২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নাশকতায় সম্পৃক্ত’ সন্দেহে গ্রেপ্তার সেই ভারতীয় আবার রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরার ১১ নং সেক্টর থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তিকে ডিবি আটক করে। পরে ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখান হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 04:48 PM

Updated : 27 Sep 2026, 05:02 PM

নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। এর আগেও তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

ডিবি পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন করে রিমান্ডের আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল।

উত্তরার ১১ নং সেক্টর থেকে গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ডিবি রবিউলকে আটক করে। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার রবিউলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে, বিচারক চার দিনের রিমান্ড দেন।

রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আবার আদালতে হাজির করে আরও ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনার টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি ভারতীয় নাগরিক এবং ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, তিনি তার পাসপোর্ট প্রদর্শন করে ভারতীয় নাগরিক বলে জানালেও পরবর্তীতে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং এনআইডি যাচাই করে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডির জন্ম তারিখের সাথে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের কোনো মিল নাই।

তিনি আগেও অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও আসা যাওয়ার সুনিদিষ্ট কোনো কারণ উপস্থাপন করতে পারেননি। একেক সময় একেক তথ্যসহ এলোমেলো তথ্য দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আসামি বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতামূলক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে মর্মে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পাওয়া তথ্য যাচাই করার জন্য পুনরায় সাতদিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ আসামির বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। নিষিদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এ আসামি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানতে পেরেছি, তিনি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আইবির সদস্য। গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য এসেছেন। তার সর্বোচ্চ রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়।

আসামিপক্ষ থেকে বলা হয়, একই বক্তব্য দিয়ে আগেও রবিউল ইসলামকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আবার সেই একই বক্তব্য দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করা যৌক্তিকতা দেখছি না। একই অজুহাত, বক্তব্য দিয়ে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। পাসপোর্টের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, এনআইডি কার্ডের যে ঝামেলা সেটা সংশোধনের আবেদন করা বলে জানানো হয়েছে।

উভয়পক্ষের কথা শুনে আদালত রবিউলের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার গৌড়িভোজ গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে।