শিশুকে যৌন নিপীড়ন: প্রতিবেশীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
দণ্ডিত কামরুল পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আট বছর আগে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে খাবার খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় প্রতিবেশী কামরুলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
শনিবার এ রায় ঘোসণা করেন ঢাকার চতুর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম (জর্জ) বলেন, “দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি এরশাদ আলম।
কামরুল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের নতুন বাক্তারচরের মৃত সিরাজের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের নতুন বাক্তারচরে মা ও ভাইয়ের সাথে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে শিশুটি। ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খেলা করছিল শিশুটি। মজার খাবার খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান প্রতিবেশী কামরুল। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন করা হয়।
ভয়ে শিশুটি চিৎকার করে ওঠে। তখন তার মা, নানা-নানি দৌড়ে কামরুলের ঘরের কাছে যায়। দরজা খুলতে বললেও খোলে না। পরে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। লোকজন কামরুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরদিন শিশুটির মা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১ মে কামরুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ওই থানার এসআই মোজাম্মেল হক। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১০ সাক্ষীর মধ্যে নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।
