২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় ‘প্ররোচনা’: এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রথম দফা চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়।

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় ‘প্ররোচনা’: এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

ফাইল ছবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 05:13 PM

Updated : 24 Sep 2026, 06:18 PM

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আবার চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।

চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রোববার গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুলকে ৪ দিন ও মাকছুদাকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন।

এ মামলায় এমপি নজরুলকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী অভিমান করে আত্মহত্যা করেন এবং পারিবারিকভাবে বিভিন্ন প্রকার ঝামেলার দরুন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তদন্তকালে জানা যায়। কিন্তু মামলাটি একটি ‘চাঞ্চল্যকর’ মামলা এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে আরও বিস্তারিতভাবে ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “মামলার ঘটনার উৎপত্তি আরও কয়েক মাস আগে। মরিয়মের বয়স ১৯ বছর। তাকে নিয়ে আসামির কয়েকটি আপত্তিকর ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। তখন তিনি মরিয়মকে স্ত্রী দাবি করেন। তবে কাবিননামা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়।”

প্রথম দফা রিমান্ডে গাজী নজরুলের কাছ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তবে তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরিপূর্ণ না। কয়েকটা চিরকুট পাওয়া গেছে। ওই চিরকুটগুলো ভুক্তভোগী লিখেছেন, না অন্য কেউ লিখেছেন। আর ঘটনাটা আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।

এমপি নজরুলের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, “তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। চার বারের সাবেক সংসদ সদস্য। মামলাটা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা। তাকে ইতোপূর্বে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডের অগ্রগতি কি? ঘটনা ঘটেছে, মামলা হয়েছে, সুরতহাল হয়েছে। সবকিছু স্পষ্ট হয়ে গেছে কি ঘটেছিল।”

এ আইনজীবী বলেন, “মামলার আরেক আসামি ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তার রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আর যার স্ত্রী মারা গেছে তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে। একটা দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।”

শুনানি শেষে আদালত এমপি নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেয়।