“হঠাৎ করে অজ্ঞাত কারণে তিনি ওই কেন্দ্রে এসেছেন। কেন্দ্রে আসার কথা আমরা জানতাম না বা জানান হয়নি। জানলে নিরাপত্তা...।“
Published : 22 Jul 2023, 05:35 PM
ঢাকা-১৭ আসনের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে নিরাপত্তা দিতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকার পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, ওই প্রার্থী যে দ্বিতীয়বার এই কেন্দ্রে গেছেন, সেটি তাদের জানা ছিল না।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “প্রার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের এবং আমরা সক্ষম ছিলাম। হিরো আলম যখন সকালে ওই কেন্দ্রে ঘুরে গেছেন তখন তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে তিনি ওই কেন্দ্রে এসেছেন পুলিশকে না জানিয়ে।
“হঠাৎ করে অজ্ঞাত কারণে তিনি ওই কেন্দ্রে এসেছেন। কেন্দ্রে আসার কথা আমরা জানতাম না বা জানান হয়নি। জানলে নিরাপত্তা…।“
গত ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনে ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের পরিস্থিতি দেখছিলেন হিরো আলম। ভোটগ্রহণের শেষ দিকে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি হামলার শিকার হন।
ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দিতে স্কুলের মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে সেলফি তোলেন হিরো আলম। তখন নৌকার ব্যাজধারী কয়েকজন এসে তাকে ঘিরে ধরেন এবং বলেন, ‘এটা টিকটক ভিডিও বানানোর জায়গা না’। এরপর হিরো আলমকে ধাওয়া শুরু করেন।
তখন কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে ধরে স্কুলের গেইটের বাইরে দিয়ে আসেন। এরপর হিরো আলমকে সড়কে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি আলোচনার জন্ম দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়েও হিরো আলমকে মারধরের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস টুইট করে উদ্বেগ জানান। বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানায় ঢাকায় ১২টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলের বৈঠকেও এ ঘটনা আলোচনায় আসে।
ওই ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে চারজন বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্বাচনের দিন তিন ভাগে পুলিশের দায়িত্ব ভাগ করা থাকে। কেন্দ্রের ভেতরে একটি দল ব্যালট বাক্স পাহারা দেয় এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে। বাইরে মোবাইল ডিউটিতে যারা থাকেন, তারা দেখেন কেউ (কোন ভোটার) বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন কিনা, মারামারি হচ্ছে কিনা।
“আর ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ যেটা থাকবে, তারা কেন্দ্রের বাইরে বা ভেতরে যে টিম আছে, তারা কোনো কিছু সামাল দিতে না পারলে তখন এই ফোর্সের সদস্যরা সেখানে যাবেন।”
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “হিরো আলমের ঘটনাটা, ওই কেন্দ্রে যখন সমস্যা হচ্ছিল, কেন্দ্রের পুলিশ তাকে বের করে দিয়েছে। বাইরে কী পরিস্থিতি ছিল, খুব সম্ভব সে (পুলিশ কর্মকর্তা) জানত না বাইরে কী অবস্থা। সে ভেতরেরটা দেখেছে। বাইরে পরিস্থিতি তার হয়ত ওভাবে জানা ছিল না। তারপরেও আমরা তদন্ত করে দেখছি আসলে তার বাইরের পরিস্থিতি জানা ছিল কি না।”
এ উপ নির্বাচনের আগে খন্দকার গোলাম ফারুক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ভোটের মাঠে পুলিশের নিরপেক্ষতার প্রমাণ না পেলে তিনি নাকে খত দিয়ে চলে যাবেন। হিরো আলমের ঘটনার পর সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে ডিএমপি কমিশনারের সমালোচনা করে বিএনপি।
শনিবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই চ্যালেঞ্জ আমারও আছে, ভোট সুষ্ঠু হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি ভোট সুষ্ঠ করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যতরকম সহায়তা করা প্রয়োজন তা করব।
“ঢাকা ১৭ আসনে ভোট কারচুপি হয়নি, যেটা হয়েছে হিরো আলম কেন্দ্রের বাইরে দুষ্কৃতকারী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা মামলা নিয়েছি, গ্রেপ্তার করেছি আদালতে সোপর্দ করেছি। কিন্তু ভোটে কোনো বাক্স ছিনতাই হয়নি, জাল ভোট হয়নি, এজেন্টদের মারধর হয়নি। একটিও কেন্দ্রেও দেখানো যাবে না যেখানে অনিয়ম হয়েছে।”
এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে পল্টনে পলওয়েল মার্কেটে মরিচের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন পুলিশ কমিশনার।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মরিচের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন।