স্বাস্থ্য কার্ড চালু, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জাতিসংঘে বললেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন।
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম- এমন নীতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রূপান্তরে তার সরকার কাজ করছে বলে জাতিসংঘের এক বৈঠকে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকালে ‘অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীসেবার (মিডওয়াইফারি) সমন্বয়’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘আমার সরকার একটি সহজ নীতিকে সামনে রেখে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাচ্ছে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আমরা একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে স্বাস্থ্য সেবার শুরু হবে পরিবার ও কমিউনিটি থেকে।
‘‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তিতে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যেখানে নারী ও শিশুরা বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আমরা আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার ৮০% হবেন নারী। তারা পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করবেন। শুরুতেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি শনাক্ত করবেন এবং সময়মতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবার একজন পেশাজীবীর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তিনি হলেন মিডওয়াইফ। একজন পেশাদার মিউওয়াইফ শুধু দক্ষ প্রসবসেবা প্রদানকারী নন, গর্ভধারণের পূর্বপর্যায় থেকে শুরু করে প্রসব পরবর্তী সময় পর্যন্ত তিনি একজন নারীর আস্থাভাজন স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে উঠতে পারেন।
‘‘আমার সরকার সারাদেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আমরা চাই তারা বহুমুখী ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা দলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠুক।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭ এ আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ধাত্রীসেবার কার্যকর সমন্বয় এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা গড়ে তুলেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটা হেলথ কার্ড থাকবে, যা একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং ইলেক্ট্রিনিক রেফারেন্স ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
‘‘বাংলাদেশে একজন গ্রামীণ নারীর কথা ভাবুন। তার স্বাস্থ্যসেবার তথ্য বাড়ির কাছাকাছি কোনো কেন্দ্রে নিবন্ধিত হবে, তার চিকিৎসা–সাক্ষাতের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং তার স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো নথিভুক্ত করা হবে। তাকে যদি উচ্চতর কোনো হাসপাতালে পাঠানো হয় তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্যও যাবে।”
তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিবর্তনে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘‘আপনাদের সামনে একটি লক্ষ্য তুলে ধরতে চাই তা হল প্রত্যেক নারী যেন তার বসবাসের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।
“বাংলাদেশের লক্ষ্য হল দেশব্যাপী মিডওয়াইফ নিয়োগ ও সেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও একটি আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সংযুক্ত করা।”
সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এসব পদক্ষেপ সহায়তা করবে বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এভাবেই প্রতিশ্রুতি থেকে কার্য্কর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাব।”
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার অংশ নেন।
