১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা দেবে বিজিবি

পূজা উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা থাকার কথাও বলেন তিনি।

সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা দেবে বিজিবি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা কালী মন্দির পরির্দশন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 06:34 PM

Updated : 15 Oct 2026, 06:52 PM

দেশের সীমান্ত এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুর্গাপূজার সময়ে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

পাশাপাশি বিজিবি সদরদপ্তর এবং বাহিনীর ব্যাটালিয়ন ও রিজিয়ন সদরদপ্তরের কাছের এলাকার মণ্ডপেও দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন তিনি।

সীমান্ডের এমন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপ থাকার তথ্য দেন তিনি।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা কালী মন্দির পরির্দশন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিজিবিপ্রধান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপের দায়িত্ব বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করছে।

“এর মধ্যে বিজিবি যেই অংশটুকু করবে, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে যত ধরনের যত সংখ্যক পূজামন্ডপ আছে সবগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

তিনি বলেন, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে সবগুলো স্থানে ইতিমধ্যে সরেজমিনে গিয়ে প্রতিটি মণ্ডপের পূজা কমিটির সবার সঙ্গে বিজিবি কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছে, টহল দিচ্ছে।

“আমরা এই সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে, যা আমাদের বিওপি থেকে একটু দূরে সেখানে ১৮টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন করব এবং সার্বিকভাবে সীমান্তের এই পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা আমরা দেব।”

এর বাইরে বিজিবি সদরদপ্তর, ব্যাটালিয়ন ও আঞ্চলিক সদরদপ্তরগুলোর ‘নিকটতম দূরত্বের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যের’ পূজামণ্ডপের বিষয়ে তিনি বলেন, ওইসব এলাকায় যেসব পূজামণ্ডপ রয়েছে সেগুলোর নিরাপত্তাও পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান করব।

“তার জন্যই আমরা এই রমনা কালী মন্দির, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আমাদের এই কাছাকাছি অন্যান্য আরো যেসব পূজামন্ডপ আছে তার নিরাপত্তা আমরা দিয়ে থাকি। ওনাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে।"

তিনি বলেন, “এজন্যই প্রস্তুতির শেষ দিনে আমরা এই নিরাপত্তার বিষয়টুকু সরেজমিনে দেখতে এসেছি এবং বাকি চূড়ান্ত সমন্বয় পূজা কমিটির সাথে যেসব করা প্রয়োজন, সেটা আমরা নিশ্চিত করছি।"

পূজা উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা থাকার কথাও বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সুরক্ষা অ্যাপের’ মাধ্যমেও যেকোন ধরনের সমস্যায় পূজা কমিটি এবং সেখানে মোতায়নরত আনসার সদস্যরা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে বলে তুলে ধরেন তিনি।

“তাৎক্ষণিক দ্রুতগতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে নিরাপত্তার সাথে যেন এই যে উৎসবমুখর পরিবেশ, সেটা যেন বজায় থাকে এবং নিরাপত্তার সাথে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করা যায় সেই চেষ্টা আমাদের আছে এবং আমরা সেটা নিশ্চিত করব।"

মণ্ডপে থাকবে ২ লাখ আনসার সদস্য

দুর্গাপূজার সময় দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যের দায়িত্ব পালন করবে।

তারা ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিন এ দায়িত্ব পালন করবে বলে বাহিনীর তরফে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে দেশজুড়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম টহল দেবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।