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন কি-না?

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা বলেন, “এই ক্লজ সব জায়গায় যুক্ত থাকে। এটা সকল প্রত্যর্পণ চুক্তির একটা সাধারণ ধারা। এটা নতুন কোনো ধারা ভারতের সাথে না, এটা সব জায়গায় থাকে।

“এখানে বাংলাদেশের মাটিতে আইন আছে, কানুন আছে, এখানে আদালত আছে, যে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তো, তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে, আসামির কী হবে। যারা সাজাপ্রাপ্ত তাদের কী হবে, সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমাদের যেটা কাজ, দুদেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে, আমাদের আছে, তাদেরও থাকতে হবে।”

আরেক সাংবাদিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, শনিবার বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার বলেছেন যে, ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং এটি একটি আইনি বিষয়, প্রত্যর্পণের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তার মন্তব্য কী?

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই এটা আদালতের বিষয়, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছারও একটা ব্যাপার আছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছাও অবশ্যই সেখানে থাকতে হবে।

“আমরা অবশ্যই চাই যে, প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া যেটা চলছে, আসামিদেরকে ফেরত আনার, সেটা আরও দ্রুত যাতে হয়, সেটাতে ভারত মনোনিবেশ করবে।”