নাইকো মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে বাদীকে জেরা
অবশিষ্ট জেরা এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন বিচারক।
নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মুহা. মাহবুবুল আলমকে জেরা করেছেন প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।
সোমবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে বাদীকে জেরা শুরু করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।
পরে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান অবশিষ্ট জেরা এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় খালেদা জিয়া এদিন আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া হাজিরা দেন।
জেরায় প্রশ্ন ছিল, এ মামলা যখন দায়ের করা হয়, তার আগে খালেদা জিয়াকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না। উত্তর আসে ‘করা হয়নি’।
আইনজীবী প্রশ্ন করেন, যখন নাইকো চুক্তি হয়, তখন বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছিল কিনা? উত্তর আসে, ‘জানা নেই’।
বাদী মাহবুবুল আলমকে জেরায় আরো কয়েকটি প্রশ্ন করা হয় বলে জানান খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া।
গত ১৯ মার্চ এ আদালত খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির অব্যাহতির আদালত নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এর মধ্যে দিয়ে জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা এ মামলার বিচার শুরু হয়।
২০০১-০৬ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া অপর আসামিরা হলেন- তৎকালীন মুখ্য সচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন পলাতক।
এছাড়া ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, একেএম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
